...|...|...

খেলা

ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ বিতর্কের পর লাল কার্ডের নিয়ম কঠোর করছে ফিফা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, সকাল ১১:০১
Shares
ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ বিতর্কের পর লাল কার্ডের নিয়ম কঠোর করছে ফিফা

ছবি: সংগৃহীত

২০২৬ বিশ্বকাপে ফোলারিন বালোগুনের লাল কার্ড ও তা নিয়ে বিতর্কের পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে শৃঙ্খলাবিধিতে পরিবর্তন আনার উদ্যোগ নিয়েছে ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা। ভবিষ্যতে লাল কার্ডের শাস্তি কার্যকর করা নিয়ে যেন কোনো অস্পষ্টতা না থাকে, সে জন্য নিয়ম আরও স্পষ্ট করার পরিকল্পনা করছে সংস্থাটি। ঘটনাটি ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কথিত হস্তক্ষেপের অভিযোগও ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল।

২০২৬ বিশ্বকাপে বসনিয়া ও হার্জেগোভিনার বিপক্ষে শেষ-৩২ পর্বের ম্যাচে বিতর্কিত সিদ্ধান্তে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন যুক্তরাষ্ট্রের ফরোয়ার্ড বালোগুন। এরপর ওই সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবি ওঠে। তবে প্রচলিত নিয়মে সরাসরি লাল কার্ডের বিরুদ্ধে আপিলের সুযোগ না থাকলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিষয়টিতে হস্তক্ষেপ করেন এবং নিজের ভাষায় বিষয়টি ‘দেখে নেওয়ার’ আশ্বাস দেন।

পরবর্তী সময়ে বালোগুনের লাল কার্ডের শাস্তি স্থগিত করা হয়। তবে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো দাবি করেন, এই সিদ্ধান্তের পেছনে ট্রাম্পের কোনো ভূমিকা ছিল না। তারপরও ঘটনাটি নিয়ে ফুটবল অঙ্গনে বিতর্ক থামেনি। শাস্তি স্থগিতের সিদ্ধান্তের পর বিষয়টি আরও জটিল হয়ে ওঠে।

শেষ-১৬ পর্বে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিপক্ষ বেলজিয়ামও এ নিয়ে আপত্তি তোলে। ম্যাচে হেরে গেলে বিষয়টি আন্তর্জাতিক ক্রীড়া আদালত বা ‘কোর্ট অব আরবিট্রেশন ফর স্পোর্টস’ (সিএএস)-এ নেওয়ার হুমকি দেয় দলটি। ফলে মাঠের একটি সিদ্ধান্ত ঘিরে তৈরি হয় বড় ধরনের প্রশাসনিক ও আইনি বিতর্ক।

ঘটনার তিন মাস পর এ ধরনের পরিস্থিতি এড়াতে নিয়ম সংশোধনের উদ্যোগ নিয়েছে ফিফা। প্রস্তাবিত বিধিতে বলা হবে, কোনো খেলোয়াড়কে ভুল করে লাল কার্ড না দেখানোর ঘটনা ছাড়া লাল কার্ডের ক্ষেত্রে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করা বাধ্যতামূলক হবে।

আইন পরিবর্তন নিয়ে এক ব্রিফিং নথিতে ফিফার কর্মকর্তারা বলেন, ‘লাল কার্ড পাওয়ার পর যে স্বয়ংক্রিয় নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হয়, তা কীভাবে বাস্তবায়িত হবে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ বা স্পষ্টতার অভাব কখনোই ছিল না। বিশ্বকাপে বালোগুন ইস্যুটি যেভাবে সামলানো হয়েছিল, এই পদক্ষেপের মাধ্যমে ফিফা মূলত সেই ভুলেরই সংশোধন আনছে।’

এদিকে ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনো ও সংস্থাটির কার্যক্রম নিয়ে অন্য একটি বিতর্কও চলছে। ফিফার পরিচালনাধীন টুর্নামেন্টগুলোর মালিকানা বা শেয়ার বেসরকারি খাতের কাছে বিক্রির পরিকল্পনা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছে সংস্থাটি।

এ লক্ষ্যে তৈরি একটি প্রস্তাবে বলা হয়েছিল, ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের প্রত্যেকে এই উদ্যোগে সমর্থন জানালে তাদের ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড করে দেওয়া হবে। টুর্নামেন্টে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ তৈরির এই পরিকল্পনাও ফুটবল প্রশাসনে বিতর্ক বাড়িয়েছে।