...|...|...

বিশ্ব

মক্কা জোটে বাংলাদেশকে চায় পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৪ | আপডেট: ৫ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:২৮
Shares
মক্কা জোটে বাংলাদেশকে চায় পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামী

পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈম। ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে ইরান ও বাংলাদেশসহ অন্যান্য মুসলিম রাষ্ট্রগুলোকে অন্তর্ভুক্ত করার আহ্বান জানিয়েছেন পাকিস্তানের জামায়াতে ইসলামীর আমির হাফিজ নাঈম। 

তিনি স্পষ্ট করে বলেছেন, এই চুক্তির মূল লক্ষ্য যদি অঞ্চলটিকে সুরক্ষা দেওয়া হয়, তবে ফিলিস্তিনকে এর সর্বাগ্রে অগ্রাধিকার দিতে হবে।

রবিবার (৪ অক্টোবর) জামায়াতে ইসলামীর আয়োজিত এক বিশাল ‘গাজা মার্চ’-এ হাজার হাজার সমাবেশে অংশ নেওয়া জনতার উদ্দেশ্যে ভাষণ দেওয়ার সময় তিনি এই দাবি জানান।

হাফিজ নাঈম বলেন, এই প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার প্রধান উদ্দেশ্য হওয়া উচিত ফিলিস্তিনিদের—বিশেষ করে গাজায় বসবাসকারীদের ওপর ইসরায়েলি আগ্রাসনের চিরতরে অবসান ঘটানো।

এক্সপ্রেস ট্রিবিউনের তথ্যমতে, গত ৭ আগস্ট পাকিস্তান, সৌদি আরব এবং তুরস্কের মধ্যে স্বাক্ষরিত ‘মক্কা ডিফেন্স অ্যালায়েন্স’ বা মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিকে তিনি স্বাগত জানান, তবে এর পরিধি বাড়িয়ে অন্যান্য মুসলিম দেশগুলোকেও যুক্ত করার তাগিদ দেন।

হাফিজ নাঈম অভিযোগ করেন, যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি হামলা অব্যাহত রয়েছে এবং ইসরায়েল যুদ্ধবিরতির শর্তগুলো মানতে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে, উপরন্তু তারা মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পূর্ণ মদদপুষ্ট। ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের নির্যাতিত জনগণের সমর্থনে মুসলিম উম্মাহকে সব ধরনের সাম্প্রদায়িক, রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক বিভেদ ভুলে একতাবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, সাম্প্রদায়িক ও ভৌগোলিক রেখায় বিভক্ত না হয়ে ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের নিপীড়িত মানুষের সমর্থনে মুসলিম উম্মাহকে এক হতে হবে। সাধারণ সংগ্রামের স্বার্থে শিয়া ও সুন্নী বিভেদ ভুলে যাওয়ারও তাগিদ দেন তিনি।

হাফিজ নাঈম ঘোষণা দেন যে, অক্টোবরের প্রথম সপ্তাহটি গাজা ও ফিলিস্তিনের জনগণের সাথে সংহতি প্রকাশ করে পালন করা হবে। এছাড়া পেট্রোলিয়াম লেভি, উচ্চ কর এবং মূল্যস্ফীতির বিরুদ্ধে তাদের চলমান প্রচারণার অংশ হিসেবে আগামী ৭ অক্টোবরের পর জামায়াতে ইসলামী তাদের ভবিষ্যৎ কৌশল প্রকাশ করবে বলে জানান তিনি।

যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও গাজায় ইসরায়েলি বোমাবর্ষণ অব্যাহত রয়েছে এবং ওই অঞ্চলের বিশাল অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, পশ্চিম তীরেও শিশুদেরসহ ফিলিস্তিনিদের লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে।

জামায়াত প্রধান বলেন, ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের আক্রমণ ইসরায়েলের সামরিক শক্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছিল এবং পরবর্তী ইসরায়েলি আক্রমণ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সামনে দেশটির প্রকৃত নীতি উন্মোচন করেছে। হামাসের সংগ্রামকে বৈধ প্রতিরোধ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতি আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে এই গোষ্ঠীটি। একই সাথে বায়তুল মোকাদ্দাস বা আল-আকসা মসজিদের স্বাধীনতার জন্য প্রচেষ্টা আরও জোরদার করার আহ্বান জানান তিনি।

তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের এই প্রতিরোধ প্রমাণ করেছে যে, দৃঢ় সংকল্প ও সাহসিকতার মাধ্যমে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত শক্তিকেও চ্যালেঞ্জ করা সম্ভব। ফিলিস্তিনে রক্তপাত বন্ধে মুসলিম সরকার ও সেনাবাহিনীগুলোর সুনির্দিষ্ট দায়িত্ব রয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

হাফিজ নাঈমের মতে, গাজার পরিস্থিতি ইসলামী আন্দোলনগুলোর মধ্যে বৃহত্তর ঐক্যের প্রয়োজনীয়তাও ফুটিয়ে তুলেছে। টানা তিন বছরের যুদ্ধ সত্ত্বেও ফিলিস্তিনিরা যে হামাসকে সমর্থন করে গেছেন, সে কথা উল্লেখ করেন তিনি। এছাড়া জামায়াত এবং তাদের দাতব্য সংস্থা ‘আল-খিদমত’ জনগণের সহযোগিতায় ফিলিস্তিনিদের জন্য ১ হাজার কোটি (১০ বিলিয়ন) টাকার ত্রাণসামগ্রী পাঠিয়েছে বলে তিনি জানান।