...|...|...

বিশ্ব

কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন শস্যবাহী জাহাজে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ২

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১০:০২
Shares
কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন শস্যবাহী জাহাজে রুশ ড্রোন হামলা, নিহত ২

ছবি: সংগৃহীত

কৃষ্ণসাগরে তুরস্কের মালিকানাধীন একটি শস্যবাহী জাহাজে ড্রোন হামলায় আগুন লেগে ডুবে গেছে। এই ঘটনায় দুজন নিহত হয়েছেন। উদ্ধার করা হয়েছে ১১ জনকে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এ ঘটনার জন্য রাশিয়ার ড্রোন হামলাকে দায়ী করেছেন। সংবাদমাধ্যম রয়টার্স এক প্রতিবেদনে এ  তথ্য জানিয়েছে।

সোমবার (৫ অক্টোবর) রোমানিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানায়, স্থানীয় সময় সকাল ১১টার দিকে জাহাজটিতে আগুন লাগার খবর পায় কোস্টগার্ড। সে সময় জাহাজটি কৃষ্ণসাগরে রোমানিয়ার ‘এক্সক্লুসিভ ইকোনমিক জোন’ বা বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলে অবস্থান করছিল।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি লিখেছেন, ‘নিরপেক্ষ জলসীমায় তুরস্কের মালিকানাধীন এবং ভুট্টা বহনকারী একটি বেসামরিক জাহাজে দুটি রুশ ড্রোন দিয়ে ভয়াবহ হামলা চালানো হয়েছে।’ খবর অনুযায়ী, ঘটনার সময় জাহাজটিতে আজারবাইজান ও ভারতের নাগরিকরা ছিলেন।

ন্যাটোর পূর্বাঞ্চলীয় সীমান্তে সন্দেহভাজন অনুপ্রবেশের একাধিক ঘটনার মধ্যে নতুন করে এ অভিযোগ উঠল। এতে ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ দেশটির সীমানা ছাড়িয়ে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা আরও বাড়তে পারে।

চলতি বছর নিজেদের ভূখণ্ড বা জলসীমায় অনুপ্রবেশের কথা জানিয়েছে ন্যাটোর একাধিক সদস্যদেশ। এর মধ্যে রোমানিয়াও রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে রাশিয়া ও ইউক্রেন উভয় পক্ষই শত শত ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের দিকে ক্রমশ বেশি ঝুঁকছে।

মে মাসে রোমানিয়ার একটি আবাসিক ভবনে রুশ ড্রোন আঘাত হানে। জুনে কৃষ্ণসাগরের কনস্তান্টা বন্দরে ইউক্রেনের একটি নিয়ন্ত্রণহীন সামুদ্রিক ড্রোন বিস্ফোরিত হয়। জুলাইয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থার মাধ্যমে তিনটি ড্রোন প্রতিহত করার পর রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতকে তলব করে বুখারেস্ট।

পূর্ব ইউরোপের আকাশসীমায় রুশ ড্রোনের অনুপ্রবেশকে ন্যাটো ও ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা এবং পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়ার সক্ষমতা যাচাইয়ের চেষ্টা হিসেবে দেখছেন অনেকে।

যুদ্ধ চলাকালে বাল্টিক রাষ্ট্রগুলোর আকাশসীমাতেও ড্রোন প্রবেশের ঘটনা ঘটেছে। আকাশসীমা লঙ্ঘনের ঘটনা নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে মে মাসের শেষ দিকে লাটভিয়ার সরকারের পতন হয়। সেপ্টেম্বরে নিজেদের আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে মস্কোর বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়ার পর আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা জোরদার করেছে পোল্যান্ড। এ ছাড়া মলদোভাতেও দুবার সন্দেহভাজন ড্রোন গুলি করে ভূপাতিত করা হয়েছে।

এদিকে রোমানিয়ার জাতীয় প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে কৃষ্ণসাগরে ভেসে থাকা নয়টি সামুদ্রিক মাইন ধ্বংস করেছে দেশটির নৌবাহিনী।