সিরাজগঞ্জের ঐতিহ্যবাহী জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেছেন সিরাজগঞ্জ চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির প্রেসিডেন্ট ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান বাচ্চু।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকালে এক প্রতিক্রিয়ায় তিনি এ কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, দীর্ঘদিন বন্ধ থাকা জাতীয় জুট মিলস পুনরায় চালু হলে শুধু সরাসরি বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থানই সৃষ্টি হবে না; এর পাশাপাশি পরিবহন, ব্যবসা-বাণিজ্য, সরবরাহব্যবস্থা ও বিভিন্ন সহায়ক খাতে কর্মসংস্থানের নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে। এর ফলে সিরাজগঞ্জের সামগ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে গতি সঞ্চার এবং স্থানীয় অর্থনীতিতে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি জাতীয় জুট মিলস পুনরায় চালুর উদ্যোগ গ্রহণের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, সিরাজগঞ্জের কৃতী সন্তান বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রী ইকবাল হোসেন মাহমুদ টুকুসহ সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান। একইসাথে দ্রুততম সময়ে এ উদ্যোগ বাস্তবায়নের প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর ঐতিহ্যবাহী এ শিল্পপ্রতিষ্ঠানটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ সিরাজগঞ্জবাসীর মধ্যে নতুন করে আশাবাদ সৃষ্টি করেছে। মিলটি উৎপাদনে ফিরলে শুধু শিল্পাঞ্চলে কর্মচাঞ্চল্যই ফিরবে না, বরং স্থানীয় বাজার, পরিবহন খাত ও ক্ষুদ্র-বৃহৎ ব্যবসায়ও এর বহুমাত্রিক ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
সাইদুর রহমান বাচ্চু বলেন, জাতীয় জুট মিলস সিরাজগঞ্জের কাছে নিছক একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠান নয়; এটি এ অঞ্চলের মানুষের আবেগ, ঐতিহ্য ও দীর্ঘদিনের কর্মসংস্থানের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। দীর্ঘ অচলাবস্থার পর মিলটি পুনরায় চালুর উদ্যোগ নিঃসন্দেহে সিরাজগঞ্জবাসীর জন্য আনন্দ, স্বস্তি ও গর্বের বিষয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ থাকা রাষ্ট্রায়ত্ত তিনটি পাটকল পুনরায় চালুর লক্ষ্যে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কাছে ইজারা দিয়েছে সরকার। এ বিষয়ে মঙ্গলবার বাংলাদেশ জুট মিলস করপোরেশনের (বিজেএমসি) সাথে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ ও হ্যামকো গ্রুপের চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেড ও খুলনার স্টার জুট মিলস লিমিটেড ইজারা পেয়েছে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। অন্যদিকে খুলনার প্লাটিনাম জুবিলী জুট মিলস লিমিটেড ইজারা পেয়েছে হ্যামকো গ্রুপ।
সংশ্লিষ্ট সূত্র আরও জানায়, সিরাজগঞ্জের জাতীয় জুট মিলস লিমিটেডে প্রায় ১৫৭ কোটি টাকা বিনিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে। মিলটি পুনরায় চালু হলে প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে প্রায় ৫ হাজার ২৩৮ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হতে পারে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানটির সম্ভাব্য বার্ষিক টার্নওভার প্রায় ৫০০ কোটি টাকা হতে পারে বলে জানা গেছে।
ফলে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা কাটিয়ে জাতীয় জুট মিলস পুনরায় উৎপাদনে ফিরলে সিরাজগঞ্জের শিল্প ও বাণিজ্যিক অঙ্গনে নতুন প্রাণসঞ্চারের পাশাপাশি জেলার অর্থনীতিতেও এর সুদূরপ্রসারী প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



