...|...|...

সারাদেশ

ট্রেন চলবে কি না অনিশ্চিত, রাজশাহী স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি

টাইমস টুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, সকাল ৮:০৯
Shares
ট্রেন চলবে কি না অনিশ্চিত, রাজশাহী স্টেশনে যাত্রীদের ভোগান্তি

রেল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের হাতে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থী মারধরের শিকার হওয়ার অভিযোগের প্রতিবাদে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে বিক্ষোভ ও ভাঙচুর করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।

রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) রাত পৌনে ১২টা থেকে রাত দেড়টা পর্যন্ত চলা এ বিক্ষোভে স্টেশনের যাত্রীদের বসার বেঞ্চ, বিভিন্ন কক্ষের দরজা-জানালা ও ইলেকট্রনিক সরঞ্জাম ভাঙচুর করা হয়।

ভাঙচুরের ঘটনায় রাজশাহীর সাথে সারা দেশের রেল যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এতে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেসসহ কয়েকটি ট্রেন বিভিন্ন স্থানে আটকা পড়ে। চরম দুর্ভোগে পড়েন ট্রেনের যাত্রীরা।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, রবিবার রাত ৯টার দিকে ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী তার চাচাকে আনতে রাজশাহী রেলস্টেশনে যান। এ সময় ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সাথে রেলওয়ে নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা সদস্যদের কথা-কাটাকাটি চলছিল। সেখানে আইয়ুব আলী গেলে তাকেও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করেন শিক্ষার্থীরা। আহত আইয়ুব বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।

এ ঘটনার প্রতিবাদে প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়সংলগ্ন রেলস্টেশনে শিক্ষার্থীরা জড়ো হয়ে বিক্ষোভ করেন। পরে রাতের দিকে কয়েক হাজার শিক্ষার্থী রাজশাহী রেলস্টেশনে গিয়ে অবস্থান নেন। একপর্যায়ে সেখানে ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে।

এদিকে ভাঙচুরের কারণে রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ঢাকার উদ্দেশে ছেড়ে যাওয়ার কথা থাকা ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল করা হয়। অপর দিক থেকে আসা আরও দুটি ট্রেন রাজশাহীর হরিয়ান স্টেশনে এবং আরেকটি সারদা একাডেমি স্টেশনে অবস্থান নেয়। ফলে এসব ট্রেনের যাত্রীদেরও চরম দুর্ভোগে পড়তে হয়।

রেল যোগাযোগ বন্ধ থাকায় রাজশাহী স্টেশনে আটকে পড়েন বহু যাত্রী। কেউ কেউ ট্রেন কখন চলবে, সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য না পেয়ে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেন। বিশেষ করে ঢাকাগামী যাত্রীদের ভোগান্তি ছিল বেশি।

ঘটনার পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থী ও রেলওয়ে কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করা হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টার বৈঠকে বিভাগীয় কমিশনার, পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। বৈঠকে পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে দ্রুত রেল যোগাযোগ স্বাভাবিক করার বিষয়ে আলোচনা হয়।

পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেন, রেল চলাচল স্বাভাবিক করার জন্য তারা প্রস্তুত রয়েছেন। তবে শিক্ষার্থীদের বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনা করে নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করেই ট্রেন চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। যাত্রীদের যাতে কোনো ধরনের সমস্যায় পড়তে না হয়, সে বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে।

রাজশাহীর জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম বলেন, পুরো ঘটনার তদন্ত করা হবে। ঘটনার সাথে কারা জড়িত এবং কী কারণে পরিস্থিতির অবনতি হয়েছে, তা তদন্তের মাধ্যমে বেরিয়ে আসবে।

এদিকে শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগের ঘটনায় অভিযুক্ত রেলওয়ের চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেল বিভাগ। তাদের বিরুদ্ধে পরবর্তী ব্যবস্থা তদন্তের ভিত্তিতে নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

তবে ভাঙচুরের পর রাজশাহী রেলস্টেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ায় সাধারণ যাত্রীদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দিয়েছে। শিক্ষার্থীর ওপর হামলার অভিযোগের তদন্ত ও দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার পাশাপাশি স্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় জড়িতদের বিষয়েও আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, তা নিয়ে এখন প্রশ্ন উঠেছে।