দারুণ ভারসাম্যপূর্ণ এক দল নিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে পা রাখতে যাচ্ছে পর্তুগাল। দলটির রক্ষণভাগ ও মিডফিল্ডকে এবারের টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা হিসেবে আখ্যায়িত করছেন বিশ্লেষকরা। যে কারণে অনেকেই তাদের ‘ডার্ক হর্স’ তকমা দিচ্ছেন। তবে চিন্তার ভাঁজ রয়েছে আক্রমণভাগ নিয়ে। ফ্রান্সিসকো কনসেইসাও কিংবা পেদ্রো নেতোর মতো তরুণরা প্রতিভাবান হলেও ফিনিশিংয়ে এখনও ততটা নিখুঁত হয়ে ওঠেননি। অন্যদিকে, বয়সের ফ্রেমে দলের সবচেয়ে বড় তারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোও ক্যারিয়ারের সায়াহ্নে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতি হিসেবে খেলা দুটি প্রীতি ম্যাচে চিলি ও নাইজেরিয়াকে হারিয়েছে পর্তুগাল। দল জিতলেও জালের দেখা পাননি রোনালদো। আর এতেই বিশ্বকাপের আগে তার ফিটনেস নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বকাপ মিশন শুরুর আগে সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলে খোদ রোনালদোকেই শুনতে হয় এই প্রশ্ন—তিনি কি পুরোপুরি ফিট? এমন প্রশ্নে দৃশ্যতই বিরক্ত পর্তুগিজ মহাতারকা পাল্টা প্রশ্ন ছুড়ে দিয়ে বলেন, ‘শারীরিকভাবে? আপনি কি আমার খেলা দেখেননি? আমি পুরোপুরি ফিট।’
অধিনায়কের পাশে দাঁড়িয়ে আরও কড়া ভাষায় সমালোচকদের জবাব দিয়েছেন পর্তুগালের স্প্যানিশ কোচ রবার্তো মার্টিনেজ। শান্ত অথচ দৃঢ় কণ্ঠে তিনি বলেন, ‘রোনালদো চাইলে ২০৩০ বিশ্বকাপও খেলতে পারে। এ নিয়ে কারও সন্দেহ থাকা উচিত নয়। সে সর্বদা সাফল্যের জন্য ক্ষুধার্ত। একটি ম্যাচ বা শিরোপা জয়ের ঠিক পরের ম্যাচেও সে একই ক্ষুধা নিয়ে মাঠে নামে। পর্তুগালের তরুণ ফুটবলারদের মধ্যে আমরা তার এই আদর্শই ছড়িয়ে দিতে চাই।’
নিজেদের বিশ্বকাপ প্রস্তুতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্ট পাঁচবারের ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা রোনালদো। পর্তুগালের বর্তমান প্রজন্মকে নিয়ে দারুণ আশাবাদী তিনি। বিশ্বমঞ্চে ভালো কিছুর প্রত্যাশা জানিয়ে এই মহাতারকা বলেন, ‘আমরা বিশ্বকাপে মাঠে নামতে মুখিয়ে আছি। এটি সবসময়ই একটি বিশেষ টুর্নামেন্ট। ভালো কিছুর আশা নিয়েই আমরা এবারের যাত্রা শুরু করব।’
একসময় ফুটবল মহলে ধারণা ছিল, রোনালদোর বিদায়ের পর পর্তুগালের ফুটবল হয়তো পথ হারাবে। তবে ভিতিনিয়া, জোয়াও নেভেস কিংবা কনসেইসাওদের মতো তরুণ প্রতিভারা এরই মধ্যে জানান দিয়েছেন—ভবিষ্যতের ভার কাঁধে নিতে তারা পুরোপুরি প্রস্তুত। রোনালদো নিজেও বিশ্বাস করেন, পর্তুগিজ ফুটবলের এই উঠতি প্রজন্ম আগামী দিনে ভক্তদের অনেক আনন্দ উপহার দেবে।

