...|...|...

জাতীয়

সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড

জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার নতুন সূত্র

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৩০ আগস্ট ২০২৬, রাত ১০:২৮ | আপডেট: ৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, দুপুর ১২:১৯
Shares
জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার নতুন সূত্র

ছবি: সংগৃহীত

দীর্ঘ ১৪ বছর ধরে অমীমাংসিত থাকা সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলায় নতুন মোড়  নিয়েছে। একটি গুম মামলার তদন্তের অনুসন্ধান চালাতে গিয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের (আইসিটি) তদন্তকারীরা এমন কিছু তথ্য-প্রমাণ পেয়েছেন, যা সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীকে এই হত্যা মামলার সাথে নতুনভাবে জড়িয়ে দিচ্ছে।

সূত্র জানায়, বিতর্কিত সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসানের সাথে সংশ্লিষ্ট একটি গুম মামলা খতিয়ে দেখার সময় তদন্তকারীরা একটি মোবাইল ফোনের কল ডিটেইল রেকর্ড (সিডিআর) বিশ্লেষণ করেন। এই বিশ্লেষণ থেকেই তারা সেনাবাহিনীর এক সার্জেন্টের সন্ধান পান। পরবর্তীতে ওই সার্জেন্টকে নজরদারিতে রেখে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে, তার কাছ থেকে অপ্রত্যাশিতভাবে সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড সংক্রান্ত গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বেরিয়ে আসে।

হত্যার দুই দিন আগে সতর্কবার্তা

দৈনিক ওয়াদাকে একজন আইসিটি তদন্তকারী জানান, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ডের ঠিক দুই দিন আগে, অর্থাৎ ৯ ফেব্রুয়ারি সাবেক মেজর জিয়াউল আহসান ওই সার্জেন্টকে ডেকে পাঠান। তাকে সতর্ক করে বলা হয়, আগামী দুই দিনের মধ্যে বড় কিছু ঘটতে পারে, তাই প্রস্তুত থাকতে হবে।

তদন্তকারী আরও জানান, একই দিনে জিয়াউল ওই সার্জেন্টকে নির্দেশ দেন রোকেয়া প্রাচীর কাছ থেকে দুটি ডিস্ক সংগ্রহ করতে। নির্দেশ অনুযায়ী সার্জেন্ট প্রাচীর কাছ থেকে ডিস্ক দুটি সংগ্রহও করেন। তদন্তকারীর ভাষ্যমতে, জিয়াউল ও প্রাচীর মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ ছিল।

এই ডিস্ক দুটির সাথে হত্যাকাণ্ডের কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা এখন খতিয়ে দেখছেন তদন্তকারীরা।

হারিয়ে যাওয়া ল্যাপটপ, অক্ষত গয়না

তদন্তে আরও উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডের পর সাগর ও রুনির দুটি ল্যাপটপ এবং সাগরের মোবাইল ফোন উধাও হয়ে যায়। তবে রুনির মোবাইল ফোন এবং বাসায় থাকা প্রচুর পরিমাণ স্বর্ণালঙ্কার অক্ষত অবস্থাতেই পাওয়া যায়- যা অপরাধের ধরন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।

এদিকে আজ রোববার (৩০ আগস্ট) সংবাদ সম্মেলনে চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম নিশ্চিত করেন, একটি ভিন্ন মামলার সিডিআর পর্যালোচনার সময় তদন্তকারীরা এক ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সাথে সাগর-রুনি ঘটনার একটি সংযোগ খুঁজে পেয়েছেন।

তিনি বলেন, ‘সিডিআর পর্যালোচনা করতে গিয়ে আমরা একজন ‘সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বের’ সাথে সাগর-রুনি ঘটনার একটি সংযোগ পেয়েছি। প্রাপ্ত তথ্য আমাদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছে।’

আমিনুল ইসলাম আরও জানান, সাগর-রুনি হত্যা মামলাটি বর্তমানে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) তদন্ত করছে এবং ট্রাইব্যুনাল কর্তৃপক্ষ তাদের তদন্তে প্রাপ্ত নির্ভরযোগ্য তথ্য ও সহায়তা পিবিআইয়ের তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সরবরাহ করবে।

প্রসিকিউশন পক্ষ স্পষ্ট করে জানিয়েছে, সাগর-রুনি হত্যাকাণ্ড একটি ব্যক্তিগত হত্যা মামলা হওয়ায় এটি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত নয়। বরং প্রচলিত ফৌজদারি আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট দায়রা আদালতেই এর বিচার হবে।

উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসা থেকে মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সরওয়ার এবং তার স্ত্রী এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনির লাশ উদ্ধার করা হয়। এই ঘটনায় রুনির ভাই নওশের আলম রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় আটজনকে আসামি করে হত্যা মামলা দায়ের করেন।

মামলাটি প্রথমে তদন্ত করে ঢাকা মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা বিভাগ, পরে দায়িত্ব দেওয়া হয় র‍্যাবকে। বর্তমানে একটি উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স এবং পিবিআই যৌথভাবে মামলাটি নিয়ে কাজ করছে।

১৪ বছরেরও বেশি সময় পার হলেও তদন্তকারীরা এখনো চূড়ান্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দিতে পারেননি। গত ২৭ আগস্ট আদালত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য নতুন তারিখ ধার্য করে সময় বাড়িয়েছে- যা নিয়ে মোট ১২৯ বারের মতো সময় বৃদ্ধি করা হলো।

সূত্র: ডেইলি ওয়াদা