...|...|...

জাতীয়

দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৫ | আপডেট: ৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১১:৩০
Shares
দেশের সকল সরকারি হাসপাতাল দালালমুক্ত করতে কঠোর ব্যবস্থা: স্বাস্থ্যমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের সরকারি হাসপাতালগুলোকে দালালমুক্ত করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, রোগীদের বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার সাথে জড়িত দালালচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, হাসপাতালকেন্দ্রিক দালালচক্রের বিরুদ্ধে বিভিন্ন আইনশৃঙ্খলা ও গোয়েন্দা সংস্থা সমন্বিতভাবে কাজ করছে। স্বাস্থ্য খাতের অনিয়ম কমিয়ে সাধারণ মানুষের জন্য উন্নত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য বলে উল্লেখ করেন তিনি।

এ সময় বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির, এমপিসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

সরকারি হাসপাতালগুলোর পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি, রোগীদের সেবা এবং খাবারের মানসহ সার্বিক কার্যক্রম নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

তিনি বলেন, গত এক মাসে দেশের ২৫টির বেশি হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন তিনি। অধিকাংশ হাসপাতালেই চিকিৎসকদের উপস্থিতি সন্তোষজনক পাওয়া গেছে। পাশাপাশি রোগীদের সাথে সরাসরি কথা বলে তাদের অভিযোগ ও চিকিৎসাসেবার মান সম্পর্কেও তথ্য নেওয়া হচ্ছে।

হাম প্রতিরোধে সরকারের টিকাদান কার্যক্রমের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, বয়সসীমা ও তথ্যগত সমস্যাসহ বিভিন্ন কারণে কিছু শিশু নিয়মিত টিকাদান কর্মসূচির আওতার বাইরে থেকে গেছে। ফলে তাদের মধ্যে হাম আক্রান্ত হওয়ার ঘটনা দেখা যাচ্ছে।

এই পরিস্থিতিতে সরকার বিশেষ মপ-আপ ক্যাম্পেইন পরিচালনা করছে বলে জানান তিনি। চলতি মাসের শেষ দিকে আরও বড় পরিসরে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করার পরিকল্পনার কথাও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।

বিশেষ করে সিলেটের হাওরাঞ্চল ও দুর্গম এলাকাগুলোতে টিকাদান কার্যক্রম আরও জোরদার করা হচ্ছে। প্রতিটি উপজেলাকে গুরুত্ব দিয়ে ক্যাম্পেইন শুরুর আগেই প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

অবৈধ হাসপাতাল ও চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও অভিযান

অবৈধ ক্লিনিক, হাসপাতাল এবং অননুমোদিত চিকিৎসা কার্যক্রমের বিরুদ্ধেও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। জেলা পর্যায়ে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার মাধ্যমে জরিমানা ও অবৈধ প্রতিষ্ঠান বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, অনুমোদন ছাড়া লেবার রুম পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি অবৈধ চিকিৎসক, অননুমোদিত টেকনিশিয়ান বা অদক্ষ ব্যক্তিদের মাধ্যমে অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসাসেবা পরিচালনার ঘটনা বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

স্বাস্থ্য খাতের দীর্ঘদিনের সব সমস্যা অল্প সময়ের মধ্যে সমাধান সম্ভব নয় উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার ছয় মাসের মধ্যে বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করে সমাধানে কাজ শুরু করা হয়েছে। বিদ্যমান সংকট কাটিয়ে উঠতে আরও কিছু সময় প্রয়োজন হবে।

ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও অবকাঠামোগত বিভিন্ন সমস্যা নিয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

ড্রেনেজ ব্যবস্থা, পরিচ্ছন্নতা এবং অন্যান্য সমস্যাগুলো দ্রুত সমাধানে উদ্যোগ নেওয়া হবে। আগামী সাত দিনের মধ্যে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আশ্বাসও দেন তিনি।

পরিদর্শনকালে সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদ, হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর রাশেদ মুনির, সিসিক প্রশাসক আবদুল কাইয়ুম চৌধুরী, জেলা প্রশাসক আবদুল্লাহ আল মামুন এবং সিভিল সার্জন ডা. মো. নাসির উদ্দিনসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।