...|...|...

খেলা

মেসিকে কেন সর্বকালের সেরা বললেন সাবেক পিএসজি তারকা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:২৫ | আপডেট: ১৬ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৩:৩০
Shares
মেসিকে কেন সর্বকালের সেরা বললেন সাবেক পিএসজি তারকা

লিওনেল মেসি। ছবি: সংগৃহীত

একই ড্রেসিংরুমে লিওনেল মেসি, নেইমার জুনিয়র, কিলিয়ান এমবাপে ও আনহেল দি মারিয়ার মতো তারকাদের সাথে সময় কাটানোর অভিজ্ঞতা হয়েছিল স্প্যানিশ মিডফিল্ডার অন্দের এরেরার। প্যারিস সেন্ট-জার্মেইয়ে (পিএসজি) খেলার সেই অভিজ্ঞতা থেকে মেসিকে সর্বকালের সেরা ফুটবলার হিসেবে বেছে নিয়েছেন তিনি। ইংল্যান্ডের সাবেক তারকা ডিফেন্ডার রিও ফার্দিনান্দের সাথে ক্যারিয়ার নিয়ে আলোচনায় আর্জেন্টাইন কিংবদন্তির অনন্য প্রতিভা ও অনুশীলনে তার ধারাবাহিকতার কথা তুলে ধরেন এরেরা।

মেসির সাথে একই দলে খেলার অভিজ্ঞতা নিয়ে এরেরা বলেন, ‘এমন কিছু ফুটবল বিশ্বে আর কখনোই দেখা যাবে না।’ বর্তমানে সারাগোসার হয়ে খেলা এই মিডফিল্ডার ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড ও পিএসজিতে থাকার সুবাদে থমাস টুখেল সম্পর্কেও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন। তবে বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ইংলিশ এই কোচের কিছু সিদ্ধান্ত তাকে অবাক করেছে বলেও জানান তিনি।

প্যারিসে খেলার সময় তারকায় ঠাসা পিএসজি দলের গুরুত্বপূর্ণ সদস্য ছিলেন এরেরা। রিও ফার্দিনান্দ যখন দলের তিন তারকার কথা উল্লেখ করেন, তখন হাসতে হাসতে আরেকজনের নাম মনে করিয়ে দেন স্প্যানিশ এই ফুটবলার। তিনি বলেন, ‘আপনি কিন্তু দি মারিয়ার কথা ভুলে গেছেন! ওই চারজন তো ফুটবল বিশ্বের একেকটি দানব, হা হা।’

এত বড় মাপের খেলোয়াড়দের সাথে মানিয়ে নিয়ে খেলার কৌশল সম্পর্কেও নিজের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন এরেরা। তার মতে, সতীর্থদের চাহিদা বোঝা এবং নিজের সামর্থ্যের বাইরে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় কিছু করার চেষ্টা না করাই গুরুত্বপূর্ণ।

এ বিষয়ে তিনি বলেন, ‘তাদের সাথে আমার চমৎকার সম্পর্ক ছিল, যা মাঠে খুব সাহায্য করত। তারকাদের সাথে কীভাবে মানিয়ে নিতে হয়, সেই সহানুভূতি বা বোঝাপড়া আমার ছিল। আমি জানতাম তারা আমাকে আরও উন্নত ফুটবলারে পরিণত করবেন। মেসি বা নেইমারের মতো খেলোয়াড়রা চান আপনি তাদের পায়ে বল বাড়িয়ে দিন এবং পে পেছনে তাদের সাপোর্ট হিসেবে থাকুন, যাতে প্রয়োজন হলে তারা ব্যাক পাস দিতে পারেন। আপনি যদি নিজের ক্ষমতার বাইরে গিয়ে অতিরিক্ত কিছু করতে যান, তবেই ভুল করবেন। কিন্তু আপনি যদি নিজের সীমা এবং দায়িত্বটা ঠিকঠাক বোঝেন যাতে তারা খেলাটা উপভোগ করতে পারেন, তবে তাদের সাথে খেলা খুবই সহজ।’

তবে সতীর্থদের মধ্যে মেসিকে অন্যদের চেয়ে আলাদা মনে হয়েছে এরেরার। শুধু ম্যাচে নয়, প্রতিদিনের অনুশীলনেও আর্জেন্টাইন তারকার দক্ষতা ও ধারাবাহিকতা তাকে মুগ্ধ করেছিল। অনুশীলনে মেসির বল না হারানোর অভিজ্ঞতাকে অবিশ্বাস্য হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

এরেরা বলেন, ‘মেসি আমার কাছে এমন একজন, যা আমরা আর কখনো দেখতে পাব না। এটা কেবল ম্যাচের কথা বলছি না, প্রতিটা ট্রেনিং সেশনের কথা। অনুশীলনে তিনি কতবার বল হারিয়েছেন, তা আমি গুনে বলতে পারি শূন্য! এমনকি রন্ডোতেও (বলের নিয়ন্ত্রণ রাখার অনুশীলন) তিনি কখনো মাঝে যাননি, অর্থাৎ তিনি কখনোই বল হারাননি।’

মেসির ধারাবাহিকতা বোঝাতে নেইমারের সাথে তুলনাও টেনেছেন এরেরা। তার মতে, নেইমার অনুশীলনে সব দিন সমান মনোযোগী না থাকলেও ম্যাচে নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিতেন। কিন্তু মেসি অনুশীলন থেকে শুরু করে প্রতিটি পর্যায়েই একই রকম নিষ্ঠা দেখাতেন।

এ বিষয়ে এরেরা বলেন, ‘বিষয়টি সত্যিই অবিশ্বাস্য ছিল। উদাহরণস্বরূপ, নেইমারের কথা বললে আপনি জানতেন যে অনুশীলনে কোনো কোনো দিন হয়তো তিনি খুব একটা মনোযোগী নাও থাকতে পারেন, কিন্তু মূল ম্যাচে নামলেই তিনি দুর্দান্ত পারফর্ম করবেন। তবে লিও প্রতিটা দিন, প্রতিটা সেশনে একইভাবে সেরাটা দিতেন... এটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আর এই কারণেই তিনি এখনো এত শক্তভাবে টিকিয়ে রেখেছেন নিজেকে। ৩৯ বছর বয়সেও বিশ্বকাপের মতো জায়গায় তিনি হয়তো পুরোটা সময় খেলায় প্রভাব ফেলছেন না, কিন্তু ৭৫ মিনিটের মাথায় বল পেলেই আপনাকে ম্যাচ জিতিয়ে দিচ্ছেন। এক কথায় অসাধারণ!’