...|...|...

তথ্যপ্রযুক্তি

টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৬ নভেম্বর ২০২৬, রাত ১০:১৮
Shares
টিন সার্টিফিকেট বাতিল করবেন যেভাবে

ছবি: সংগৃহীত

বিভিন্ন প্রয়োজনে ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর (টিআইএন) বা টিন সার্টিফিকেট নিলেও পরবর্তী সময়ে অনেকের আর সেটির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু টিআইএন সক্রিয় থাকলে আয়কর রিটার্ন দাখিলসহ বিভিন্ন কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়তে পারেন করদাতারা। নির্ধারিত সময়ে রিটার্ন জমা না দিলে আইনগত জটিলতায় পড়ার আশঙ্কাও থাকে। তবে নির্দিষ্ট শর্ত পূরণ করলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কাছে টিআইএন বাতিলের আবেদন করার সুযোগ রয়েছে।

টিআইএন বাতিল করতে হলে কোন পরিস্থিতিতে আবেদন করা যাবে, কোথায় আবেদন করতে হবে এবং কী কী কাগজপত্র লাগবে, তা জানা জরুরি। একই সাথে বাতিলের পর আগের কর-সংক্রান্ত কোনো দায় থেকে যায় কি না, সেটিও বিবেচনায় রাখা প্রয়োজন।

টিআইএন কী এবং কেন নেওয়া হয়?

ট্যাক্সপেয়ার আইডেন্টিফিকেশন নম্বর বা টিআইএন হলো করদাতার জন্য নির্ধারিত একটি স্বতন্ত্র শনাক্তকরণ নম্বর। বাংলাদেশে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আয়কর-সংক্রান্ত বিভিন্ন কাজে এটি ব্যবহৃত হয়। করদাতার তথ্য শনাক্ত করা, আয়কর রিটার্ন দাখিল এবং বিভিন্ন আর্থিক ও দাপ্তরিক কার্যক্রমে টিআইএন প্রয়োজন হয়।

ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলা, ভিসার আবেদন, ব্যবসা পরিচালনা কিংবা বিভিন্ন দাপ্তরিক প্রয়োজনে অনেকেই টিআইএন নিবন্ধন করেন। তবে যে উদ্দেশ্যে নম্বরটি নেওয়া হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই প্রয়োজন না-ও থাকতে পারে। এ অবস্থায় টিআইএন সক্রিয় থাকায় কর-সংক্রান্ত দায়িত্ব নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।

তবে টিআইএন থাকলেই প্রত্যেককে নির্দিষ্ট পরিমাণ কর দিতে হবে, বিষয়টি এমন নয়। আয়, সম্পদ ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী করদাতার দায়িত্ব নির্ধারিত হয়। তাই টিআইএন আর প্রয়োজন নেই মনে করে রিটার্ন দাখিল বন্ধ না করে আগে নিজের কর-সংক্রান্ত বাধ্যবাধকতা সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া উচিত।


কোন কোন কারণে টিআইএন বাতিল করা যায়?

নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে আইনগত শর্ত পূরণ সাপেক্ষে টিআইএন বাতিলের আবেদন করা যায়। যেমন-

1. ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধ হয়ে গেলে: কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান স্থায়ীভাবে ব্যবসা বন্ধ করলে এবং সংশ্লিষ্ট টিআইএন আর প্রয়োজন না হলে বাতিলের আবেদন করতে পারেন।

2. একাধিক টিআইএন থাকলে: ভুলবশত একই ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামে একাধিক টিআইএন তৈরি হলে প্রয়োজনীয় নম্বরটি রেখে অতিরিক্ত নম্বরটি বাতিলের আবেদন করা যেতে পারে।

3. টিআইএন ব্যবহারের প্রয়োজন না থাকলে: নির্দিষ্ট কোনো কাজের জন্য টিআইএন নেওয়ার পর সেটির আর প্রয়োজন না হলে এবং আইনগত শর্ত পূরণ হলে বাতিলের আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে।

4. করযোগ্য আয় না থাকলে: কোনো ব্যক্তির আয় করযোগ্য সীমার নিচে নেমে গেলে নির্দিষ্ট শর্তে টিআইএন বাতিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে আয় কমে যাওয়া বা করযোগ্য আয় না থাকলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে টিআইএন বাতিল হয় না।

5. দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থান করলে: কোনো বাংলাদেশি নাগরিক দীর্ঘ সময় বিদেশে অবস্থান করলে, দেশে করযোগ্য আয় না থাকলে এবং টিআইএন রাখার আইনগত প্রয়োজন না থাকলে তার আবেদন বিবেচনা করা হতে পারে।

6. করদাতার মৃত্যু হলে: কোনো করদাতার মৃত্যু হলে তার টিআইএন বাতিলের প্রয়োজন হতে পারে। এ ক্ষেত্রে উত্তরাধিকারীদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে আবেদন করতে হয়। মৃত ব্যক্তির নামে ব্যবসা বা অন্য কোনো কার্যক্রম চলমান থাকলে আগে সংশ্লিষ্ট কর ও আইনগত বিষয় যাচাই করা জরুরি।

যেভাবে টিআইএন বাতিলের আবেদন করবেন

টিআইএন বাতিলের জন্য জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নির্ধারিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। আবেদন করার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র করদাতার পরিস্থিতি অনুযায়ী ভিন্ন হতে পারে।

অনলাইনে আবেদন করতে চাইলে

প্রথমে এনবিআরের ওয়েবসাইটে গিয়ে টিআইএন-সংক্রান্ত অনলাইন সেবা এবং বাতিলের আবেদনের বর্তমান নিয়ম সম্পর্কে জানতে হবে। ওয়েবসাইটের ঠিকানা: https://nbr.gov.bd/

অনলাইনে আবেদন করার সুবিধা থাকলে সংশ্লিষ্ট অ্যাকাউন্টে প্রবেশ করে নির্ধারিত নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে। আবেদনে সাধারণত টিআইএন নম্বর, ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের পরিচিতি, বর্তমান অবস্থা এবং বাতিলের কারণ উল্লেখ করতে হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী সমর্থনকারী কাগজপত্র জমা দিতে হতে পারে।

আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষ তা যাচাই করবে। প্রয়োজনে অতিরিক্ত তথ্য বা নথি চাওয়া হতে পারে। কর্তৃপক্ষের অনুমোদন না পাওয়া পর্যন্ত টিআইএন বাতিল হয়েছে বলে ধরে নেওয়া যাবে না।

সরাসরি আবেদন করতে চাইলে

অনলাইনে আবেদন করা সম্ভব না হলে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর কর্তৃপক্ষের কার্যালয়ে যোগাযোগ করে আবেদনপদ্ধতি জেনে নিতে পারেন। পরিস্থিতি অনুযায়ী যেসব কাগজপত্র প্রয়োজন হতে পারে, সেগুলো হলো-
- টিআইএন সনদ বা টিআইএন নম্বরের প্রমাণপত্র;
- জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি;
- ব্যবসা বা প্রতিষ্ঠান বন্ধের প্রমাণপত্র (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে);
- টিআইএন বাতিলের কারণের সমর্থনে প্রয়োজনীয় নথি;
- সংশ্লিষ্ট কর কর্তৃপক্ষের চাহিদা অনুযায়ী আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণপত্র।
কিছু ক্ষেত্রে আগের অর্থবছরগুলোর আয়কর রিটার্ন দাখিলের প্রমাণও চাওয়া হতে পারে। তবে সবার জন্য একই সংখ্যক বছরের শূন্য রিটার্ন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক-এমনটি ধরে নেওয়া ঠিক হবে না। আবেদনের আগে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল থেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের তালিকা জেনে নেওয়া ভালো।

টিআইএন বাতিল হলে কী হবে? 

টিআইএন বাতিলের আবেদন অনুমোদিত হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। প্রয়োজনে বাতিলের প্রমাণপত্রও সংগ্রহ করে রাখা উচিত।

তবে টিআইএন বাতিল হলেই আগের সব কর-সংক্রান্ত দায় বা বকেয়া স্বয়ংক্রিয়ভাবে শেষ হয়ে যায় না। বাতিলের আগের সময়ের কোনো বকেয়া কর, রিটার্ন দাখিলের বাধ্যবাধকতা কিংবা আইনগত জটিলতা থাকলে সেগুলো নিষ্পত্তি করতে হতে পারে।

ভবিষ্যতে আয়কর রিটার্ন জমা দেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকবে কি না, তা প্রচলিত আইন ও করদাতার পরিস্থিতির ওপর নির্ভর করবে। একইভাবে, ভবিষ্যতে আবার টিআইএন প্রয়োজন হলে পুরোনো নম্বর ব্যবহার করা যাবে, নাকি নতুন নম্বর নিতে হবে, সেটিও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত হবে।

তাই শুধু আয়কর রিটার্ন দাখিলের ঝামেলা এড়াতে তাড়াহুড়ো করে টিআইএন বাতিলের সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত নয়। নিজের বর্তমান আয়, সম্পদ, ব্যবসা এবং ভবিষ্যতের প্রয়োজন বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট কর সার্কেল বা কর বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া যেতে পারে।