...|...|...

বিশ্ব

বুলগেরিয়ার উপকূলে তুরস্কের বাণিজ্যিক দুই জাহাজে ড্রোন হামলা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৪:০৩
Shares
বুলগেরিয়ার উপকূলে তুরস্কের বাণিজ্যিক দুই জাহাজে ড্রোন হামলা

ছবি: সংগৃহীত

বুলগেরিয়ার কৃষ্ণ সাগরীয় এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে (ইইজেড) তুরস্কের মালিকানাধীন দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে ড্রোন হামলার ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবারের এ হামলায় একটি জাহাজ ডুবে গেছে। নিখোঁজ রয়েছেন ওই জাহাজের নাবিকরা। অপর জাহাজে থাকা ১৮ নাবিককে উদ্ধার করা হয়েছে।

বুলগেরিয়ার সামুদ্রিক বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ‘মেরিটাইম ডট বিজি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশটির এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোনে জাহাজে হামলার এটিই প্রথম ঘটনা। হামলার পর দেশটির প্রধানমন্ত্রী রুমেন রাদেভ প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের নিয়ে জরুরি বৈঠক ডেকেছেন।

স্থানীয় সময় ভোর ৪টার দিকে উপকূল থেকে প্রায় ৮০ নটিক্যাল মাইল দূরে কেপ সেন্ট আতানাস ও বিয়ালা শহরের পূর্বে থাকা দুটি জাহাজ থেকে বিপদসংকেত পাঠানো হয়। পরে সকাল ৯টার দিকে বর্ডার পুলিশের রাডার থেকে একটি জাহাজের অবস্থান অদৃশ্য হয়ে যায়।

ড্রোন হামলায় টোগোর পতাকাবাহী ‘আলফা ওয়াতান’ জাহাজটির কাঠামো ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে এটি বুলগেরিয়ার উপকূলের পূর্বদিকে ডুবে যায়। জাহাজটির নাবিকদের বিষয়ে এখনো কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ৩ হাজার ১৬০ ডেডওয়েট টনের এ জাহাজটি মার্সিনভিত্তিক ‘বারাকা শিপিং’-এর মালিকানাধীন। সর্বশেষ এটিকে রোমানিয়ার সুলিনা বন্দরের দিকে যেতে দেখা গিয়েছিল।

অন্যদিকে, হামলার পর পালাউয়ের পতাকাবাহী ‘এবল’ জাহাজে ভয়াবহ আগুন ধরে যায়। এতে থাকা ১৮ নাবিক জাহাজটি ছেড়ে যেতে বাধ্য হন। পরে বুলগেরিয়ার পতাকাবাহী ফেরি ‘ডিওস্কুরিয়া’ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাদের উদ্ধার করে। উদ্ধার হওয়া কয়েকজন নাবিক আহত ছিলেন। তাদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর হাসপাতালে পাঠানো হয়। ৭ হাজার ৪১৬ ডেডওয়েট টনের ‘এবল’ জাহাজটি ইস্তাম্বুলভিত্তিক ‘ওশান ঈগল’-এর বহরের অন্তর্ভুক্ত।

ড্রোনগুলো কোথা থেকে এসেছে, তা এখনো স্পষ্ট নয়। বুলগেরিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় জানিয়েছে, দেশটির কৃষ্ণ সাগরীয় অর্থনৈতিক অঞ্চলে দুটি জাহাজ ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। তবে হামলার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়নি।

রয়টার্সের তথ্যমতে, হামলার বিষয়টি প্রেসিডেন্ট ইলিয়ানা ইয়োতোভার কার্যালয় ই-মেইল বার্তার মাধ্যমে নিশ্চিত করেছে। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী রাদেভের জরুরি বৈঠকে প্রতিরক্ষা, স্বরাষ্ট্র, পরিবহন এবং পরিবেশ ও পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিনিধিদের পাশাপাশি প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও নিরাপত্তা সংস্থার কর্মকর্তারা অংশ নিচ্ছেন।

এর ঠিক একদিন আগে রোমানিয়ার উপকূলেও তুরস্কের মালিকানাধীন ‘রয়াদ মাম্মাদভ’ নামের একটি কার্গো জাহাজ ডুবে যায়। ইউক্রেন থেকে ইতালিতে গম নিয়ে যাওয়ার সময় জাহাজটিতে আগুন ধরে যায়। রোমানিয়ার গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, জাহাজটি ড্রোন হামলার শিকার হয়েছিল। ওই ঘটনায় দুই নাবিক নিহত হন।

রাশিয়া ও ইউক্রেনের চলমান ড্রোন যুদ্ধের কারণে কৃষ্ণ সাগরে নৌ চলাচল ক্রমেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে। সামুদ্রিক ঝুঁকি বিষয়ক প্রতিষ্ঠান ‘অ্যামব্রে’ জানিয়েছে, গত ছয় মাসে কৃষ্ণ সাগরের রোমানিয়া, বুলগেরিয়া ও তুরস্কের জলসীমায় যুদ্ধসংশ্লিষ্ট বস্তুর উপস্থিতি দ্বিগুণেরও বেশি বেড়েছে।