...|...|...

সারাদেশ

বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সিএনজি চালককে হত্যা

মৌলভীবাজার প্রতিনিধি
প্রকাশ: ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, রাত ১০:৫১
Shares
বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করায় সিএনজি চালককে হত্যা

গ্রেফতার আছমা বেগম (৩৮) এবং তার মেয়ে লিমা আক্তার (১৮)। ছবি: টাইমস টুডে

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে সিএনজিচালিত অটোরিকশাচালক আবুল কালাম বুলুচাঁন (৩৯) হত্যার চাঞ্চল্যকর রহস্য উদঘাটন করেছে পুলিশ। বিয়ের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করার জেরে ঘটিত এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে নিহতের আপন সমন্ধির স্ত্রী ও তার মেয়েকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

গ্রেফতারকৃতরা হলেন, আছমা বেগম (৩৮) এবং তার মেয়ে লিমা আক্তার (১৮)। আছমা বেগম জুড়ীর গোয়ালবাড়ি ইউনিয়নের পূর্ব কচুরগুল নালাপুঞ্জি এলাকার বাসিন্দা। নিহত কালাম পূর্ব জুড়ী ইউনিয়নের বড় ধামাই গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন।

ঘটনার বিবরণে পুলিশ জানায়, কালাম দুটি বিয়ে করেছিলেন এবং তার দ্বিতীয় স্ত্রী সম্পর্কে আছমার ননদ হন। আছমার স্বামী মারা যাওয়ার পর জীবিকা নির্বাহের জন্য একটি সিএনজি অটোরিকশা কিনে ভাড়ায় চালানোর জন্য কালামকে দিয়েছিলেন তিনি। এর সুবাদে কালামের ওই বাড়িতে নিয়মিত যাতায়াত ছিল এবং একপর্যায়ে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

গত মঙ্গলবার রাতে কালাম আছমাদের বাড়িতে গিয়ে তাকে বিয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু সামাজিক বিরূপ প্রতিক্রিয়া এবং সন্তানদের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে আছমা সেই প্রস্তাব নাকচ করে দেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বাকবিতণ্ডার একপর্যায়ে আছমা দা দিয়ে কালামকে উপর্যুপরি তিনটি কোপ দেন, এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।

হত্যাকাণ্ডের পর প্রমাণ গোপনের উদ্দেশ্যে আছমা ও তার মেয়ে লিমা মিলে একটি কলাগাছের ভেলায় কালামের মরদেহ বেঁধে বাড়ির পাশের একটি খালে ফেলে দেন। পরবর্তীতে সেখান থেকে মরদেহটি ভেসে জুড়ী নদীতে চলে যায়। গত বৃহস্পতিবার দুপুরে জুড়ীর জায়ফরনগর ইউনিয়নের জাঙ্গিরাই এলাকায় জুড়ী নদীতে ভাসমান অবস্থায় কালামের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। সুরতহাল প্রতিবেদনে তার গলায় ধারালো অস্ত্রের একাধিক আঘাতের চিহ্ন পাওয়া যায়।

এ ঘটনায় নিহতের ছোট ভাই হাফিজ উদ্দিন বাদী হয়ে জুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন। পরে পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ও নিহতের মুঠোফোনের কললিস্টের সূত্র ধরে আছমা ও লিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নেয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আছমা হত্যার সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত একটি রক্তমাখা দা ও কালামের মুঠোফোন জব্দ করা হয়।

জুড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম জানান, পুলিশ অল্প সময়ের মধ্যে এই হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটন করতে সক্ষম হয়েছে। গ্রেফতারকৃত মা-মেয়েকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়া চলছে এবং এই ঘটনার সাথে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।