...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

বিটোপিয়া নিয়ে এলো ‘বিজনেস ব্রেইন’: এক ব্রেইনেই চলবে পুরো প্রতিষ্ঠান

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৫২
Shares
বিটোপিয়া নিয়ে এলো ‘বিজনেস ব্রেইন’: এক ব্রেইনেই চলবে পুরো প্রতিষ্ঠান

ছবি: সংগৃহীত

ব্যবসা পরিচালনা, অতিথি অভ্যর্থনা, তথ্যের সুরক্ষা এবং এআই অবকাঠামো—প্রতিষ্ঠানের এই চার প্রয়োজন সামনে রেখে চারটি এআই সমাধান উন্মোচন করেছে দেশের প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান বিটোপিয়া লিমিটেড।

বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে অনুষ্ঠিত ‘বাংলাদেশ এআই বিজনেস সামিট ২০২৬’-এ সমাধানগুলো প্রদর্শন করা হয়। বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় এবং ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই) যৌথভাবে সামিটটির আয়োজন করে।

এক প্ল্যাটফর্মে পুরো ব্যবসা
ব্যবসা যত বড় হয়, পরিচালনার কাজও তত জটিল হয়ে ওঠে। বিক্রয়, ক্রয়, মজুত, উৎপাদন, হিসাব, কর্মী ব্যবস্থাপনা—একেক বিভাগের তথ্য থাকে একেক জায়গায়। কোথাও পুরোনো সফটওয়্যার, কোথাও স্প্রেডশিট, আবার অনেক সিদ্ধান্তের জন্য নির্ভর করতে হয় ফোনকল ও নিয়মিত ফলো-আপের ওপর। ফলে সময় ও জনবল দুটোই বেশি লাগে, সিদ্ধান্ত নিতেও দেরি হয়।

এ সমস্যা সমাধানে এবং সব ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের কর্মদক্ষতা বাড়াতে বিটোপিয়া লিমিটেড তৈরি করেছে এআই এজেন্টচালিত ইআরপি সমাধান ‘বিজনেস ব্রেইন’ (https://getbusinessbrain.ai/)। এর লক্ষ্য প্রতিষ্ঠানের গুরুত্বপূর্ণ ব্যবসায়িক তথ্য এক জায়গায় আনা। বিক্রয়, উৎপাদন, সরবরাহব্যবস্থা, ক্রয়, হিসাব, মজুত ও কর্মী ব্যবস্থাপনার তথ্য একই প্ল্যাটফর্ম থেকে দেখা যাবে। এর এআই এজেন্টগুলো প্রতিষ্ঠানের অনুমোদিত তথ্য বিশ্লেষণ করে পরবর্তী করণীয় প্রস্তাব করতে এবং নিয়মিত ফলো-আপে সহায়তা করতে পারে।

সহজভাবে বললে, প্রতিদিন যেসব কাজের জন্য কর্মীদের বারবার তথ্য খুঁজতে, মিলিয়ে দেখতে বা অন্য বিভাগকে তাগাদা দিতে হয়, তার একটি অংশ এআইয়ের মাধ্যমে দ্রুত করা সম্ভব হবে। এতে কর্মীরা তুলনামূলক গুরুত্বপূর্ণ কাজে বেশি সময় দিতে পারবেন। তবে বড় বা ঝুঁকিপূর্ণ কোনো সিদ্ধান্ত এআই নিজে নেবে না; এর জন্য সংশ্লিষ্ট দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তির অনুমোদন লাগবে।

বিটোপিয়ার লক্ষ্য শুধু প্রযুক্তির মাধ্যমে কাজের গতি বাড়ানো নয়; প্রতিষ্ঠানের পরিচালন ব্যয় কমানো এবং একই জনবল ও সম্পদ দিয়ে আরও বেশি কাজ করার সুযোগ তৈরি করাও। 

রিসেপশনে এআই ‘জয়া’
ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আরেকটি নিয়মিত কাজ হলো রিসেপশন পরিচালনা। একজন রিসেপশনিস্টকে দর্শনার্থীকে স্বাগত জানানো, আসার কারণ জানা, প্রয়োজনীয় তথ্য দেওয়া, নিবন্ধন করা, সঠিক বিভাগে পাঠানো এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানানোসহ একসঙ্গে অনেক কাজ সামলাতে হয়।

এই কাজগুলোর বড় অংশ স্বয়ংক্রিয় করতে বিটোপিয়া এনেছে এআই রিসেপশনিস্ট ‘জয়া’ (Joya) (https://getjoya.ai/)। জয়া দর্শনার্থীর প্রয়োজন বুঝে প্রশ্নের উত্তর দিতে, দিকনির্দেশনা দিতে, অতিথি নিবন্ধন করতে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে জানাতে পারে। করপোরেট অফিসের পাশাপাশি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ব্যাংক, হোটেল, বিশ্ববিদ্যালয় ও সরকারি দপ্তরেও জয়া ব্যবহার করা যাবে।

তথ্য দেশে, নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠানের হাতে
অনেক প্রতিষ্ঠানের কর্মী এখন কাজের প্রয়োজনে বিদেশি পাবলিক চ্যাটবট ব্যবহার করছেন। গ্রাহকের তথ্য, চুক্তির খসড়া কিংবা অভ্যন্তরীণ নথি সেখানে চলে যাচ্ছে। সেই তথ্য থাকে বিদেশের সার্ভারে, চলে বিদেশি আইনে, আর কোন তথ্য রাখা হবে তা ঠিক করে সেবাদাতা প্রতিষ্ঠান। ব্যাংক, আর্থিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি দপ্তরের জন্য এটি গোপনীয়তা ও নিয়ন্ত্রক ঝুঁকি তৈরি করে। এ সমস্যার সমাধানে সামিটে নিজস্ব এআই এজেন্ট ‘বেটো’ (Beto) (https://beto.sh/) উন্মোচন করেছে বিটোপিয়া। 

বেটো চলে ঢাকায় স্থাপিত ডেডিকেটেড জিপিইউতে, যা অন্য কোনো গ্রাহকের সঙ্গে ভাগাভাগি করা হয় না। ফলে তথ্য বাংলাদেশের ভেতরেই থাকে। প্রতিষ্ঠান চাইলে বেটোর মতো নিজস্ব এআই নিজের ক্লাউড বা সার্ভারেও চালাতে পারে। প্রতিষ্ঠানের দেওয়া তথ্য দিয়ে অন্য কারও এআই মডেল প্রশিক্ষণ দেওয়া হয় না।

দেশের জিপিইউতে এআই, খরচ ব্যবহার অনুযায়ী
দেশে এআই দিয়ে সেবা তৈরি করতে গেলে প্রতিষ্ঠানগুলোর সামনে এখন দুটি পথ। বিদেশি এআই সেবা ব্যবহার করলে খরচ মেটাতে হয় ডলারে, আর তথ্য চলে যায় দেশের বাইরে। নিজস্ব জিপিইউ সার্ভার বসাতে গেলে লাগে বড় বিনিয়োগ, বিদ্যুৎ ও শীতলীকরণের ব্যবস্থা এবং দক্ষ জনবল। এর সমাধান হিসেবে ইনফারেন্স ক্লাউড ‘কিউসর’ (QSor) (https://qsor.cloud/) এনেছে বিটোপিয়া। কিউসর এই দুই পথের মাঝখানে তৃতীয় একটি পথ। প্রতিষ্ঠান কিউসরের জিপিইউতে ওপেন সোর্স এআই মডেল চালাতে পারে এবং যতটুকু ব্যবহার, ততটুকুরই খরচ দেয়। লাইভ ড্যাশবোর্ডে দেখা যায় কোন মডেল কতটা ব্যবহার হলো এবং কত খরচ হলো। ডেভেলপাররা এপিআইয়ের মাধ্যমে নিজেদের অ্যাপ্লিকেশন, চ্যাটবট বা এআই এজেন্ট কিউসরের সঙ্গে যুক্ত করতে পারেন। সার্ভার দেশের ভেতরে হওয়ায় তথ্য বাংলাদেশের বাইরে যায় না। বিস্তারিত: qsor.cloud

অভিজ্ঞতার ভিতে আগামীর প্রযুক্তি
সামিটে মিল্কিওয়ে হলের ২৮ নম্বর স্টলে দর্শনার্থীরা বিটোপিয়ার এআই সমাধানগুলোর ব্যবহার সরাসরি দেখার সুযোগ পান। প্রায় ১৪ বছরের পথচলায় দেশি-বিদেশি বিপুলসংখ্যক ব্যবসায়ী ও প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে কাজ করার অভিজ্ঞতা অর্জন করেছে বিটোপিয়া। ব্যবসার পরিচালন ব্যয় কমানো, কর্মদক্ষতা বাড়ানো এবং দৈনন্দিন কাজ সহজ করতে ভবিষ্যতে আরও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি সমাধান আনার পরিকল্পনা রয়েছে প্রতিষ্ঠানটির।