চার বছর অপেক্ষার পর বিশ্বকাপে অনেক তারকার কাছ থেকে ছিল বড় প্রত্যাশা। কিন্তু মাঠের পারফরম্যান্সে সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটাতে পারেননি বেশ কয়েকজন বিশ্বখ্যাত ফুটবলার। হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে তাদের নিয়েই তৈরি করা হয়েছে টুর্নামেন্টের ফ্লপ একাদশ। এই একাদশের প্রধান কোচ হিসেবে রাখা হয়েছে পর্তুগালের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্টিনেজকে।
পর্তুগালকে শেষ ষোলোর গণ্ডি পেরোতে না পারায় সমালোচনায় পড়েন মার্টিনেজ। বিশেষ করে দলকে অতিরিক্ত ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোনির্ভর করে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন ওঠে।
গোলরক্ষক হিসেবে জায়গা পেয়েছেন জার্মানির ম্যানুয়েল ন্যয়ার। অবসর ভেঙে ফেরার পর আগের ধার দেখাতে পারেননি তিনি। কুরাসাও ও আইভরি কোস্টের বিপক্ষে গোল হজমের পাশাপাশি গ্রুপ পর্বে একাধিক ভুল সিদ্ধান্ত জার্মানির জন্য বড় ক্ষতির কারণ হয়।
রক্ষণভাগে আছেন ইংল্যান্ডের রিস জেমস, ব্রাজিলের গ্যাব্রিয়েল মাগালেস, জার্মানির জোনাথন তাহ এবং ফ্রান্সের লুকাস দিগনে। ইনজুরির কারণে রিস জেমস পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র ৩১৮ মিনিট খেলতে পেরেছেন। গ্যাব্রিয়েলের পজিশনিং ভুল, বিশেষ করে নরওয়ের আর্লিং হালান্ডকে দেওয়া সহজ হেডের সুযোগ, ব্রাজিলের বিদায়ের অন্যতম কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
জোনাথন তাহ চার ম্যাচে একবারও ক্লিন শিট রাখতে পারেননি, পাশাপাশি টাইব্রেকারে পেনাল্টি মিস করে দলের বিদায় ত্বরান্বিত করেন। অন্যদিকে দিগনে পুরো টুর্নামেন্টে ফ্রান্সের দুর্বলতম পারফরমারদের একজন ছিলেন। সেমিফাইনালে লামিনে ইয়ামালকে ফাউল করে পেনাল্টি উপহার দেন তিনি।
মিডফিল্ডে জায়গা পেয়েছেন উরুগুয়ের ফেদে ভালভার্দে, পর্তুগালের ভিতিনহা এবং জার্মানির লেরয় সানে। কোচ মার্সেলো বিয়েলসার সঙ্গে মতবিরোধের গুঞ্জনের মাঝে নিজের ছন্দ খুঁজে পাননি ভালভার্দে। পিএসজির হয়ে দুর্দান্ত মৌসুম কাটালেও জাতীয় দলে নিজের স্বাভাবিক নিয়ন্ত্রণ ও পাসিং ফুটিয়ে তুলতে ব্যর্থ হন ভিতিনহা। আর লেরয় সানে সুযোগ পেলেও ভুল সিদ্ধান্ত ও লক্ষ্যভ্রষ্ট শটে আক্রমণভাগে কার্যকর হতে পারেননি।
আক্রমণভাগে রয়েছেন আইভরি কোস্টের ইয়ান দিওমান্দে, ইংল্যান্ডের ননি মাদুয়েকে এবং পর্তুগালের অধিনায়ক ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। দিওমান্দে পরিশ্রম করলেও গোল করার দক্ষতায় পিছিয়ে ছিলেন। মাদুয়েকে পাঁচ ম্যাচ খেলেও গোল বা অ্যাসিস্টের দেখা পাননি। আর রোনালদো তিন গোল করলেও প্রত্যাশার তুলনায় ছিলেন অনেকটাই নিষ্প্রভ। তার বদলি গঞ্জালো রামোস মাঠে নেমে বেশি প্রভাব ফেলায় রোনালদোকে শুরুর একাদশের বদলে ‘সুপার সাব’ হিসেবে ব্যবহার করা উচিত ছিল কি না-সে প্রশ্নও উঠেছে।
বিশ্বকাপের ফ্লপ একাদশ
গোলরক্ষক: ম্যানুয়েল ন্যয়ার
ডিফেন্ডার: রিস জেমস, গ্যাব্রিয়েল মাগালেস, জোনাথন তাহ, লুকাস দিগনে
মিডফিল্ডার: ফেদে ভালভার্দে, ভিতিনহা, লেরয় সানে
ফরোয়ার্ড: ইয়ান দিওমান্দে, ননি মাদুয়েকে, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো
প্রধান কোচ: রবার্তো মার্টিনেজ

