...|...|...

রাজধানী

ঢাকার আরও ৫০ ট্রাফিক সিগনালে বসছে এআই ক্যামেরা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ আগস্ট ২০২৬, সকাল ৯:৪০ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ১০:১০
Shares
ঢাকার আরও ৫০ ট্রাফিক সিগনালে বসছে এআই ক্যামেরা

সিগন্যালের বাতি দেখে নিয়ম মেনে চলছে যানবাহন, সুশৃঙ্খলভাবে সড়ক পার হচ্ছেন পথচারীরা-গত কয়েক মাস ধরে ঢাকার বেশ কয়েকটি সড়কে এমন দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। যানজট ও সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এবার রাজধানীর দুই সিটি করপোরেশনের আরও ৫০টি ইন্টারসেকশনে বসানো হচ্ছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রযুক্তিসম্পন্ন ট্রাফিক সিগন্যাল।

গত বছরের মাঝামাঝি সময়ে ঢাকার ১৩টি পয়েন্টে সেমি-অটোমেটেড ট্রাফিক সিগন্যাল স্থাপন করা হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) তত্ত্বাবধানে নির্মিত এসব সিগনালের কয়েকটিতে পরীক্ষামূলকভাবে এআই ক্যামেরা সংযোজন করা হয়।

নতুন করে যে ৫০টি ইন্টারসেকশনে সিগন্যাল স্থাপন করা হচ্ছে, এর মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের আওতায় ২৮টি এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের আওতায় ২২টি রয়েছে।

এআই ক্যামেরাযুক্ত সিগন্যাল ব্যবস্থায় চালকদের মধ্যে ট্রাফিক আইন মানার বিষয়ে সচেতনতা বাড়ছে। চালকদের কেউ কেউ বলছেন, সিগন্যাল অমান্য করলে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে মামলা হওয়ার আশঙ্কা থাকায় তারা এখন বেশি সতর্ক থাকছেন।

এক চালকের বলেন, এআইর মামলা হওয়ার ভয় থেকেই অনেকেই নিয়ম মেনে চলার চেষ্টা করছেন। সড়কে শৃঙ্খলা ফেরাতে এ ধরনের ব্যবস্থা প্রয়োজন এবং এটি সরকারের ভালো উদ্যোগ।

যোগাযোগ বিশেষজ্ঞ ড. হাদিউজ্জামান বলেন, নতুন যে সিগন্যাল ব্যবস্থা স্থাপন করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয়। এটি পরিচালনার জন্য আলাদা অপারেটরের প্রয়োজন হবে না। সিগন্যাল ব্যবস্থা ডিমান্ড রেসপন্সিভ হওয়ায় যানবাহন ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এর কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে প্রয়োজন হলে দায়িত্বপ্রাপ্ত ট্রাফিক পুলিশ হাতের ট্যাব ব্যবহার করে সিগন্যালের পরিবর্তন করতে পারবেন।

ডিএমপির অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, মানুষের দীর্ঘদিনের অনিয়মের অভ্যাস পরিবর্তন করে শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে সময় প্রয়োজন। তবে সিগন্যাল ব্যবস্থার বিষয়ে সাধারণ মানুষের ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে।

তিনি বলেন, মানুষ এটিকে সাধুবাদ জানিয়েছে এবং এর বিরুদ্ধে তেমন কোনো বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি।

তবে এআই ক্যামেরাযুক্ত ট্রাফিক সিগন্যাল নিয়ে সংশ্লিষ্টদের অভিজ্ঞতা পুরোপুরি ইতিবাচক নয়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সড়কে ফিটনেসবিহীন ও নিয়মবহির্ভূত যানবাহন চলাচল নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে শুধু প্রযুক্তিনির্ভর সিগন্যাল ব্যবস্থা থেকে কাঙ্ক্ষিত সুফল পাওয়া কঠিন।

ট্রাফিক সার্জেন্ট তারিকুল বলেন, যেসব এলাকায় যত্রতত্র পথচারী পারাপার হয় কিংবা ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল করে, সেখানে এআই সিগন্যাল ব্যবস্থা প্রত্যাশিতভাবে কাজ করতে পারে না।

নতুন সিগন্যালগুলো পরিচালনা ও ব্যবস্থাপনার জন্য অতিরিক্ত লোকবল নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। ফলে প্রকল্পের ব্যয়ও বাড়ছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, এ ব্যবস্থাকে আরও কার্যকর করতে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে ট্রাফিক টেকনিক্যাল ইউনিট নামে একটি বিশেষায়িত ইউনিট প্রস্তুত করা হচ্ছে।