খুলনার তেরখাদায় ভ্যানের চাকা নষ্ট হওয়ায় পথে আটকে পড়েন ৩১ বছর বয়সী এক নারী। এ সময় একদল যুবক তাকে অনুসরণ করে বলে অভিযোগ উঠেছে। পরে নদীর পাড়ের একটি কবরস্থানে নিয়ে তাকে দলবদ্ধ ধর্ষণ করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী। এ ঘটনায় তিন যুবককে আটক করেছে পুলিশ। ভুক্তভোগী নারী বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান-স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে (ওসিসি) চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
আটক ব্যক্তিরা হলেন-তেরখাদা উপজেলার মধুপুর গ্রামের মিকাঈল শেখের ছেলে সামিউল শেখ (২৮), একই গ্রামের মো. আলমগীর কাজীর ছেলে মাজাহারুল কাজী (২২) এবং আশরাফ শরীফের ছেলে শাহাজাহান শরীফ (৩৮)।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে উপজেলার মধুপুর এলাকার শ্যামনগরে একটি পুরোনো প্রাথমিক বিদ্যালয়ের কাছে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। তবে ভুক্তভোগীর বর্ণনায় নদীর পাড় ও একটি কবরস্থানের কথা উঠে এসেছে। ঘটনার সুনির্দিষ্ট স্থান ও বিস্তারিত বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
খুলনা জেলা পুলিশ সুপার সরকার ওমর ফারুক তিন যুবককে আটকের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
একটি সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, ওই নারী দৌলতপুর থেকে কোলা বাজারে এক ব্যক্তির সাথে দেখা করতে যান। রাত ১০টার দিকে সেখান থেকে ভ্যানে করে ফেরার পথে ভ্যানের টায়ার নষ্ট হয়ে যায়। এ সময় কয়েকজন যুবক তাকে অনুসরণ করছিল বলে তিনি দাবি করেন। পরে এক ব্যক্তির সহায়তা চাইলে ওই ব্যক্তি তাকে নদীর পাড় পর্যন্ত এগিয়ে দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, পরবর্তী সময়ে নদীর মাঝামাঝি স্থানে তাকে ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়। সেখানে ব্যর্থ হয়ে নদীর পাড়ের একটি কবরস্থানে নিয়ে তাকে ধর্ষণ করা হয়।
ওই সূত্রের দাবি, দলটিতে প্রায় ১৫ জন ছিল এবং তাদের মধ্যে পাঁচজন তাকে ধর্ষণ করে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে তদন্তের অগ্রগতি এবং অন্য অভিযুক্তদের পরিচয় সম্পর্কে পুলিশের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ঘটনার বিষয়ে ভুক্তভোগী নারীর সাথে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তিনি এ বিষয়ে মুখ খুলছেন না।
ভুক্তভোগী নারী খুলনার দিঘলিয়া উপজেলার চন্দনী মহলের বাসিন্দা। সূত্রে জানা গেছে, তার আগের সংসারে সাত বছর বয়সী একটি ছেলে রয়েছে। তার বর্তমান স্বামী এক সপ্তাহ আগে কারাগারে গেছেন বলে জানা গেছে।
এ ঘটনায় আটক ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে কী আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং অভিযোগের সাথে তাদের সংশ্লিষ্টতা কী, তা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হবে।


