...|...|...

বিশ্ব

জিন্নাহ চরিত্রে অভিনয়ের সময় যে দৃশ্যে কেঁদে ফেলেছিলেন হলিউড তারকা

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, বিকেল ৩:১৮
Shares
জিন্নাহ চরিত্রে অভিনয়ের সময় যে দৃশ্যে কেঁদে ফেলেছিলেন হলিউড তারকা

ছবি: সংগৃহীত

পাকিস্তানের প্রতিষ্ঠাতা মোহাম্মদ আলী জিন্নাহর চরিত্রে অভিনয় করতে গিয়ে আবেগ ধরে রাখতে পারেননি হলিউড অভিনেতা ক্রিস্টোফার লি। ১৯৯৮ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ব্রিটিশ-পাকিস্তানি চলচ্চিত্র ‘জিন্নাহ’এ জিন্নাহর ভূমিকায় অভিনয় করেছিলেন তিনি। দেশভাগের সময় শরণার্থীদের দুর্দশার একটি দৃশ্যের শুটিংয়ের সময় বাস্তব আবেগেই তার চোখে পানি চলে আসে।

চলচ্চিত্রটির শেষভাগের একটি দৃশ্যে দেখানো হয়, দেশভাগের পর ভয়াবহ সহিংসতার শিকার শরণার্থীদের অবস্থা। সেখানে জিন্নাহ এমন এক শিশুর মুখোমুখি হন, যে তার মাকে হারিয়েছে। শিশুটির অসহায়ত্ব দেখে জিন্নাহ চরিত্রে থাকা ক্রিস্টোফার লি আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন। পরে জানা যায়, ক্যামেরার সামনে দেখা সেই অশ্রু অভিনয়ের অংশ ছিল না; চরিত্রের বেদনা অনুভব করেই তিনি সত্যিকারের কেঁদে ফেলেছিলেন।

এই ছবিতে অভিনয়ের আগে ক্রিস্টোফার লি জিন্নাহ সম্পর্কে ব্যাপক পড়াশোনা করেন। তিনি জিন্নাহর পুরোনো ভিডিও, বক্তৃতা ও রেকর্ডিং দেখে তাঁর হাঁটার ধরন, কথা বলার ভঙ্গি, হাতের অঙ্গভঙ্গি এমনকি কণ্ঠস্বরের বৈশিষ্ট্যও অনুশীলন করেছিলেন।

শুটিংয়ের আগে তিনি পাকিস্তানের করাচিতে গিয়ে দীর্ঘ সময় অবস্থান করেন। জিন্নাহর জীবনের গুরুত্বপূর্ণ স্থানগুলো ঘুরে দেখেন এবং তাঁর সমাধিসৌধেও যান। লির মতে, সেখানেই তিনি চরিত্রটির দায়িত্ব আরও গভীরভাবে অনুভব করেন।

ছবিটির পরিচালক ছিলেন জামিল দেহলভি। এতে জিন্নাহর রাজনৈতিক জীবন, পাকিস্তান প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং দেশভাগের সময়কার ঘটনাগুলো তুলে ধরা হয়। ছবিতে শশী কাপুর, জেমস ফক্স, শিরিন শাহসহ আরও অনেক অভিনেতা অভিনয় করেন।

তবে ক্রিস্টোফার লিকে জিন্নাহ চরিত্রে নেওয়া নিয়েও সে সময় বিতর্ক হয়েছিল। কারণ তিনি এর আগে ড্রাকুলাসহ অনেক নেতিবাচক চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সমালোচকদের জবাবে লি বলেছিলেন, একজন অভিনেতার কাজ হলো বিভিন্ন ধরনের চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলা; আগের চরিত্র দিয়ে নতুন ভূমিকাকে বিচার করা ঠিক নয়।

ক্রিস্টোফার লি পরে তাঁর আত্মজীবনীতে ‘জিন্নাহ’ ছবিকে নিজের ক্যারিয়ারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে উল্লেখ করেন। জিন্নাহ চরিত্রে তাঁর অভিনয় আজও তাঁর অভিনয়জীবনের অন্যতম স্মরণীয় অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয়।