সৌদি আরবে ‘অনৈতিক কর্মকাণ্ডের’ অভিযোগে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নজরুল ইসলাম ও টাঙ্গাইলের সুইটি আক্তারের সম্পর্ক নিয়ে তৈরি হয়েছে ধোঁয়াশা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের স্বামী-স্ত্রী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হলেও নজরুলের বাবা আব্দুল বাছির দাবি করেছেন, তার ছেলে বিয়ে করেননি। সুইটি আক্তারকেও তারা চেনেন না।
নজরুল ইসলামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর উপজেলার সুলতানপুর ইউনিয়নের বিরামপুর গ্রামে। অন্যদিকে, সুইটি আক্তারের বাড়ি টাঙ্গাইলের মির্জাপুর উপজেলার মহেড়া ইউনিয়নে।
ছেলে ও সুইটির সম্পর্কের বিষয়ে আব্দুল বাছির গণমাধ্যমকে বলেন, কলেজে পড়ার সময় পরিবারের হাল ধরতে ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তিনি। তার ভাষ্য, নজরুলের বিয়ে হয়নি এবং সুইটি নামের ওই নারীকে তারা চেনেন না। তবে শুনেছেন, তারা একই জায়গায় কাজ করতেন।
নজরুলের পরিবারের দাবি, সৌদি আরবে যাওয়ার এক মাসের মধ্যে মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারামে পরিচ্ছন্নতাকর্মীর চাকরি পান নজরুল। কিন্তু ছয়-সাত মাস পর থেকে পরিবারের সাথে তার যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। পরে কারাগার থেকে ফোন করে নজরুল জানান, তিনি বন্দি রয়েছেন। তবে কী অভিযোগে তাকে আটক করা হয়েছে, সে বিষয়ে পরিবারকে বিস্তারিত কিছু জানাননি।
নজরুলের বাবা জানান, প্রায় তিন বছর তিন মাস কারাগারে ছিলেন তার ছেলে। মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে গত রবিবার নজরুল সর্বশেষ ফোন করেছিলেন। তখন তিনি শুধু জানিয়েছিলেন, সমস্যার মধ্যে রয়েছেন। কী সমস্যা, তা আর বিস্তারিত বলেননি। এর কয়েক দিন পর গত বুধবার গণমাধ্যমের মাধ্যমে ছেলের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর জানতে পারেন আব্দুল বাছির।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কারাগারে থাকা অবস্থায় নজরুলকে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কেউ যোগাযোগ করেছেন কি না, তা জানতে চেয়েছিলেন। জবাবে ছেলে জানিয়েছিলেন, কেউ তার সাথে যোগাযোগ করেননি।
এদিকে, জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) বহির্গমন ছাড়পত্র ও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের ভিত্তিতে সুইটি আক্তারের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে তার মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের খবর প্রকাশের পরও পরিবারের সদস্যরা এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো তথ্য পাননি।
সুইটির বাবা ফজল ও মা জহুরা বেগম জানিয়েছেন, মেয়ের মৃত্যুর বিষয়ে তারা নিশ্চিত নন। তবে মৃত্যুর খবর সত্য হলে তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে সরকারের সহযোগিতা চান তারা।
মহেড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিভাষ সরকার নুপুর জানান, সুইটি আক্তারের মৃত্যুর বিষয়ে তিনি এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাননি।
অন্যদিকে, সুইটির বোনের স্বামী আব্দুল বারেক আনসার বাহিনীর সদস্য হিসেবে পূজার দায়িত্ব পালন করছিলেন। তাকে গণমাধ্যমে প্রকাশিত সুইটির ছবি দেখানো হলে তিনি ওই নারীকে নিজের শ্যালিকা হিসেবে শনাক্ত করেন। তবে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়টি তিনিও নিশ্চিত করতে পারেননি।
এ বিষয়ে মির্জাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, সৌদি আরবে সুইটি আক্তারের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ঘটনা সম্পর্কে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো তথ্য আসেনি।
নজরুল ও সুইটির মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে পরিবারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক তথ্যের অপেক্ষা রয়েছে। সুইটির পরিবারও মেয়ের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত হলে তার লাশ দেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা কামনা করেছে।


