কাপ্তাই হ্রদের পানি কমতে শুরু করায় ছয়দিন পর পানির নিচ থেকে দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে সেতুটির পাটাতন থেকে পানি সরে গেলে পুরো সেতুটি দৃশ্যমান হয়। তবে এখনো হ্রদের পানি সেতুর পাটাতন ছুঁয়ে থাকায় এবং উজান থেকে পাহাড়ি ঢল অব্যাহত থাকায় পর্যটকদের জন্য সেতুটি খুলে দেওয়া হয়নি।
এর আগে গত শনিবার কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটির পর্যটনের আইকন হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে যায়। এতে পর্যটকদের প্রবেশ বন্ধ করে দেয় কর্তৃপক্ষ।
রাঙামাটি পর্যটন হলিডে কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা বলেন, পানি সেতু থেকে নেমে গেছে, তবে এখনো পাটাতন ছুঁয়ে আছে। উজান থেকে পাহাড়ি ঢলও অব্যাহত রয়েছে। পানি আরও কিছুটা কমে গেলে এবং কর্তৃপক্ষের অনুমতি পাওয়া সাপেক্ষে পর্যটকদের জন্য সেতুটি উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে। বর্তমানে সেতুতে ঘষামাজার ও পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ চলছে।
কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর কমে আসায় কাপ্তাই বাঁধের জলকপাটও ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা হয়েছে। বর্তমানে বাঁধের ১৬টি জলকপাট এক ফুট উচ্চতায় খোলা রাখা হয়েছে। এর মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কাপ্তাই হ্রদ থেকে কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হচ্ছে।
এছাড়া কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রে পাঁচটি ইউনিট চালু রেখে বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে আরও প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নির্গত হচ্ছে।
কর্ণফুলী পানিবিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, উজান থেকে এখনো পাহাড়ি ঢল অব্যাহত রয়েছে। তবে হ্রদের পানি ধীরে ধীরে কমতে থাকায় বাঁধের গেট আরও এক ফুট কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে জলকপাট এক ফুট খোলা রয়েছে।
তিনি জানান, শুক্রবার সকাল ১১টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর ছিল ১০৫ দশমিক ৩৪ ফুট এমএসএল। হ্রদটির সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল। পানি আরও কমে এলে পরিস্থিতি বিবেচনা করে বাঁধের গেট বন্ধ করে দেওয়া হবে।
পানি কমে যাওয়ায় দীর্ঘ ছয়দিন পর ঝুলন্ত সেতুটি আবারও দৃশ্যমান হওয়ায় স্থানীয় পর্যটন ব্যবসায়ী ও দর্শনার্থীদের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছে। তবে পর্যটকদের নিরাপত্তার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে কর্তৃপক্ষ এখনই সেতুটি খুলে দিতে চাইছে না। পানি পুরোপুরি সরে গিয়ে সেতুটি নিরাপদ ও ব্যবহার উপযোগী হলেই অনুমতি সাপেক্ষে পর্যটকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে।
রাঙামাটির পর্যটনের প্রতীক হয়ে ওঠা এই ঝুলন্ত সেতু কাপ্তাই হ্রদের পানির সাথে যেন এক অনন্য দৃশ্য তৈরি করে। পানির নিচে হারিয়ে যাওয়ার ছয়দিন পর আবারও দৃশ্যমান হওয়ায় পর্যটনকেন্দ্রটি ঘিরে নতুন করে আগ্রহ তৈরি হয়েছে।



