...|...|...

বিশ্ব

ধ্বংসস্তূপের মাঝেও নতুন জীবনের স্বপ্ন, গাজায় ২৫০ যুগলের গণবিয়ে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৭ নভেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:০৩
Shares
ধ্বংসস্তূপের মাঝেও নতুন জীবনের স্বপ্ন, গাজায় ২৫০ যুগলের গণবিয়ে

ছবি: সংগৃহীত

যুদ্ধের ক্ষত এখনও স্পষ্ট চারপাশে। কোথাও বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি, কোথাও বাস্তুচ্যুত মানুষের সারি সারি তাঁবু। অনিশ্চয়তা আর দুর্ভোগের মধ্যেই এবার আনন্দের উপলক্ষ তৈরি হলো ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায়। ধ্বংসযজ্ঞের মাঝেও নতুন জীবন শুরুর স্বপ্ন নিয়ে একসাথে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়েছেন ২৫০ ফিলিস্তিনি যুগল।

শুক্রবার (৬ নভেম্বর) গাজায় ব্যতিক্রমী এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। শনিবার (৭ নভেম্বর) বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যুদ্ধবিধ্বস্ত জনপদে এমন আনন্দঘন আয়োজনের চিত্র।

বিয়ের অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় গাড়ির বহর। ফিলিস্তিনের জাতীয় পতাকা, রঙিন ফুল ও লাল ফিতায় সজ্জিত গাড়িগুলো নিয়ে বের করা হয় বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা। গাজার ক্ষতবিক্ষত সড়ক পেরিয়ে সেই বহর পৌঁছায় ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী সি ক্লাবে। সেখানেই বসে গণবিয়ের মূল আসর।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের উদ্যোগ ‘অপারেশন নাইটলি নাইট-৩’-এর অংশ হিসেবে এই গণবিয়ের আয়োজন করা হয়। এতে সহযোগিতা করে সাকর বিন মোহাম্মদ আল কাসিমি চ্যারিটেবল অ্যান্ড হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন।

দীর্ঘদিনের সংঘাত, বাস্তুচ্যুতি ও চরম অর্থনৈতিক সংকটে গাজার অসংখ্য তরুণ-তরুণীর বিয়ের স্বপ্ন অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে। জীবনযাপনের ন্যূনতম খরচ মেটাতেই যেখানে হিমশিম খেতে হচ্ছে, সেখানে বিয়ের আয়োজন করা অনেকের কাছে প্রায় অসম্ভব। এমন পরিস্থিতিতে আর্থিক সংকটে থাকা তরুণ যুগলদের পাশে দাঁড়াতেই নেওয়া হয় এই উদ্যোগ।

তবে উৎসবের আনন্দের মধ্যেও অনেকের চোখেমুখে ছিল যুদ্ধের বেদনা। গণবিয়েতে অংশ নেওয়া বর সাঈদ আল-নাজ্জারের জীবনেও মিশে আছে ঘর হারানোর যন্ত্রণা।

তিনি জানান, ইসরায়েলি হামলায় তাঁদের পারিবারিক বাড়িটি সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। বর্তমানে জাবালিয়া শরণার্থীশিবিরের ইয়েলো লাইনের কাছাকাছি একটি অস্থায়ী তাঁবুতে দিন কাটছে তার। নিজের বাড়িতে ফেরার সুযোগ নেই, নেই মাথা গোঁজার স্থায়ী কোনো ঠিকানাও।

আয়োজক কমিটির লটারির মাধ্যমে গণবিয়েতে অংশ নেওয়ার সুযোগ পান সাঈদ। ব্যক্তিগত জীবনের এই বিশেষ দিনটিকে তিনি শুধু নিজের আনন্দ হিসেবে দেখছেন না।

রয়টার্সকে সাঈদ আল-নাজ্জার বলেন, ‘এই আনন্দ শুধু একজন বর কিংবা ২৫০ জন বরের নয়, এটি গাজার সব মানুষের আনন্দ।’

তার ভাষায়, গাজার হাজার হাজার মানুষের মতো তিনিও নিজের বাড়ি হারিয়েছেন। এখন আর যাওয়ার মতো কোনো জায়গা নেই তার।

যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞ, ঘরহারা মানুষের দীর্ঘশ্বাস আর অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মধ্যেও তাই ২৫০ যুগলের এই গণবিয়ে হয়ে উঠেছে আশার এক প্রতীক। চারপাশে ধ্বংসস্তূপ থাকলেও নতুন সংসার গড়ার স্বপ্ন যে এখনও হারিয়ে যায়নি, সেই বার্তাই যেন ছড়িয়ে দিল গাজার এই আয়োজন।