...|...|...

সারাদেশ

থানায় ঢুকে ওসির স্ত্রীর গালাগাল, জিডি করে নারী এএসআই বদলি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:৩৫
Shares
থানায় ঢুকে ওসির স্ত্রীর গালাগাল, জিডি করে নারী এএসআই বদলি

আগৈলঝাড়ায় থানা। ছবি: সংগৃহীত

বরিশালের আগৈলঝাড়া থানায় এক নারী সহকারী উপপরিদর্শককে (এএসআই) অশালীন ভাষায় গালাগাল করার অভিযোগ উঠেছে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাসুদ খানের স্ত্রী আঞ্জুমানের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন ভুক্তভোগী এএসআই শাহনাজ আক্তার। 

অভিযোগের বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর শাহনাজকে বানারীপাড়া থানায় বদলি করা হয়েছে। একইসাথে আগৈলঝাড়া থানায় কর্মরত উপপরিদর্শক (এসআই) আবদুল্লাহ আল মামুনকেও অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।

গত ৯ অক্টোবর আগৈলঝাড়া থানায় জিডিটি করেন শাহনাজ আক্তার। জিডির বিবরণ অনুযায়ী, ওই দিন সন্ধ্যা পৌনে আটটার দিকে ওসির স্ত্রী আঞ্জুমান থানায় এসে শাহনাজকে উদ্দেশ্য করে অশালীন ভাষায় কথা বলেন। সে সময় শাহনাজ থানার ডিউটি অফিসারের চেয়ারে বসা ছিলেন। 

ওসির কক্ষে রাতে যাওয়া এবং চাকরিতে আসা নিয়ে তাকে লক্ষ্য করে আপত্তিকর মন্তব্য করা হয়। এতে মানসিকভাবে বিব্রত ও অপমানিত হয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করেন ওই নারী পুলিশ কর্মকর্তা।

জিডিতে এর আগের একটি ঘটনার কথাও তুলে ধরেছেন শাহনাজ। তিনি জানান, গত মার্চে তার ভাইয়ের বিয়ের জন্য জরুরি ছুটির প্রয়োজন হয়েছিল। এ কারণে রাত সাড়ে ১০টার দিকে ছুটির ব্যবস্থা করতে থানার সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সাথে যোগাযোগ করেন তিনি। পরে ওসির অর্ডালির মাধ্যমে ছুটির অনুমতির আবেদন করেন।

ছুটি শেষে কর্মস্থলে ফিরে তিনি জানতে পারেন, থানায় কর্মরত এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনের কাছে ওসির স্ত্রী অভিযোগ করেছিলেন, শাহনাজের সাথে ওসির অনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে এবং তিনি তার সাথে রাত কাটিয়েছেন। বিষয়টি নিজের কানে শোনেননি বলে তখন গুরুত্ব দেননি শাহনাজ। তবে এবার সরাসরি গালাগাল ও অপমানের শিকার হওয়ায় ভবিষ্যতের প্রয়োজনে জিডি করেছেন বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ বিষয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের অনুমতি ছাড়া তিনি বক্তব্য দিতে পারবেন না। তবে তিনি যা শুনেছেন, তাতে ঘটনার সত্যতা রয়েছে। ওসির কারণে তিনিও বিভিন্নভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে দাবি করেন এই পুলিশ কর্মকর্তা। এ ঘটনায় তিনি বিচারও দাবি করেন।

এএসআই শাহনাজ আক্তারও জিডির বিষয়টি স্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, বিষয়টি থানার অভ্যন্তরীণ ব্যাপার হওয়ায় বিস্তারিত বলতে পারছেন না। তবে জিডির বিষয়ে যা শোনা যাচ্ছে, তা সত্য। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ যে সিদ্ধান্ত নেবে, সেটিই মেনে নেবেন।

অভিযোগ রয়েছে, ওসির স্ত্রীর বিরুদ্ধে জিডি করার পর শাহনাজকে আগৈলঝাড়া থানা থেকে সরিয়ে বানারীপাড়া থানায় পদায়ন করা হয়। এ ছাড়া ওসি মাসুদ খান জরুরি ছাড়পত্র দিয়ে এসআই আবদুল্লাহ আল মামুনকেও অন্য থানায় বদলি করেন।

তবে এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন আগৈলঝাড়া থানার ওসি মাসুদ খান। তার দাবি, পুরো ঘটনাটিই ভিত্তিহীন। তিনি বলেন, এমন গুজবের সাথে বাস্তবতার কোনো মিল নেই। তিনি সেখানে ১০ মাস ধরে দায়িত্ব পালন করছেন। তাকে বেকায়দায় ফেলতে কিছু তথ্য ছড়ানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।

জিডি ও বদলির বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি বলেন, এগুলো তাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়। থানার অভ্যন্তরীণ বিষয় বাইরে যাওয়াকে কেন্দ্র করে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ বিষয়টি জানলে সরকারি গোপনীয়তা আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে বরিশাল জেলার পুলিশ সুপার এ জেড এম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ঘটনাটি নিজেদের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝির কারণে হয়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষও পুরোপুরি অবগত রয়েছে।