...|...|...

ঢাকা

পরকীয়ার জন্য স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী-প্রেমিকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:৫৪ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৪:০১
Shares
পরকীয়ার জন্য স্বামীকে হত্যা, স্ত্রী-প্রেমিকের যাবজ্জীবন

ফরিদপুর জজ কোর্ট। ছবি: টাইমস টুডে

ফরিদপুরের সালথায় পরকীয়া প্রেমের সম্পর্কের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ানো স্বামীকে কুপিয়ে হত্যা মামলায় স্ত্রী ও তার পরকীয়া প্রেমিককে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একইসাথে তাদের প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে জরিমানা, অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুর আড়াইটার দিকে ফরিদপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিশেষ পারিবারিক আদালতের বিচারক অশোক কুমার দত্ত এ রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত নারী আসামি আদালতে উপস্থিত থাকলেও তার পরকীয়া প্রেমিক ও মামলার অপর আসামি পলাতক ছিলেন।

দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন- সালথা উপজেলার পুরুরা সরদারপাড়া গ্রামের নিহত নুরুল ইসলামের স্ত্রী মোসা. মাহমুদা আক্তার ওরফে মুন্নি বেগম (২৪) এবং একই গ্রামের কাশেম মোল্যার ছেলে মাহাবুব মোল্লা।

মামলার এজাহার ও আদালত সূত্রে জানা যায়, নিহত নুরুল ইসলাম সালথা বাজারে মুদি ব্যবসা করতেন। তার চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন মুন্নি বেগম। তাদের পাঁচ বছর বয়সী একটি ছেলে ও এক বছর বয়সী একটি মেয়ে রয়েছে। সংসার চলাকালে পাশের বাড়ির চাচাতো দেবর মাহাবুব মোল্লার সাথে মুন্নির পরকীয়া সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

একপর্যায়ে তারা দুজন পালিয়ে যান। পরে পরিবারের চাপ ও পরকীয়া সম্পর্ক ছিন্ন করার শর্তে মুন্নি স্বামীর সংসারে ফিরে আসেন। তবে অভিযোগ অনুযায়ী, এরপরও মাহাবুবের সাথে তার সম্পর্ক অব্যাহত থাকে।

২০১৯ সালের ১৭ মার্চ রাতে স্বামীকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। মামলার তদন্তে উঠে আসে, ওই রাতে হরলিক্সের সাথে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে নুরুল ইসলামকে খাওয়ানো হয়। পরে সন্তানদের নিয়ে একই ঘরে আলাদা খাটে ঘুমিয়ে পড়েন মুন্নি।

মধ্যরাতে নুরুল ইসলামকে ঘরে না পেয়ে মুন্নি বাইরে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। একপর্যায়ে ঘরের পেছনে রক্তাক্ত অবস্থায় তার স্বামীকে পড়ে থাকতে দেখে চিৎকার করেন। পরে স্বজনরা ছুটে এসে নুরুল ইসলামের মরদেহ দেখতে পান। তার মাথায় একাধিক ধারালো অস্ত্রের আঘাতের চিহ্ন ছিল।

পরদিন নিহতের বাবা মান্নান মোল্লা বাদী হয়ে সালথা থানায় অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তের একপর্যায়ে নিহতের স্ত্রী মুন্নি বেগমের সাথে মাহাবুব মোল্লার পরকীয়া সম্পর্কের কিছু ছবি পুলিশের হাতে আসে। ওই সূত্র ধরে মুন্নিকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তিনি হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন বলে মামলার তদন্ত সূত্রে জানা যায়।

মামলার নথি অনুযায়ী, পরকীয়া সম্পর্কের পথে স্বামী নুরুল ইসলামকে বাধা মনে করায় মাহাবুবের পরামর্শে দুজন মিলে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ওই রাতেই ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে নুরুল ইসলামকে হত্যা করা হয়।

দীর্ঘদিন মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ ও শুনানি শেষে বৃহস্পতিবার আদালত স্ত্রী মুন্নি বেগম ও প্রেমিক মাহাবুব মোল্লাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন। একইসাথে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে আরও দুই মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান বিকু রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্যপ্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত দুই আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের পাশাপাশি অর্থদণ্ড দিয়েছেন। পলাতক আসামি মাহাবুব মোল্লার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানাও জারি করা হয়েছে।

রায় শেষে পুলিশ পাহারায় দণ্ডপ্রাপ্ত মুন্নি বেগমকে কারাগারে পাঠানো হয়।