...|...|...

বিশ্ব

দুই দফা হামলা থেকে অল্পের জন্য বাঁচেন মোজতবা খামেনি, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৬:৩৫
Shares
দুই দফা হামলা থেকে অল্পের জন্য বাঁচেন মোজতবা খামেনি, সামনে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের  গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলায় মারা যান ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। একই হামলায় অল্পের জন্য বেঁচে যান তার ছেলে ৫৬ বছর বয়সী মোজতবা খামেনি। পরে আহত হওয়ার পর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবারও হামলার শিকার হয়েছিলেন বর্তমান ইরানের সর্বোচ্চ নেতা মোজতবা খামেনি। এমন দাবি করেছেন ইরানের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য আয়াতুল্লাহ মোহসেন হেইদারি। 

মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক পোস্ট এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানিয়েছে।

কাতারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘আল আরাবি’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে হেইদারি বলেন, ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির তেহরানের কার্যালয়ে হামলার সময় মোজতবা খামেনিও আহত হন। পরে তাকে চিকিৎসার জন্য একটি হাসপাতালে নেওয়া হয়।

হেইদারির দাবি, এরপর তেহরানের তিনটি হাসপাতালে বোমা হামলা চালানো হয়। মোজতবা খামেনি তৃতীয় হাসপাতালটিতে ছিলেন এবং হামলার পর তাকে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে উদ্ধার করা হয়।

পরে মোজতবা খামেনিকে অজ্ঞাত একটি স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয় বলে দাবি করেন হেইদারি। এরপর থেকে তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি বা তার কোনো বক্তব্যও শোনা যায়নি। তবে তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা নিয়ে পরস্পরবিরোধী তথ্য রয়েছে। হেইদারি তাকে সুস্থ ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাসম্পন্ন বলে দাবি করলেও, এ বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা হয়নি।

এর মধ্যেই ৮ মার্চ অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস মোজতবা খামেনিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে নির্বাচিত করে।

হেইদারি জানান, অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের কুম শহরের সচিবালয়েও হামলা হয়েছিল। এতে কয়েকজন কর্মী নিহত হন এবং নেতৃত্ব নির্বাচনসংক্রান্ত কিছু নথি ধ্বংস হয়ে যায় বলে তিনি দাবি করেন। এরপর নিরাপত্তার কারণে সদস্যদের একটি গোপন বৈঠকে ডেকে কাগজে ভোট নেওয়া হয়।

হেইদারির ভাষ্য অনুযায়ী, ওই বৈঠকে তিনিই প্রথম মোজতবা খামেনির নাম প্রস্তাব করেন। তিনি বলেন, সদস্যরা এমন তথ্য পেয়েছিলেন যে মোজতবা খামেনি সুস্থ এবং দেশ পরিচালনার সক্ষমতা রাখেন। ধর্মীয় যোগ্যতা, ন্যায়পরায়ণতা ও নেতৃত্ব দেওয়ার সক্ষমতাও তার রয়েছে বলে তারা মনে করেছিলেন।

হেইদারি আরও জানান, ৫৯টি ভোটের মধ্যে মোজতবা খামেনি ৫০টি ভোট পান। আটজন সদস্য আয়াতুল্লাহ আলিরেজা আরাফির পক্ষে ভোট দেন এবং একজন ভোটদানে বিরত থাকেন। তবে বিভিন্ন প্রতিবেদনে ভোটের সংখ্যা নিয়ে ভিন্ন তথ্যও পাওয়া যায়।

এদিকে মোজতবা খামেনির স্বাস্থ্য নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই নানা জল্পনা রয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগে দাবি করেছিলেন, তিনি গুরুতর আহত হলেও বেঁচে আছেন। অন্যদিকে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান সম্প্রতি দাবি করেছেন, মোজতবা খামেনি সম্পূর্ণ সুস্থ আছেন। তাঁর বর্তমান অবস্থান বা শারীরিক পরিস্থিতি নিয়ে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।