...|...|...

বিনোদন

বিটিএসের পর এবার গ্র্যামি বয়কট করলো স্ট্রে কিডস

সাদিয়া ইসলাম
প্রকাশ: ৪ অক্টোবর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:০৬
Shares
বিটিএসের পর এবার গ্র্যামি বয়কট করলো স্ট্রে কিডস

২০২৭ সালের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডস ঘিরে বিতর্ক যেন থামছেই না। এবার পুরস্কারের বিবেচনার জন্য কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড স্ট্রে কিডস। এর আগে একই পথে হেঁটেছিল বিশ্বজুড়ে আলোচিত আরেক কে-পপ ব্যান্ড বিটিএস।

বিতর্কের সূত্রপাত গত জুনে। তখন গ্র্যামির আয়োজক রেকর্ডিং একাডেমি ‘বেস্ট এশিয়ান পপ’ নামে নতুন একটি বিভাগ চালুর ঘোষণা দেয়। এশীয় পপ সংগীতের বৈশ্বিক জনপ্রিয়তার স্বীকৃতি হিসেবেই বিভাগটি চালু করা হচ্ছে বলে জানানো হলেও সিদ্ধান্তটি শুরু থেকেই প্রশ্নের মুখে পড়ে।

সমালোচকদের আশঙ্কা, এশীয় সংগীতের জন্য আলাদা বিভাগ চালু হলে কে-পপ জে-পপসহ এশিয়ার জনপ্রিয় শিল্পীরা গ্র্যামির মূল বিভাগগুলো থেকে আরও দূরে সরে যেতে পারেন। বিশেষ করে অ্যালবাম অব দ্য ইয়ার বা সং অব দ্য ইয়ারের মতো প্রধান বিভাগে এশীয় শিল্পীদের স্বীকৃতি পাওয়ার সুযোগ কমে যাওয়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

সম্প্রতি স্ট্রে কিডসের রেকর্ড লেবেল জেওয়াইপি এন্টারটেইনমেন্ট জানিয়েছে, ২০২৭ সালের গ্র্যামির কোনো বিভাগেই ব্যান্ডটির গান জমা দেওয়া হয়নি। এর আগে বিটিএসও জানায়, তারা নিজেদের কোনো গান পুরস্কারের বিবেচনার জন্য পাঠাবে না।

বিটিএসের অবস্থান ছিল, কোনো সংগীতকে অঞ্চল বা ভাষার পরিচয়ে সীমাবদ্ধ না রেখে তার নিজস্ব পরিচয়ে শোনা ও ভালোবাসার ভিত্তিতে মূল্যায়ন করা উচিত। ফলে ‘বেস্ট এশিয়ান পপ’ বিভাগ নিয়ে চলমান বিতর্ক আরও জোরালো হয়। 

স্ট্রে কিডস অবশ্য গ্র্যামি নিয়ে সরাসরি কোনো অবস্থান জানায়নি। তবে, আগস্টে তাদের নতুন অ্যালবাম ‘দিস অ্যান্ড দ্যাট’-এর প্রচার উপলক্ষে সংবাদ সম্মেলনে সদস্য হোয়াং হিয়ন-জিন বলেছিলেন, পুরস্কার বা রেকর্ড কখনোই তাদের লক্ষ্য ছিল না। তাদের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার ভক্তরা যেন খুশি ও সন্তুষ্ট থাকেন।

নতুন বিভাগের নিয়ম নিয়েও উঠেছে প্রশ্ন। মনোনীত গানে এশিয়ার কোনো ভাষার ‘অর্থবহ ব্যবহার’ থাকার শর্ত রাখা হয়েছে। ফলে বিটিএস ও ব্ল্যাকপিংকের মতো আন্তর্জাতিকভাবে পরিচিত কোরিয়ান ব্যান্ডগুলোর সাম্প্রতিক ইংরেজি নির্ভর গান এই বিভাগে যোগ্য হবে না। 

তবে স্ট্রে কিডস ও বিটিএসের সিদ্ধান্তের পরও নতুন বিভাগটি বাতিল করছে না রেকর্ডিং একাডেমি। গ্র্যামির প্রধান হার্ভে ম্যাসন জুনিয়র সম্প্রতি জানিয়েছেন, ২০২৭ সালের অনুষ্ঠানে এশিয়ান পপ বিভাগ থাকছে।  তার ভাষায়, এই সিদ্ধান্ত সবাইকে সন্তুষ্ট করবে না। তবে এশিয়ার সংগীতকে যথাযথভাবে সম্মান জানানোর বিষয়ে আলোচনা চালিয়ে যাবে একাডেমি। 

নতুন বিভাগ চালুর সমর্থকেরা অবশ্য বলছেন, বিশ্বজুড়ে এশীয় পপ সংগীতের ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং প্রভাবকে স্বীকৃতি দিতেই আলাদা বিভাগ প্রয়োজন। এতে এশীয় শিল্পীদের জন্য আরও বেশি সুযোগ তৈরি হবে বলেও তাদের মত। তবে বিরোধীদের বক্তব্য, এ ধরনের পৃথকীকরণ মূল গ্র্যামি বিভাগে এশীয় শিল্পীদের প্রতিনিধিত্ব বাড়ানোর বদলে উল্টো তাদের আলাদা একটি গণ্ডির মধ্যে সীমাবদ্ধ করতে পারে।

বিটিএস ও স্ট্রে কিডসের অবস্থানের প্রতি সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন আরেক জনপ্রিয় কে-পপ ব্যান্ড এটিজের নেতা কিম হং-জুং। এক সাক্ষাৎকারে তিনি জানান, বিটিএসের সিদ্ধান্ত তাকে ভাবিয়েছে এবং তিনিও বিষয়টি একই দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বিবেচনা করতে পারেন।

এখন নজর থাকবে অন্য এশীয় ও কে-পপ শিল্পীদের দিকে। ২০২৭ সালের ১০ ডিসেম্বর গ্র্যামির মনোনয়ন ঘোষণার পর পরিষ্কার হবে, কোন কোন শিল্পী ও ব্যান্ড নিজেদের গান পুরস্কারের জন্য জমা দিয়েছেন এবং নতুন ‘বেস্ট এশিয়ান পপ’ বিভাগ শেষ পর্যন্ত কতটা গ্রহণযোগ্যতা পায়।