...|...|...

বিশ্ব

মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘টেলিস্কোপ’ পাঠাল নাসা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, দুপুর ২:৫২ | আপডেট: ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৫:৫৫
Shares
মহাবিশ্বের রহস্য উন্মোচনে ৪ বিলিয়ন ডলারের ‘টেলিস্কোপ’ পাঠাল নাসা

ছবি: সংগৃহীত

মহাপদার্থবিজ্ঞান ও ব্রহ্মাণ্ডতত্ত্বের সবচেয়ে বড় রহস্যগুলো ভেদ করার মিশনে ফ্লোরিডা থেকে মহাকাশে সফলভাবে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে নাসার নতুন ফ্ল্যাগশিপ অ্যাস্ট্রোনমিক্যাল অবজারভেটরি বা জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক পর্যবেক্ষণাগার ‘ন্যান্সি গ্রেস রোমান স্পেস টেলিস্কোপ’।

রবিবার (৩০ আগস্ট) প্রায় ৪ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে নির্মিত এই টেলিস্কোপটি নাসার কেনেডি স্পেস সেন্টার থেকে একটি স্পেসএক্স ফ্যালকন হেভি রকেটের মাধ্যমে মহাকাশে পাঠানো হয়েছে।

এই টেলিস্কোপটি ডার্ক এনার্জি (অন্ধকার শক্তি) ও ডার্ক ম্যাটার (অদৃশ্য বস্তু)-র মতো মহাজাগতিক রহস্যগুলো অনুসন্ধান করার পাশাপাশি বিশাল পরিসরে মাধ্যাকর্ষণ পরীক্ষা এবং সৌরজগতের বাইরের গ্রহ বা এক্সোপ্ল্যানেট নিয়ে গবেষণা করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।

উৎক্ষেপণের আগে আবহাওয়া নিয়ে কিছু শঙ্কা থাকলেও, পরিষ্কার নীল আকাশ ও কিছু বিক্ষিপ্ত মেঘ ভেদ করে রকেটটি টেলিস্কোপটিকে সফলভাবে মহাকাশে নিয়ে যায়।

রোমান টেলিস্কোপটি পৃথিবী থেকে প্রায় ১০ লাখ মাইল (১৬ লাখ কিলোমিটার) দূরে অবস্থিত ল্যাগ্রাঞ্জ পয়েন্ট ২ নামক কক্ষপথের দিকে যাত্রা করবে। এর প্রাথমিক মিশন পাঁচ বছরের জন্য পরিকল্পিত হলেও, মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা জানিয়েছে যে টেলিস্কোপটিতে অতিরিক্ত পাঁচ বছর চলার মতো পর্যাপ্ত জ্বালানি থাকতে পারে।

রোমান টেলিস্কোপটি ১৯৯০ সালে উৎক্ষেপিত হাবল স্পেস টেলিস্কোপ এবং ২০২১ সালে উৎক্ষেপিত জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপের মতো অন্যান্য কক্ষপথের পর্যবেক্ষণাগারগুলোর সক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে।

নাসার সায়েন্স মিশন ডিরেক্টরেটের প্রধান নিকোলা ফক্স সাংবাদিকদের বলেন, এটি এমন হবে যেন হাবল ও জেমস ওয়েব মহাকাশকে একটি ছোট ছিদ্র দিয়ে উঁকি দিয়ে দেখছিল, আর ন্যান্সি গ্রেস রোমান একেবারে দরজা ভেঙে প্রবেশ করবে।

নাসার গডার্ড স্পেস ফ্লাইট সেন্টারের রোমানের সিনিয়র প্রজেক্ট সায়েন্টিস্ট জুলি ম্যাকেনারি জুলাই মাসে এক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের জানান, হাবলের সাথে রোমানের সংবেদনশীলতা ও দেখার স্পষ্টতা প্রায় একই রকম, তবে আমরা অনেক দ্রুত আকাশ জরিপ করতে পারি।

ম্যাকেনারি জানান, রোমানের মাত্র এক মাসের পর্যবেক্ষণে আমাদের সম্পূর্ণ গ্যালাক্সি বা নিজ বাসভূমি আকাশগঙ্গা জরিপ করা সম্ভব।

তিনি বলেন, হাবল দিয়ে আমাদের মিল্কিওয়ে গ্যালাক্সি জরিপ করতে প্রায় এক শতাব্দী বা ১০০ বছর সময় লাগত।

ওয়াইড অ্যাঙ্গেল এবং জুম লেন্স জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ মহাবিশ্বের প্রারম্ভিক ইতিহাস সম্পর্কে নতুন এক ধারণা প্রদান করেছে; যার মাধ্যমে জানা গেছে যে আদিম গ্যালাক্সিগুলো পূর্বে যা ধারণা করা হয়েছিল তার চেয়ে অনেক দ্রুত গঠিত হয়েছিল এবং আকারে বড় ছিল। আলোর ভ্রমণ করতে যে সময় লাগে, তার ওপর ভিত্তি করে জেমস ওয়েব সুদূর দূরত্বে এবং সুদূর অতীতে তাকাতে সক্ষম।

এর বিপরীতে রোমান টেলিস্কোপ প্যানোরামিক বা বিস্তৃত দৃশ্য ধারণ করতে সক্ষম। নাসা রোমানকে ক্যামেরার ওয়াইড-অ্যাঙ্গেল লেন্স এবং ওয়েবকে জুম লেন্সের সাথে তুলনা করেছে।

ম্যাকেনারি বলেন, ওয়েব মহাবিশ্বের গভীরে এবং অত্যন্ত সূক্ষ্ম সংবেদনশীলতার সাথে অনুসন্ধান করার জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, যাতে আমরা আদি মহাবিশ্বের দুর্লভ জিনিসগুলো খুঁজে পেতে পারি।

অন্যদিকে রোমান বিশাল দৃশ্যপট প্রদান করে, যা ওয়েবের গভীর দৃষ্টিকে পরিপূরক করে তোলে।