স্পেনের তরুণ তারকা নিকো উইলিয়ামসকে দলে পেতে আগ্রহী ছিল বার্সেলোনা। তবে ২০২৫ সালের গ্রীষ্মকালীন দলবদলে কাতালান ক্লাবটিতে যোগ না দিয়ে অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের সাথে চুক্তি নবায়ন করেন এই উইঙ্গার। ২০৩৫ সাল পর্যন্ত বিলবাওয়ে থাকার সিদ্ধান্তের পেছনে বড় কারণ ছিল বার্সেলোনার নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা এবং নিয়মিত খেলার নিশ্চয়তার অভাব। এক বছর পর সেই আলোচিত দলবদল ভেস্তে যাওয়ার কারণ জানিয়েছেন নিকোর এজেন্ট ফেলিক্স তাইন্তা। গোল ডটকমের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
‘লস ফুলানোস’ পডকাস্টে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তাইন্তা জানান, বার্সেলোনায় যোগ দিলে নিকো নিয়মিত মাঠে নামতে পারবেন কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা ছিল। এমনকি তাকে নিবন্ধন করিয়ে খেলানোর নিশ্চয়তাও দিতে পারেনি ক্লাবটি। স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম ‘মুন্দো দেপোর্তিভো’র বরাতে তাইন্তা বলেন, ‘আমরা বার্সেলোনার সাথে কথা বলেছিলাম। পুরো বিষয়টি সম্পর্কে অ্যাথলেটিক বিলবাওও অবগত ছিল। আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে আমি নিয়মিত তাদের জানাতাম, যদিও আলোচনা যেভাবে এগোচ্ছিল, তা নিয়ে বার্সেলোনার ওপর তাদের ক্ষোভ ছিল।’
দলবদল নিয়ে আলোচনার একপর্যায়ে নিকোর পেশাগত ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগ বাড়তে থাকে বলে জানান তার এজেন্ট। নিয়মিত খেলার সুযোগ একজন ফুটবলারের জন্য কতটা জরুরি, সেটিও তুলে ধরেন তিনি। তাইন্তার ভাষায়, ‘একপর্যায়ে নিকোর পক্ষে আর খেলার বাইরে থাকা সম্ভব হচ্ছিল না। নিকো একটি ফর্মুলা ওয়ান গাড়ির মতো। তাকে সব সময় গতির মধ্যে রাখতে হয়। আমি যখন আপনার ক্লাবে আসব, তখন আপনার সমস্যার বোঝা আমাকে বহন করতে হবে কেন? বার্সেলোনাকে আমি বিষয়টি পরিষ্কারভাবে বুঝিয়ে দিয়েছিলাম।’
নিকোকে বার্সেলোনায় পাঠানোর আগে নির্দিষ্ট কিছু নিশ্চয়তা চেয়েছিলেন বলেও জানান তাইন্তা। তার মতে, সামনে বিশ্বকাপ থাকায় নিয়মিত ম্যাচ খেলার বিষয়টি আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছিল। তিনি বলেন, ‘আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম, নির্দিষ্ট কিছু নিশ্চয়তা না পেলে নিকোকে সেখানে পাঠিয়ে ঝুঁকি নেয়া যাবে না। বিশ্বকাপ সামনে ছিল। সেটি বাদ দিলেও একজন পেশাদার ফুটবলারের নিয়মিত অনুশীলন ও খেলার সুযোগ প্রয়োজন।’
বার্সেলোনার আর্থিক ও নিবন্ধনসংক্রান্ত সমস্যার দায় নিজের খেলোয়াড়ের ওপর পড়ুক, তা চাননি নিকোর এজেন্ট। এ বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘আমি আপনার ক্লাবে আসছি নিজের পেশাগত দায়িত্ব পালন করতে। তাই আমাকে কাজ চালিয়ে যেতে হবে। আপনার কোনো সমস্যা থাকলে তার প্রভাব আমার ওপর পড়া উচিত নয়। আর সেই সমস্যা আমার ওপর প্রভাব ফেলবে না, এমন নিশ্চয়তা যদি আপনি দিতে না পারেন, তাহলে আমার সিদ্ধান্ত বদলাতেই পারে। শেষ পর্যন্ত সেটাই ঘটেছে।’
নিকোকে দলে নেওয়ার আগ্রহ বার্সেলোনার বহুদিনের। ২০২৪ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে স্পেনের হয়ে দারুণ পারফরম্যান্সের পর ইউরোপের বেশ কয়েকটি বড় ক্লাব তাকে পেতে আগ্রহী হয়ে ওঠে। তাইন্তার দাবি, বার্সেলোনার পাশাপাশি আর্সেনাল, বায়ার্ন মিউনিখ, লিভারপুল ও প্যারিস সেন্ট জার্মেইও নিকোকে দলে নিতে চেয়েছিল।
তবে বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহের মধ্যেও অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ের প্রতি আনুগত্য দেখিয়েছেন এই স্প্যানিশ উইঙ্গার। ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ক্লাবটির সাথে চুক্তি নবায়ন করেন তিনি। চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করলে বিনা ট্রান্সফার ফিতে অন্য ক্লাবে যাওয়ার সুযোগ পেতে পারতেন নিকো। সে ক্ষেত্রে বড় অঙ্কের সাইনিং বোনাস পাওয়ার সম্ভাবনাও থাকত।
তবে বিলবাও ছাড়ার চিন্তা যে কখনোই তার মাথায় আসেনি, তা নয়। ক্যারিয়ারে আরও বড় সাফল্য অর্জন এবং ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতাগুলোতে শিরোপা জয়ের আকাঙ্ক্ষা থেকেই ক্লাব বদলের কথা ভেবেছিলেন নিকো। এ বিষয়ে তাইন্তা বলেন, ‘নিকো ক্লাব ছাড়ার কথা ভাবছিল। অ্যাথলেটিক বিলবাওয়ে খেললে আপনি ক্লাবটির সম্ভাবনার সীমাবদ্ধতা বুঝতে পারেন। আপনি জানেন, এখানে চ্যাম্পিয়নস লিগ জেতা সম্ভব হবে না, এমনকি লা লিগা জেতাও কঠিন হতে পারে।’
তবে শিরোপা জয়ের স্বপ্ন কিংবা বড় ক্লাবের প্রস্তাবই নিকোর সিদ্ধান্তের একমাত্র নিয়ামক ছিল না। বার্সেলোনায় যোগ দিয়ে নিয়মিত খেলার সুযোগ পাওয়া এবং ক্লাবটির আর্থিক ও নিবন্ধনসংক্রান্ত জটিলতা থেকে নিজের ক্যারিয়ারকে সুরক্ষিত রাখার নিশ্চয়তাও তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শেষ পর্যন্ত সেই নিশ্চয়তা না মেলায় বার্সেলোনায় যাওয়ার বদলে বিলবাওয়েই থাকার সিদ্ধান্ত নেন এই উইঙ্গার।



