...|...|...

বিশ্ব

চাঁদে ২২২ মিটার বিশাল গর্ত আবিষ্কার করল নাসা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৭:১০ | আপডেট: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:২২
Shares
চাঁদে ২২২ মিটার বিশাল গর্ত আবিষ্কার করল নাসা

ছবি: সংগৃহীত

চাঁদের পৃষ্ঠে ২২২ মিটার (৭২৮ ফুট) ব্যাসের একটি বিশাল নতুন গহ্বর (গর্ত)  বা ক্রেটার আবিষ্কার করেছে যুক্তরাষ্ট্রের মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা। ‘সায়েন্স অ্যাডভান্সেস’ জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।

বার্তাসংস্থা আনাদোলু এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, এটি রোমের কলোসিয়ামের চেয়েও বড় এবং সৌরজগতের সাম্প্রতিক সময়ের সংঘর্ষে তৈরি সবচেয়ে বড় গহ্বরগুলোর একটি।

গবেষণা অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১১ এপ্রিল থেকে ২২ মে-র মধ্যে একটি গ্রহাণু বা ধূমকেতুর টুকরো চাঁদের পৃষ্ঠে আছড়ে পড়ার ফলে এই গহ্বরটি তৈরি হয়। বস্তুটির আকার আনুমানিক তিন থেকে ছয় তলা ভবনের সমান ছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

চাঁদের পৃথিবীমুখী অংশে এই সংঘর্ষ ঘটলেও তখন পৃথিবী বা মহাকাশে থাকা কোনো টেলিস্কোপে ঘটনাটি ধরা পড়েনি। পরে নাসার ‘লুনার রিকনইস্যান্স অরবিটার’ (এলআরও) মহাকাশযানটি এটির সন্ধান পায়।

২০০৯ সাল থেকে চাঁদের পৃষ্ঠ পর্যবেক্ষণ করা এলআরও-র প্রশস্ত-কোণের ছবির স্বয়ংক্রিয় বিশ্লেষণের মাধ্যমে ২০২৫ সালের আগস্টে নতুন গহ্বরটি শনাক্ত করা হয়। পরে উচ্চ রেজোলিউশনের ছবির মাধ্যমে এর অস্তিত্ব নিশ্চিত করা হয়।

বিজ্ঞানী টমাস ম্যাকগেচিনের নামে গহ্বরটির নামকরণ করা হয়েছে। গবেষকদের মতে, এটি এলআরও-এর শনাক্ত করা আগের রেকর্ডধারী গহ্বরের চেয়ে প্রায় তিন গুণ প্রশস্ত। এমন বড় সংঘর্ষ খুবই বিরল; পরিসংখ্যান অনুযায়ী, প্রায় ১৩২ বছরে একবার এ ধরনের ঘটনা ঘটতে পারে।

গবেষকরা জানিয়েছেন, সংঘর্ষের ফলে চাঁদের আশপাশের পৃষ্ঠে ব্যাপক পরিবর্তন হয়েছে। ছিটকে পড়া ধুলো ও পাথর বিভিন্ন মডেলের পূর্বাভাসের চেয়েও অনেক দূরে এবং খাড়া কোণে ছড়িয়ে পড়েছে। এর প্রভাব গহ্বরটির ব্যাসার্ধের ১ হাজার গুণেরও বেশি এলাকায় দেখা গেছে।

আরেক গবেষণায় গহ্বরটির চারপাশে প্রায় ৬ দশমিক ৪ কিলোমিটার প্রশস্ত এলাকায় তাপীয় বৈশিষ্ট্যের পরিবর্তন শনাক্ত করা হয়েছে। এতে ধারণা করা হচ্ছে, সংঘর্ষের কারণে চাঁদের ওপরের স্তরের মাটি বা ‘রেগোলিথ’ ব্যাপকভাবে ওলটপালট হয়েছে।

বিজ্ঞানীদের মতে, এই আবিষ্কার চাঁদের পৃষ্ঠের পরিবর্তন ও মহাকাশীয় সংঘর্ষের মডেল আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে। পাশাপাশি ভবিষ্যতে চাঁদে নভোচারীদের বসতি স্থাপন ও অবকাঠামো নির্মাণের ক্ষেত্রেও এ গবেষণার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, চাঁদের পৃষ্ঠ আগের ধারণার চেয়ে দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে। এর ফলে অ্যাপোলো অভিযানের সময় নভোচারীদের রেখে যাওয়া ঐতিহাসিক পদচিহ্নও দীর্ঘ সময় পর চাঁদের মাটির প্রাকৃতিক পরিবর্তন প্রক্রিয়ায় আচ্ছাদিত বা মুছে যেতে পারে।