বাংলাদেশসহ এশিয়ার আটটি দেশে বড় ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের ঝুঁকি বাড়ছে বলে সতর্ক করেছেন গবেষকরা। ঝুঁকিতে থাকা দেশগুলোর তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, নেপাল, ভুটান, চীন, আফগানিস্তান ও মিয়ানমার।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমসের (১৮ সেপ্টেম্বর) এক প্রতিবেদনে আন্তর্জাতিক বিভিন্ন গবেষণার তথ্যের ভিত্তিতে এ সতর্কবার্তার কথা তুলে ধরা হয়েছে।
সম্প্রতি নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলে হিমবাহ ধসের পর হিমালয় ঘিরে থাকা দেশগুলোর ঝুঁকি নতুন করে সামনে এসেছে। আন্তর্জাতিক সমন্বিত পর্বত উন্নয়ন কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, হিমবাহ ধসের প্রভাব শুধু পাহাড়ি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকে না; আফগানিস্তান থেকে মিয়ানমার পর্যন্ত প্রায় সাড়ে তিন হাজার কিলোমিটারজুড়ে বিস্তৃত উজান ও ভাটি অঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে পারে।
গবেষকদের আশঙ্কা, হিমালয়ে দ্রুত হিমবাহ গলে যাওয়া এবং দীর্ঘদিন জমাট থাকা মাটি বা পারমাফ্রস্ট নরম হয়ে পড়ায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যার ঝুঁকি বাড়ছে। একই সঙ্গে হিমবাহ হ্রদের বাঁধ ভেঙে বিপুল পরিমাণ পানি নেমে এসে নিচু এলাকার জনপদ প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কাও তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাজ্যের পরিবেশবিষয়ক পরামর্শক প্রতিষ্ঠান সিস্টেমিকের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের প্রায় ৪০ হাজার হিমবাহের মধ্যে মাত্র ২১টি নিয়মিতভাবে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। অথচ এই অঞ্চল থেকেই এশিয়ার ১০টি গুরুত্বপূর্ণ নদী ব্যবস্থার উৎপত্তি।
আমু দরিয়া, সিন্ধু, গঙ্গা, ব্রহ্মপুত্র, ইরাবতী, সালউইন, মেকং, ইয়াংসি, হলুদ নদী ও তারিম—এই নদীগুলোর পানি ভাটি অঞ্চলের প্রায় ২০০ কোটি মানুষের পানীয় জল, কৃষি, জীবিকা ও অর্থনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত।
এর মধ্যে গঙ্গা ও ব্রহ্মপুত্র নদী ব্যবস্থার সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ভারত হয়ে গঙ্গা বাংলাদেশে প্রবেশের পর পদ্মা নামে প্রবাহিত হয়েছে। আর তিব্বত থেকে উৎপত্তি হয়ে চীন ও ভারতের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে আসা ব্রহ্মপুত্রের প্রধান ধারা এখানে যমুনা নামে পরিচিত।
গবেষকদের উদ্বেগের বড় কারণ হিমবাহ হ্রদগুলোর ঝুঁকি। সিস্টেমিকের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শুধু ভারতীয় অংশেই প্রায় ২০০টি হিমবাহ হ্রদ বাঁধ ভেঙে যাওয়ার উচ্চ ঝুঁকিতে রয়েছে। এর মধ্যে ৫৬টিকে অত্যন্ত উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনের প্রধান লেখক ও সিস্টেমিকের জ্যেষ্ঠ পরিচালক অরুশি চোপড়া বলেন, এখন প্রশ্ন আর এমন ঘটনা ঘটবে কি না—তা নয়; বরং কখন ঘটবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ঝুঁকি কমাতে হিমবাহ ও নদীগুলোর নিয়মিত নজরদারি, দেশগুলোর মধ্যে দ্রুত তথ্য বিনিময় এবং কার্যকর আগাম সতর্কবার্তা ব্যবস্থা জরুরি। পাশাপাশি দুর্যোগের সময় ঝুঁকিপূর্ণ এলাকার মানুষকে দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সক্ষমতাও বাড়াতে হবে। এসব ব্যবস্থা শক্তিশালী করা গেলে বন্যা ও ভূমিধসের মতো দুর্যোগে প্রাণহানি কমানো সম্ভব বলে মনে করছেন তারা।


