...|...|...

বিশ্ব

নেপালে আকস্মিক বন্যা

প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে রক্ষা পেল ৯০০ শিক্ষার্থী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩১ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:০৬ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৯:৪৪
Shares
প্রধান শিক্ষকের দ্রুত সিদ্ধান্তে রক্ষা পেল ৯০০ শিক্ষার্থী

নেপালের নুয়াকোটে বন্যার ঝুঁকি সম্পর্কে একের পর এক সতর্কবার্তা পাওয়ার পর দ্রুত সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রায় ৯০০ শিক্ষার্থীকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছেন একটি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। তার এই সিদ্ধান্তের কারণে ভয়াবহ বন্যার কবল থেকে রক্ষা পেয়েছে শিক্ষার্থীরা।

নুয়াকোটের ত্রিভুবন ত্রিশূলি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রাজেন্দ্র দাওয়াদি জানান, বন্যার আশঙ্কার বিষয়ে মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে তিনি চারটি ফোনকল পান। বিদ্যালয়টিতে শিক্ষার্থীর সংখ্যা ১ হাজার ৬০০-এর বেশি।

সতর্কবার্তাগুলোর একটিতে জানানো হয়, উজানের বেত্রাবতী বসতি দিয়ে ইতোমধ্যে বন্যার পানি নামতে শুরু করেছে। পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে দেরি না করে শিক্ষার্থীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন দাওয়াদি।

তিনি বলেন, ‘আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম যে আর দেরি করা উচিত হবে না। বন্যা না এলেও, সর্বোচ্চ এক দিনের ক্লাসই শুধু নষ্ট হতো।’

শিক্ষার্থীদের নিয়ে উঁচু স্থানের দিকে যাওয়ার সময় দাওয়াদি দেখতে পান, নদী থেকে প্রায় ১০০ মিটার দূরে থাকা একটি হোস্টেল ভবন বন্যার পানিতে তলিয়ে যাচ্ছে।

তিনি বলেন, ‘আমরা যদি ১০ মিনিট পরে এই সিদ্ধান্ত নিতাম, তাহলে শিক্ষার্থীদেরসহ আমি নিজেও আজ আপনাদের সঙ্গে কথা বলতে পারতাম না।’

প্রধান শিক্ষকের সিদ্ধান্তে রক্ষা পাওয়া শিক্ষার্থীদের একজন ১৬ বছর বয়সী ইউনিশা। বন্যার আঘাত হানার মাত্র কয়েক মুহূর্ত আগে তিনি অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নিরাপদ স্থানে চলে যেতে সক্ষম হন।

ইউনিশা বলেন, ‘আমি এবং আমার বন্ধুরা মাত্র ১০ সেকেন্ডের ব্যবধানে বেঁচে গেছি।’

তিনি জানান, স্কুলের পেছনের সরু ও কাদাময় পথ দিয়ে অন্য শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দৌড়ে উঁচু স্থানে উঠে যান তারা। এরপর নিজের চোখের সামনেই পুরো বাজার বন্যার পানিতে তলিয়ে যেতে দেখেন।

ইউনিশার মা সাবিনা শ্রেষ্ঠা জানান, বন্যার খবর পাওয়ার পর মেয়ের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য পরিবারের সদস্যরা ঘণ্টার পর ঘণ্টা চেষ্টা করেন। কিন্তু শুরুতে কারও সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

সাবিনা বলেন, ‘আমি আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলাম। মেয়েকে এবং তার বাবাকে বহুবার ফোন করেছি, কিন্তু কারও সঙ্গেই যোগাযোগ করতে পারছিলাম না।’

পরে যোগাযোগ করা সম্ভব হলেও ইউনিশা তিন দিন পর বাড়ি না ফেরা পর্যন্ত পরিবারের উদ্বেগ কাটেনি।

মেয়েকে নিরাপদে ফিরে পাওয়ার পর স্বস্তি প্রকাশ করে সাবিনা বলেন, ‘আমি খুবই খুশি এবং স্বস্তি অনুভব করছি। ঈশ্বর আমার মেয়েকে রক্ষা করেছেন।’

দাওয়াদির দ্রুত সিদ্ধান্ত ও সতর্কতার কারণে বড় ধরনের প্রাণহানি এড়ানো সম্ভব হয়েছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

সূত্র: বিবিসি