...|...|...

বিশ্ব

মারা গেলেন মাহাথির মোহাম্মদের ১০০ বছর বয়সী স্ত্রী সিতি হাসমাহ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২৬
Shares
মারা গেলেন মাহাথির মোহাম্মদের ১০০ বছর বয়সী স্ত্রী সিতি হাসমাহ

ছবি: সংগৃহীত

মালয়েশিয়ার দীর্ঘমেয়াদী প্রধানমন্ত্রী মাহাথির মোহাম্মদের সহধর্মিণী ও বিশিষ্ট জনহিতৈষী ব্যক্তিত্ব তুন ডা. সিতি হাসমাহ মোহাম্মদ আলী শতবর্ষ বয়সে ইন্তেকাল করেছেন।

সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দেশটির প্রবীণ নেতার কার্যালয়ের বরাত দিয়ে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ‘বেরনামা’ এই সংবাদ জানিয়েছে।

দম্পতির ছেলে মোখজানি মাহাথিরের বরাত দিয়ে বারনামা জানিয়েছে, ১০০ বছর বয়সী সিতি হাসমাহ ন্যাশনাল হার্ট ইনস্টিটিউটে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তবে তার মৃত্যুর বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।

গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, মালয়েশিয়াকে আধুনিক রূপ দেওয়ার প্রধান কারিগর হিসেবে পরিচিত ১০১ বছর বয়সী মাহাথির মোহাম্মদ দেশটির ইতিহাসে সবচেয়ে দীর্ঘ সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছেন। তিনি দুই দফায় মোট দুই দশকেরও বেশি সময় ধরে প্রধানমন্ত্রীর পদে আসীন ছিলেন। প্রথম দফায় ১৯৮১ থেকে ২০০৩ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ মেয়াদে তিনি দেশ পরিচালনা করেন এবং এই সময়ে মালয়েশিয়া দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক ‘টাইগার’-এ পরিণত হয়।

পরবর্তীতে বার্ধক্য ভেঙে অবসরে থাকা মাহাথির রাজনীতির মাঠে ফিরে আসেন এবং বহু বিলিয়ন ডলারের ১এমডিবি আর্থিক কেলেঙ্কারিতে জড়িত তৎকালীন নেতা নাজিব রাজাককে ক্ষমতাচ্যুত করতে নেতৃত্ব দেন। এর জেরে ২০১৮ সালে তিনি দ্বিতীয়বারের মতো দেশের সবচেয়ে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রী হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণ করেন। তবে রাজনৈতিক কোন্দলের জেরে ২০২০ সালে তার জোট সরকার ভেঙে যাওয়ার পর তার দ্বিতীয় মেয়াদের শাসনকাল দুই বছরেরও কম সময়ে শেষ হয়।

সাত দশকের দাম্পত্য জীবন ও সামাজিক অবদান

১৯৪০-এর দশকের শেষের দিকে সিঙ্গাপুরের একটি মেডিকেল স্কুলে অধ্যয়নের সময় মাহাথির ও সিতি হাসমাহ একে অপরের পরিচিত হন। গত আগস্টে তারা তাদের দাম্পত্য জীবনের ৭০ বছর পূর্ণ করেছিলেন। এই দীর্ঘ জীবনে তারা সাত সন্তানের জনক-জননী হন; যাদের মধ্যে ব্যবসায়ী মোখজানি মাহাথির, সামাজিক কর্মী মারিনা মাহাথির এবং রাজনীতিবিদ মুখরিজ মাহাথির অন্যতম।

স্বয়ং নিজ গুণেই একজন অত্যন্ত জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব ছিলেন সিতি হাসমাহ। তার স্বামী মাহাথিরের স্বভাবসুলভ স্পষ্টভাষী ও কঠোর শৈলীর সম্পূর্ণ বিপরীতে তাঁর অমায়িক ব্যক্তিত্ব ও হাসিমুখের স্বভাব সবার মন জয় করেছিল। একজন রাজনৈতিক নেতার জীবনসঙ্গী হিসেবে তিনি জনস্বাস্থ্য, পরিবার পরিকল্পনা এবং বিভিন্ন সামাজিক কল্যাণমূলক আন্দোলনের পক্ষে সোচ্চার ভূমিকা পালন করেছিলেন।

মাহাথির মোহাম্মদ তার সাফল্যের পেছনে স্ত্রীকে সব সময়ই মূল শক্তি বা ‘মেরুদণ্ড’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। সেসময়ে জাতিগত মালয় নারীদের মধ্যে উচ্চশিক্ষা অর্জনের ঘটনা অত্যন্ত বিরল হলেও, সিতি হাসমাহর পড়াশোনার প্রতি দৃঢ় সংকল্প তাঁকে দারুণভাবে আকৃষ্ট করেছিল বলে মাহাথির বিভিন্ন সময় উল্লেখ করেছেন।

২০১৮ সালে সিএনএনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে মাহাথির বলেছিলেন, আমার মনে হয়, সেটাই তার চরিত্রের দৃঢ়তা ও শক্তির পরিচয় দেয়।