ফসল ঘরে তোলার অপেক্ষায় ছিলেন কৃষকেরা। বাগানে ছিল মাসের পর মাসের শ্রম, বিনিয়োগ আর স্বপ্ন। কিন্তু কয়েক মিনিটের আকস্মিক ঝোড়ো হাওয়ায় সেই স্বপ্নের বড় অংশই যেন মাটিতে লুটিয়ে পড়েছে।
টাঙ্গাইলের মধুপুরের পাহাড়ি এলাকার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছাসহ বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলা, আনারস, পেঁপে ও সবজির বাগান। বিশেষ করে কলাগাছ ভেঙে ও উপড়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন শত শত কৃষক। এতে ৭ হাজার বিঘা ফসলি জমির ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। যার আনুমানিক বাজার মূল্য শত কোটি টাকা।
বুধবার (৭ অক্টোবর) দুপুরে হঠাৎ প্রবল বাতাসসহ ঝড় শুরু হলে মুহূর্তের মধ্যে বিভিন্ন এলাকার বাগান লন্ডভন্ড হয়ে যায়। কোথাও কলাগাছের মাজা ভেঙে গেছে, কোথাও পুরো গাছ উপড়ে পড়েছে। পাশাপাশি আনারস, পেঁপে ও বিভিন্ন ধরনের সবজির ক্ষেতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা জানান, দীর্ঘদিনের শ্রম, অর্থ ও পরিচর্যার পর বাগানগুলোতে ফসল ঘরে তোলার সময় ঘনিয়ে এসেছিল। অনেক কৃষক ধারদেনা ও সঞ্চয়ের টাকা বিনিয়োগ করেছেন কলা ও পেঁপে চাষে। কিন্তু আকস্মিক ঝড়ে এক নিমিষেই তাদের সেই বিনিয়োগ অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছি। এই সময় এমন ঝড় এর আগে কখনো হয়নি।
হরিণধরা গ্রামের কৃষক আবু সায়েম হোসেন বলেন, ‘জীবনের প্রায় অর্ধেক পুঁজি আনারস ও কলাবাগানে ব্যয় করেছি। ফসল ভালো হলে পরিবারের অনেক প্রয়োজন মেটানোর আশা ছিল। কিন্তু হঠাৎ ঝড়ে সবকিছু যেন মুহূর্তের মধ্যে শেষ হয়ে গেল।
ভূটিয়া এলাকার কৃষক স্বপন জানান, তিনি ঋণ করে সাড়ে ৩ হাজার কলা গাছ লাগিয়েছিলেন। সবগুলোতেই কলা ধরেছে। কিন্তু গতকালকের ঝড়ে তার আড়াই হাজার কলাগাছ ভেঙে পড়েছে। তার এখন পথে বসার উপক্রম। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা তালিকা করে সরকারি সহায়তার দাবি তাদের।
মধুপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিসার এ. বি. এম খাইরুল আলম জানান, প্রাথমিক হিসাব অনুযায়ী, উপজেলার শোলাকুড়ী, ফুলবাগচালা, অরণখোলা, ভুটিয়া ও কুড়াগাছা এলাকায় প্রায় ৭ হাজার একর জমির কলা ও পেঁপে গাছ ঝড়ে ভেঙে গেছে। এতে আনুমানিক প্রায় ক্ষয়ক্ষতি ১০০ কোটি টাকার মতো।
তিনি জানান, ঝড়ের পর থেকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করে কৃষকদের তালিকার করা হচ্ছে। সেই তালিকা মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে কৃষকদের ক্ষতিপূরণের জন্য।


