...|...|...

অর্থনীতি

মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন পোশাকশিল্পের মালিকরা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৩৪
Shares
মজুরি বোর্ডের সিদ্ধান্ত মেনে নেবেন পোশাকশিল্পের মালিকরা

ছবি: সংগৃহীত

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের জন্য নতুন মজুরি বোর্ড যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে, তা মেনে নেওয়ার কথা জানিয়েছেন শিল্প মালিকরা। তবে কারখানায় অস্থিতিশীলতা, নাশকতা কিংবা উৎপাদন ব্যাহত করার মতো পরিস্থিতি কোনোভাবেই গ্রহণ করা হবে না বলে জানিয়েছে তৈরি পোশাকশিল্পের দুই সংগঠন বিজিএমইএ ও বিকেএমইএ।

মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে কয়েক দিন ধরে পোশাকশ্রমিকদের মধ্যে অসন্তোষ চলছে। রাজধানী ও আশপাশের বিভিন্ন এলাকায় সড়কে নেমে আন্দোলন করছেন শ্রমিকেরা। তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে গত রবিবার (১ নভেম্বর) সরকার নতুন মজুরি বোর্ড গঠন করে। সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ শেখ আশফাকুর রহমানকে বোর্ডের চেয়ারম্যান করা হয়েছে। এতে সরকার, মালিক ও শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা রয়েছেন।

শ্রমিক নেতারা বলছেন, শিল্পের সক্ষমতা এবং জীবনযাত্রার বাড়তি ব্যয়ের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে আলোচনার মাধ্যমে শ্রমিকদের জন্য ন্যায্য মজুরি নির্ধারণ করা প্রয়োজন।

ইন্ডাস্ট্রিঅল বাংলাদেশ কাউন্সিলের সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দিন স্বপন বলেন, মজুরি নির্ধারণের প্রথম ধাপ হলো বোর্ড গঠন। এরপর মজুরি নিয়ে প্রস্তাবনা তৈরি ও বিশ্লেষণ করা হবে। শ্রমিকদের জীবনমান উন্নয়নে কত মজুরি প্রয়োজন এবং মালিকদের কতটা সক্ষমতা রয়েছে, তা আইন অনুযায়ী বিবেচনা করা হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

অন্যদিকে, শিল্প মালিকদের বক্তব্য, আলোচনা শেষে নতুন মজুরি বোর্ড যে বেতন কাঠামো নির্ধারণ করবে, তারা তা মেনে নেবেন। তবে আন্দোলনের নামে শিল্পের ক্ষতি, উৎপাদন ব্যাহত কিংবা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করেছেন তারা।

বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিকেএমইএ) সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম বলেন, মজুরি নির্ধারণে সরকার উদ্যোগ নিয়েছে এবং মালিকপক্ষও তা মেনে নেওয়ার অবস্থানে রয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে আন্দোলনের কারণে শিল্পের উৎপাদন ও দেশের রফতানি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার বিষয়টি তার কাছে বোধগম্য নয়।

বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বলেন, তৈরি পোশাকশিল্প আন্তর্জাতিক ব্যবসার সাথে যুক্ত। এ খাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি হলে আন্তর্জাতিক বাজারে নেতিবাচক বার্তা যায়, যা দীর্ঘমেয়াদে ব্যবসার ক্ষতি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, পরিস্থিতির উন্নতি না হলে সদস্য কারখানাগুলো প্রয়োজনে শ্রম আইন মেনে বন্ধ রাখতে বাধ্য হতে পারে। তবে তারা এমন পরিস্থিতিতে যেতে চান না। মজুরি বোর্ড যে সিদ্ধান্ত দেবে, মালিকপক্ষ তা মেনে নেবে বলেও জানান তিনি। একই সাথে মালিকদের সক্ষমতার বিষয়টি বিবেচনায় রাখার আহ্বান জানান।