চট্টগ্রামের ফটিকছড়ি উপজেলার উত্তর ফটিকছড়ির নারায়ণহাট ইউনিয়নের মির্জারহাট হালদারকূল এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত জরাজীর্ণ ঘরে দীর্ঘদিন ধরে কষ্টে বসবাস করছিলেন সেনোয়ারা বেগম ও দেলোয়ারা বেগম। বৃষ্টি হলেই ঘরের চাল ও বিভিন্ন অংশ দিয়ে পানি পড়ত। নিরাপদ আশ্রয়ের অভাবে তাদের দিন কাটত চরম দুর্ভোগে।
বন্যার পর থেকে ধীরে ধীরে বসবাসের অনুপযোগী হয়ে পড়ে তাদের ঘরটি। ভাঙাচোরা সেই ঘরেই রাত-দিন কাটাতে হতো দুই নারীকে। বর্ষা এলেই বেড়ে যেত দুর্ভোগ। বৃষ্টির পানি ঢুকে পড়ত ঘরের ভেতরে। একটি নিরাপদ ঘর তাই তাদের কাছে দীর্ঘদিন ধরেই ছিল স্বপ্নের মতো।
অবশেষে স্থানীয় সামাজিক সংগঠন ‘হালদারকূল একতা সংঘ’ ও এলাকাবাসীর সম্মিলিত উদ্যোগে সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে। সংগঠনের উদ্যোগ এবং স্থানীয়দের সহযোগিতায় নির্মাণ করা হয়েছে সেনোয়ারা ও দেলোয়ারা বেগমের নতুন থাকার ঘর।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) স্থানীয় ইউপি সদস্য শওকত ওসমানের উপস্থিতিতে দুই নারীর হাতে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন সংগঠনের দায়িত্বশীল সদস্যরা।
নতুন ঘর পেয়ে স্বস্তি ফিরেছে সেনোয়ারা ও দেলোয়ারা বেগমের জীবনে। দীর্ঘদিনের অনিশ্চয়তা কাটিয়ে নিরাপদ আশ্রয় পেয়ে তাদের চোখেমুখে ফুটে উঠেছে আনন্দের ছাপ।
স্থানীয়রা বলছেন, সমাজের বিত্তবান মানুষ ও তরুণরা অসহায়দের পাশে এভাবে দাঁড়ালে অনেক পরিবারের জীবন বদলে যেতে পারে। এমন মানবিক উদ্যোগের জন্য হালদারকূল একতা সংঘ ও সংশ্লিষ্ট তরুণদের প্রশংসা করেছেন তারা।
সংগঠনটি দীর্ঘদিন ধরে এলাকার দরিদ্র, অসহায় ও দুঃস্থ মানুষের পাশে থেকে বিভিন্ন মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। এবারও দুই নারীর দুর্দশার কথা বিবেচনায় নিয়ে তাদের জন্য ঘর নির্মাণে এগিয়ে আসে সংগঠনটি। এতে সহযোগিতা করেন স্থানীয় বাসিন্দারাও।
চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের সভাপতি মোহাম্মদ সোলাইমান, সহসভাপতি আবু তৈয়ব, সাধারণ সম্পাদক মো. সোহেল, সহসাধারণ সম্পাদক হেদায়েত উল্লাহ, অর্থ সম্পাদক মিজানসহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্য ও স্থানীয়রা।
একসময় যে ঘরে বৃষ্টি নামলেই পানি পড়ত, সেই ঘরই এখন তাদের নিরাপদ আশ্রয়। নতুন ঘর যেন শুধু মাথা গোঁজার ঠাঁই নয়, দুই অসহায় নারীর জীবনে নতুন করে স্বপ্ন দেখার সাহসও ফিরিয়ে দিয়েছে। মানুষের পাশে মানুষ দাঁড়ালে ছোট একটি উদ্যোগও যে কারও জীবনে বড় আশীর্বাদ হয়ে উঠতে পারে—সেনোয়ারা ও দেলোয়ারার হাসি যেন তারই উদাহরণ।


