পরিবারের অভাব দূর করে স্বজনদের মুখে হাসি ফোটানোর স্বপ্ন নিয়ে ধারদেনা করে সৌদি আরবে পাড়ি জমিয়েছিলেন বরগুনার তালতলী উপজেলার আবু হানিফ। কিন্তু সেই স্বপ্ন পূরণের আগেই সুদূর প্রবাসে তার আকস্মিক মৃত্যুর খবর আসে। বর্তমানে শোকের পাশাপাশি ঋণের বোঝায় জর্জরিত তার অসহায় পরিবার অর্থাভাবে আবু হানিফের লাশ দেশে ফিরিয়ে আনতে পারছে না। সৌদি আরবের একটি হাসপাতালের হিমাগারে পড়ে আছে তার লাশ।
অন্যদিকে, শেষবারের মতো প্রিয়জনের মুখ দেখার অপেক্ষায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। আবু হানিফ বরগুনা জেলার তালতলী উপজেলার নিশানবাড়িয়া ইউনিয়নের নলবুনিয়া গ্রামের বাসিন্দা।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, পরিবারের অসচ্ছলতা দূর করা এবং সন্তানদের সুন্দর ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করার আশায় বিভিন্ন বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ও স্থানীয় ব্যক্তিদের কাছ থেকে প্রায় ৮ লাখ টাকা ঋণ নিয়ে সৌদি আরবে গিয়েছিলেন আবু হানিফ। প্রবাসে উপার্জিত অর্থ দিয়ে ঋণের কিস্তি পরিশোধ করার পরিকল্পনা ছিল তার। কিন্তু সেই সুযোগ আর হয়নি। জমি ও শেষ সম্বল বন্ধক রেখে নেওয়া ঋণের পুরো বোঝা এখন পরিবারটির ওপর চেপে বসেছে।
আবু হানিফের আকস্মিক মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকে তার বৃদ্ধ মা, স্ত্রী ও সন্তানরা দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। একদিকে পরিবারের একমাত্র উপার্জনক্ষম ব্যক্তিকে হারানোর শোক, অন্যদিকে ঋণের কিস্তি ও দেনাদারদের চাপ-সব মিলিয়ে চরম সংকটে দিন কাটছে তাদের। এর ওপর সৌদি আরব থেকে লাশ দেশে ফিরিয়ে আনা এবং প্রয়োজনীয় সরকারি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করতে যে অর্থের প্রয়োজন, তা জোগাড় করার সামর্থ্য নেই পরিবারটির।
আবু হানিফের পরিবারের সদস্যরা জানান, তারা সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ বিভাগ ও বাংলাদেশ দূতাবাসের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছেন। শেষবারের মতো আবু হানিফের মুখটি দেখার জন্য তার লাশ যেন সরকারি অর্থায়নে অথবা কোনো সহৃদয় ব্যক্তির সহায়তায় দ্রুত দেশের মাটিতে ফিরিয়ে আনা হয়, সে জন্য প্রশাসনের কাছে আকুল আবেদন জানিয়েছেন তারা।

