আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন করতে ফেনীতে প্রস্তুতিমূলক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় পূজামণ্ডপের নিরাপত্তা জোরদার, সিসি ক্যামেরা স্থাপন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব ও অপপ্রচার প্রতিরোধ এবং মাদক ও ইভটিজিং বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়।
সভায় ফেনীর পুলিশ সুপার প্রত্যুষ কুমার মজুমদার বলেন, পূজার সময় কেউ মাদক সেবন করে পূজামণ্ডপে এসে উচ্ছৃঙ্খল আচরণ করলে ছাড় দেওয়া হবে না। বিশেষ করে মদ্যপ অবস্থায় নাচানাচি বা কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
ফেনী জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ মাহবুবউল করিমের সভাপতিত্বে সভাটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে সঞ্চালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) আল আমিন সরকার।
সভায় আরও বক্তব্য দেন জেলা পরিষদের প্রশাসক এম এ খালেক, ফেনী ব্যাটালিয়ন-৪ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিবুল ইসলাম, এনএসআইয়ের যুগ্ম পরিচালক সৈকত চৌধুরী, ফেনী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক শেখ ফরিদ বাহার, জেলা আনসার-ভিডিপি কমান্ড্যান্ট মোহাম্মদ কামরুল ইসলামসহ প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং বিভিন্ন ধর্মীয় ও সামাজিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা।
সভায় পূজামণ্ডপগুলোতে পর্যাপ্ত সিসি ক্যামেরা স্থাপনের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব, অপপ্রচার ও বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানানো হয়। এ বিষয়ে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে একটি গুজব প্রতিরোধ সেল গঠনের প্রস্তাবও দেওয়া হয়।
বক্তারা বলেন, কোনো পূজামণ্ডপের কমিটি নিয়ে বিরোধ থাকলে তা পূজার আগেই আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করতে হবে। পূজার সময় ইভটিজিং, মাদক সেবন কিংবা অন্য কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না।
বিদ্যুৎ সরবরাহে সমস্যা হলে বিকল্প হিসেবে পূজামণ্ডপগুলোতে জেনারেটরের ব্যবস্থা রাখার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়। একই সাথে অপ্রয়োজনীয় আলোকসজ্জা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সভায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পক্ষ থেকে পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও নির্বিঘ্নে পূজা উদযাপনে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতার কথা জানানো হয়।
এদিকে বিজয়া দশমীর দিন নির্ধারিত ঘাটে সন্ধ্যা ৭টার মধ্যে প্রতিমা বিসর্জন সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, দুর্গাপূজা শুধু সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নয়, এটি সবার উৎসব। পারস্পরিক সম্প্রীতি, সহযোগিতা ও দায়িত্বশীলতার মাধ্যমে উৎসব উদযাপন করতে হবে। কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা যাতে উৎসবের পরিবেশ নষ্ট করতে না পারে, সে জন্য প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে।


