শিশুদের কানের জন্মগত ত্রুটি ‘মাইক্রোটিয়া’ (Microtia) এবং ‘অরাল অ্যাট্রেসিয়া’ (Aural Atresia) সম্পর্কে সঠিক তথ্য ছড়িয়ে দিতে ও সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে প্রতি বছরের মতো ৯ নভেম্বর বিশ্বজুড়ে পালিত হচ্ছে ‘মাইক্রোটিয়া সচেতনতা দিবস’। ‘৯’ (9) সংখ্যাটির আকৃতি অনেকটা মানুষের কানের মতো হওয়ায় প্রতীকীভাবে এই দিনটিকে বেছে নেওয়া হয়েছে।
মাইক্রোটিয়া কী?
চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায়, গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসের (ফার্স্ট ট্রাইমেস্টার) মধ্যে শিশুর বহিঃকর্ণ বা কানের বাইরের অংশ সঠিকভাবে গঠিত না হলে তাকে মাইক্রোটিয়া বলা হয়। লাতিন শব্দ থেকে আসা ‘মাইক্রোটিয়া’ অর্থ ‘ছোট কান’ বা ‘অনুপস্থিত কান’। অনেক ক্ষেত্রে এর সাথে কানের ভেতরের নালি বন্ধ বা অগঠিত থাকার সমস্যাও (অরাল অ্যাট্রেসিয়া) দেখা দেয়, যার ফলে শিশুটি শ্রবণশক্তি হারানোর ঝুঁকিতে পড়ে।
পরিসংখ্যান ও প্রভাব:
বিভিন্ন আন্তর্জাতিক স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্যমতে, প্রতি ৬,০০০ থেকে ৯,০০০ নবজাতকের মধ্যে ১ জন শিশু এই বিরল জন্মগত ত্রুটি নিয়ে জন্মায়। ছেলে শিশুদের মধ্যে এই প্রবণতা মেয়ে শিশুদের তুলনায় দ্বিগুণ এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রে ডান কানে এটি বেশি দেখা যায়। তবে প্রায় ৭ থেকে ২২ শতাংশ ক্ষেত্রে শিশুর দুটি কানই আক্রান্ত হতে পারে।
চিকিৎসা ও আধুনিক প্রযুক্তি:
বিশেষজ্ঞদের মতে, সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও আধুনিক প্রযুক্তির সহায়তায় মাইক্রোটিয়ায় আক্রান্ত শিশুরাও স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারে। বর্তমানে এই সমস্যার সমাধানে বেশ কিছু কার্যকর পদ্ধতি রয়েছে
• হিয়ারিং ডিভাইস: শিশুদের শ্রবণশক্তি ফিরিয়ে দিতে বিশেষ ধরনের বোন-অ্যাঙ্কর্ড হিয়ারিং ডিভাইস (BAHD) বা হিয়ারিং এইড ব্যবহার করা হয়।
• পুনর্গঠনমূলক সার্জারি: শিশুর বয়স একটু বাড়লে রিকনস্ট্রাকটিভ সার্জারির মাধ্যমে কৃত্রিম বা শরীরের নিজস্ব টিস্যু ব্যবহার করে কানের স্বাভাবিক আকৃতি তৈরি করা সম্ভব।
• থ্রি-ডি প্রিন্টিং ও বায়ো-ইয়ার: আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানে থ্রি-ডি প্রিন্টিং প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃত্রিম কান তৈরির গবেষণাও বেশ আশাব্যঞ্জক সাফল্য দেখাচ্ছে।
দিবসটির তাৎপর্য:
২০১৬ সালে Ear Community নামক একটি অলাভজনক সংস্থার উদ্যোগে দিবসটির আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু হয়। দিবসটি পালনের মূল লক্ষ্য হলো— আক্রান্ত শিশু ও তাদের পরিবারকে মানসিক সাহস জোগানো, স্কুলে বা সমাজে এই শিশুদের প্রতি বুলিং (বিদ্রূপ) বন্ধ করা এবং অভিভাবকদের মধ্যে চিকিৎসা বিষয়ক ভ্রান্ত ধারণা দূর করে সঠিক তথ্যের প্রসার ঘটানো।


