ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার অনুকূল পরিবেশের বিচারে ২০২৬ সালে বিশ্বের সেরা দেশ হিসেবে শীর্ষস্থান দখল করেছে যুক্তরাষ্ট্র। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে সিঙ্গাপুর, আর তৃতীয় স্থানে যুক্তরাজ্য। শীর্ষ ২০ দেশের তালিকায় ইউরোপের ১২টি দেশ জায়গা করে নিয়েছে। অন্যদিকে ১২৫টি দেশের মধ্যে বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম।
স্টার্টআপব্লিঙ্ক প্রকাশিত ‘ইনোভেটরস বিজনেস এনভায়রনমেন্ট ইনডেক্স (আইবিইআই) ২০২৬’-এ এসব তথ্য উঠে এসেছে। গত ২৭ জানুয়ারি প্রকাশিত এই সূচকে বিশ্বের ১২৫টি দেশের ব্যবসায়িক পরিবেশ মূল্যায়ন করা হয়েছে। এ জন্য ৩০টির বেশি পরিমাপযোগ্য সূচক ব্যবহার করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
সূচকের শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে প্রথম অবস্থানে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের স্কোর ১০০। দ্বিতীয় সিঙ্গাপুরের স্কোর ৯৯ দশমিক ১৪৫ এবং তৃতীয় যুক্তরাজ্যের ৯৩ দশমিক ৯০০। চতুর্থ ও পঞ্চম অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সুইজারল্যান্ড ও সংযুক্ত আরব আমিরাত।
তালিকার ষষ্ঠ অবস্থানে কানাডা, সপ্তম নেদারল্যান্ডস, অষ্টম জাপান, নবম সৌদি আরব এবং দশম এস্তোনিয়া। বাকি ১০টি দেশের মধ্যে রয়েছে নিউজিল্যান্ড, সুইডেন, লুক্সেমবার্গ, আয়ারল্যান্ড, সাইপ্রাস, বেলজিয়াম, অস্ট্রেলিয়া, বুলগেরিয়া, ফিনল্যান্ড ও ডেনমার্ক।
ব্যবসার জন্য সেরা ২০ দেশ
১. যুক্তরাষ্ট্র- ১০০.০০০
২. সিঙ্গাপুর- ৯৯.১৪৫
৩. যুক্তরাজ্য- ৯৩.৯০০
৪. সুইজারল্যান্ড- ৮৬.৯০১
৫. সংযুক্ত আরব আমিরাত- ৮৬.২২২
৬. কানাডা- ৮৬.১৪৪
৭. নেদারল্যান্ডস- ৮৫.৭১৫
৮. জাপান- ৮৩.৬৪৪
৯. সৌদি আরব- ৮২.৮৮০
১০. এস্তোনিয়া- ৭৮.৯৯৭
১১. নিউজিল্যান্ড- ৭৭.৭৪০
১২. সুইডেন- ৭৭.০১২
১৩. লুক্সেমবার্গ- ৭৬.১৩৬
১৪. আয়ারল্যান্ড- ৭৫.৪৪৮
১৫. সাইপ্রাস- ৭৪.৬৩০
১৬. বেলজিয়াম- ৭৪.৪০৯
১৭. অস্ট্রেলিয়া- ৭৩.৮১২
১৮. বুলগেরিয়া- ৭৩.৬৩১
১৯. ফিনল্যান্ড- ৭৩.৩৯৩
২০. ডেনমার্ক- ৭২.৯৪৫
যেসব কারণে এগিয়ে শীর্ষ দেশগুলো
প্রতিবেদন অনুযায়ী, শীর্ষস্থান ধরে রাখার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বড় বাজার, অর্থায়নের সুযোগ এবং ব্যবসা পরিচালনার অনুকূল পরিবেশ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। অন্যদিকে সিঙ্গাপুর সূচকের আটটি পরিমাপকেই অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় বেশি নম্বর পেয়েছে।
করব্যবস্থায় বিশেষ সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরব। করসংক্রান্ত মূল্যায়নে দেশ দুটি বিশ্বে যথাক্রমে দ্বিতীয় ও ষষ্ঠ অবস্থানে রয়েছে। জাপান ঋণের সুদের হার ও ঋণপ্রাপ্তির সুযোগের ক্ষেত্রে বিশ্বে প্রথম। ব্যবসা শুরু করার সহজতার বিচারে শীর্ষে রয়েছে নিউজিল্যান্ড। আর্থিক সক্ষমতা ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের ক্ষেত্রে সুইডেন, দেউলিয়াত্ব নিষ্পত্তিতে ফিনল্যান্ড এবং ডিজিটাল অবকাঠামোয় ডেনমার্কও উল্লেখযোগ্য অবস্থানে রয়েছে।
শীর্ষ ২০ দেশের সামগ্রিক চিত্র বিশ্লেষণ করে স্টার্টআপব্লিঙ্ক বলছে, এসব দেশের সাফল্যের পেছনে একক কোনো বিষয় কাজ করেনি। বরং অর্থায়নের সুযোগ, কার্যকর নীতিমালা, সুশাসন, ডিজিটাল অবকাঠামো ও আন্তর্জাতিক যোগাযোগের মতো বিভিন্ন ক্ষেত্রে সম্মিলিত সক্ষমতা তাদের এগিয়ে রেখেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, শীর্ষ ২০ দেশের মধ্যে ১৭টি অর্থায়ন ও আর্থিক অবকাঠামোয় ভালো করেছে। ১৬টি দেশের নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সুশাসন পরিস্থিতি শক্তিশালী। ডিজিটাল অবকাঠামোয় ভালো অবস্থানে রয়েছে ১৪টি দেশ। তবে করব্যবস্থায় শীর্ষ ২০ দেশের ১৭টিরই তুলনামূলক দুর্বলতা রয়েছে।
বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম
১২৫টি দেশের তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান ১০৬তম। দেশটির স্কোর ২৮ দশমিক ১৬৮। দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর মধ্যে ভারত ৫৪তম, পাকিস্তান ১০০তম, নেপাল ১০৩তম এবং শ্রীলঙ্কা ১০৪তম অবস্থানে রয়েছে। অর্থাৎ এ অঞ্চলের দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল ও শ্রীলঙ্কা।
যেভাবে তৈরি হয়েছে সূচক
স্টার্টআপব্লিঙ্কের আইবিইআই মূলত কোনো দেশে উদ্যোক্তা ও উদ্ভাবকেরা কতটা সহজে ব্যবসা শুরু, পরিচালনা ও সম্প্রসারণ করতে পারেন, তা মূল্যায়ন করে। এ ক্ষেত্রে তিনটি প্রধান বিষয় বিবেচনা করা হয়েছে-ব্যবসা পরিচালনার সহজতা, ব্যবসায়িক প্রণোদনা এবং বাজার সম্পর্কে আন্তর্জাতিক ধারণা।
এ ছাড়া সূচকের পরিমাপকগুলোকে পাঁচটি কার্যকরী বিভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো নিয়ন্ত্রণব্যবস্থা ও সুশাসন, অর্থায়ন ও আর্থিক অবকাঠামোয় প্রবেশাধিকার, করব্যবস্থা, ডিজিটাল অবকাঠামো এবং বৈশ্বিক যোগাযোগ ও উন্মুক্ততা।
করপোরেট কর, মূলধনি মুনাফার ওপর কর, লভ্যাংশ কর, ব্যবসা শুরুর প্রক্রিয়া, ঋণপ্রাপ্তির সুযোগ, ইন্টারনেটের গতি ও স্বাধীনতা, বাণিজ্য উন্মুক্ততা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং পাসপোর্টের সক্ষমতার মতো বিষয়ও মূল্যায়নে বিবেচনা করা হয়েছে।
স্টার্টআপব্লিঙ্কের মতে, এই সূচক কোনো দেশের স্টার্টআপের সাফল্য বা উদ্ভাবনের ফলাফল পরিমাপ করে না। বরং উদ্যোক্তাদের ব্যবসা শুরু ও পরিচালনার জন্য প্রয়োজনীয় মৌলিক পরিবেশ কতটা সহায়ক, সেটিই তুলে ধরে।



