জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদদের নিয়ে সংকীর্ণ রাজনীতি না করার আহ্বান জানিয়েছেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক।
তিনি বলেছেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের শহীদরা বৈষম্যহীন, গণতান্ত্রিক ও মানবিক রাষ্ট্র ও সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য জীবন উৎসর্গ করেছেন। কোনো বিশেষ শক্তি বা গোষ্ঠীর রাজনৈতিক পুঁজি বাড়ানোর জন্য তারা জীবন দেননি। তাই অবিলম্বে জুলাইয়ের শহীদ ও আহতদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা প্রকাশ করে তাদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে।
মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর হাতিরঝিলের মধুবাগ কাদেরিয়া পার্টি সেন্টার মিলনায়তনে আয়োজিত এক স্মরণ সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির হাতিরঝিল আঞ্চলিক কমিটি চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে দলটির দুই শহীদসহ অন্য শহীদদের স্মরণে এ সমাবেশের আয়োজন করে।
সাইফুল হক বলেন, গত ছয় মাসে বিএনপি সরকার কয়েকটি ক্ষেত্রে সাফল্য দেখাতে না পারলেও গণতান্ত্রিক অধিকার ও গণতান্ত্রিক সহিষ্ণুতার ক্ষেত্রে দৃষ্টান্তমূলক সাফল্য দেখিয়েছে। এ সময় রাষ্ট্রীয় নিপীড়ন ও সন্ত্রাসের পথ পরিহার করে যে শাসনপদ্ধতি চলছে, তা অব্যাহত রাখতে হবে।
তিনি আরও বলেন, গত ছয় মাসে সরকার সামাজিক ও অর্থনৈতিক সুরক্ষায় যেসব উদ্যোগ নিয়েছে, মানুষ সেগুলোর বাস্তবায়ন দেখতে চাইবে।
দেশের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি তুলে ধরে সাইফুল হক বলেন, গত দুই বছরে অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য, চাকরিচ্যুতি ও কর্মহীনতা বেড়েছে। মানুষের জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত হয়নি। সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি ও দখলদারিত্বও পুরোপুরি বন্ধ হয়নি।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিদেশনির্ভর জ্বালানি নীতির কারণে গ্যাস ও বিদ্যুৎ সংকট আরও ঘনীভূত হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে সরকারকে জ্বালানি খাতে বিদেশনির্ভরতা কমাতে হবে। একই সঙ্গে বাপেক্সসহ দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করার আহ্বান জানান তিনি।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির হাতিরঝিল আঞ্চলিক কমিটির নেত্রী নার্গিস আকতার লিমা। সঞ্চালনা করেন ফিরোজ আলী।
এ সময় দলের রাজনৈতিক পরিষদ সদস্য বহ্নিশিখা জামালী, আকবর খান, মাহমুদ হোসেন, কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাইফুল ইসলাম, বিএনপির স্থানীয় নেতা আব্দুর রশীদ খান, আকতারুজ্জামান রাজিব, মাহমুদুল হাসান মাধু ও নারীনেত্রী মরিয়ম আকতারসহ অনেকে বক্তব্য দেন।


