...|...|...

বিশ্ব

মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২০ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১১:১০
Shares
মক্কা প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত প্রকাশ

ছবি: সংগৃহীত

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তির বিস্তারিত সামনে এসেছে। ১৬টি ধারার এই চুক্তিটি অনুমোদনের জন্য তুরস্কের পার্লামেন্টে জমা দেওয়ার পর এর বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। চুক্তিতে তিন দেশের পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়, সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ, প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি এবং যৌথ সামরিক প্রশিক্ষণের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

চুক্তির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, কোনো একটি সদস্যদেশের ওপর সশস্ত্র হামলাকে তিন দেশের ওপর হামলা হিসেবে বিবেচনা করার বিধান। এ ক্ষেত্রে আক্রান্ত দেশকে অন্য দুই সদস্যদেশ সহায়তা দেবে। এর মাধ্যমে তিন দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতাকে আরও সুসংগঠিত ও প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে।

সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ সরবরাহ

চুক্তি অনুযায়ী, শান্তিকাল, যুদ্ধ কিংবা জরুরি পরিস্থিতিতে সদস্যদেশগুলো পরস্পরকে সামরিক সরঞ্জাম ও রসদ দিয়ে সহায়তা করতে পারবে। এর মধ্যে অস্ত্র, গোলাবারুদ, জ্বালানি, খুচরা যন্ত্রাংশ এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামরিক উপকরণ রয়েছে। এ ব্যবস্থার মাধ্যমে সংকটের সময় সদস্যদেশগুলোর সামরিক সক্ষমতা ও প্রস্তুতি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হবে।

গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়

তিন দেশের মধ্যে নিরাপদ ব্যবস্থায় গোয়েন্দা তথ্য বিনিময়ের বিধানও রাখা হয়েছে। চুক্তির আওতায় পাওয়া গোপন তথ্য, নথি ও অন্যান্য সংবেদনশীল উপাদান বাইরের কোনো রাষ্ট্র, প্রতিষ্ঠান বা ব্যক্তির কাছে প্রকাশ করা যাবে না। এর লক্ষ্য হলো, নিরাপত্তা-সংক্রান্ত তথ্যের সুরক্ষা নিশ্চিত করার পাশাপাশি পারস্পরিক আস্থা ও সমন্বয় বাড়ানো।

প্রতিরক্ষা শিল্প ও প্রযুক্তিতে যৌথ উদ্যোগ

প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর পাশাপাশি যৌথভাবে সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদনে উৎসাহ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে চুক্তিতে। উন্নত প্রযুক্তির বিভিন্ন ক্ষেত্রে যৌথ গবেষণা, প্রযুক্তির উন্নয়ন এবং উদ্ভাবনী প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগও এর আওতায় থাকবে। এর ফলে তিন দেশের প্রতিরক্ষা শিল্পের মধ্যে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।

যৌথ প্রশিক্ষণ ও সামরিক মহড়া

তিন দেশের সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বাড়াতে যৌথ প্রশিক্ষণ, সামরিক মহড়া এবং সদস্য বিনিময়ের উদ্যোগ নেওয়া হবে। এসব কার্যক্রমের মাধ্যমে সামরিক বাহিনীগুলোর মধ্যে সমন্বয় বাড়ানো এবং বিভিন্ন পরিস্থিতিতে একসঙ্গে কাজ করার সক্ষমতা উন্নত করার লক্ষ্য রয়েছে।

যৌথ প্রতিরক্ষা কমিটি ও সচিবালয়

চুক্তির কার্যক্রম পরিচালনা ও সমন্বয়ের জন্য একটি কৌশলগত রাজনৈতিক ও প্রতিরক্ষা কমিটি গঠনের কথা বলা হয়েছে। এতে তিন দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী, প্রতিরক্ষামন্ত্রী এবং সামরিক বাহিনীর প্রধানেরা যুক্ত থাকবেন। পাশাপাশি সৌদি আরবে একটি সচিবালয় প্রতিষ্ঠার বিধান রয়েছে, যা চুক্তির বিভিন্ন কার্যক্রম সমন্বয়ে ভূমিকা রাখবে।

নতুন সদস্য যুক্ত করার নিয়ম

চুক্তিতে নতুন কোনো দেশকে অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রেও নির্দিষ্ট শর্ত রাখা হয়েছে। বিদ্যমান সদস্য তিন দেশের সর্বসম্মত সম্মতি ছাড়া নতুন কোনো দেশ এই প্রতিরক্ষা কাঠামোয় যুক্ত হতে পারবে না।

চুক্তির মেয়াদ ও প্রত্যাহারের বিধান

চুক্তিটি কার্যকর হওয়ার পর অনির্দিষ্টকাল বলবৎ থাকার কথা বলা হয়েছে। তবে কার্যকর হওয়ার ১০ বছর পর যেকোনো সদস্যদেশ কূটনৈতিক মাধ্যমে লিখিত নোটিশ দিয়ে চুক্তি থেকে সরে যেতে পারবে। এ ক্ষেত্রে অন্য সদস্যদেশগুলোকে অন্তত তিন মাস আগে জানানোর বিধান রয়েছে।

তুরস্ক, সৌদি আরব ও পাকিস্তানের এই চুক্তি তিন দেশের সামরিক ও কৌশলগত সম্পর্ককে আরও গভীর করার একটি উদ্যোগ। বিশেষ করে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা, গোয়েন্দা সহযোগিতা এবং প্রতিরক্ষা প্রযুক্তিতে যৌথ কাজের সুযোগ তৈরি হলে তাদের নিরাপত্তা সহযোগিতা নতুন মাত্রা পেতে পারে।

তবে চুক্তিতে পারস্পরিক প্রতিরক্ষার যে অঙ্গীকার করা হয়েছে, বাস্তবে তা কীভাবে কার্যকর হবে, কোনো সংকটের সময় কী ধরনের সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া কী হবে- এসব বিষয়ই চুক্তির কার্যকারিতা নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।