...|...|...

বিশ্ব

জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আলোচনায় থাকা কে এই আমিরাতের লানা নুসাইবেহ?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২১ অক্টোবর ২০২৬, রাত ৮:২৭
Shares
জাতিসংঘের মহাসচিব পদে আলোচনায় থাকা কে এই আমিরাতের লানা নুসাইবেহ?

লানা নুসাইবেহ। ছবি: সংগৃহীত

বর্তমান মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মেয়াদ চলতি বছরের শেষ দিকে শেষ হতে যাওয়ার প্রেক্ষাপটে জাতিসংঘের পরবর্তী মহাসচিব পদের দৌড়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের জ্যেষ্ঠ কূটনীতিক লানা নুসাইবেহর নাম জোরালোভাবে আলোচিত হচ্ছে। 

বুধবার (২১ অক্টোবর) ব্রিটিশ দৈনিক ‘ফিন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতিসংঘের পরবর্তী প্রধান নির্বাচন প্রক্রিয়া নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশগুলোর মধ্যে মতপার্থক্য থাকায় এই পদের প্রতিযোগিতা দিন দিন বেশ জটিল হয়ে উঠছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলোর বরাতে জানা গেছে, লানা নুসাইবেহর সমর্থকরা ইতোমধ্যে জাতিসংঘে নিযুক্ত বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিদের সাথে যোগাযোগ শুরু করেছেন এবং তার সম্ভাব্য প্রার্থিতার পক্ষে সমর্থন অর্জনের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।

বর্তমানে লানা সংযুক্ত আরব আমিরাতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত তিনি জাতিসংঘে আমিরাতের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে অত্যন্ত দক্ষতার সাথে দায়িত্ব পালন করেছিলেন।

অন্যান্য শীর্ষ প্রার্থীরা ও নিরাপত্তা পরিষদের সমীকরণ

জাতিসংঘের মহাসচিব পদের আনুষ্ঠানিক দৌড়ে এখন পর্যন্ত এগিয়ে রয়েছেন কোস্টারিকার সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট এবং জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়নবিষয়ক সংস্থা-এর প্রধান রেবেকা গ্রিনস্প্যান। নিরাপত্তা পরিষদের সাম্প্রতিক অনানুষ্ঠানিক ভোটাভুটিতে তিনি নয়টি হ্যাঁ-ভোট পেয়েছেন। তবে ভেটো ক্ষমতাধর স্থায়ী দুটি দেশ তার প্রার্থিতার বিরোধিতা করেছে। এছাড়া এই লড়াইয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা আন্তর্জাতিক পরমাণুশক্তি সংস্থা-এর প্রধান রাফায়েল গ্রোসিও দুটি দেশের বিরোধিতার মুখে পড়েছেন।

আঞ্চলিক রাজনীতি ও অন্যান্য চ্যালেঞ্জ

লানা নুসাইবেহর সম্ভাব্য প্রার্থিতাকে কেন্দ্র করে মধ্যপ্রাচ্যের আঞ্চলিক রাজনীতিও বেশ গুরুত্ব পাচ্ছে। বিশেষ করে সুদানের গৃহযুদ্ধে আধাসামরিক বাহিনী ‘র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেস’-কে আমিরাত সমর্থন জুগিয়েছে—এমন অভিযোগ তুলে দেশটিকে আন্তর্জাতিক মহলে সমালোচনার মুখে পড়তে হয়েছে। অবশ্য আবুধাবি এই সংঘাতে কোনো পক্ষকে অস্ত্র সরবরাহের অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে।

পাশাপাশি, আঞ্চলিক প্রভাব বিস্তার নিয়ে উপসাগরীয় দুই দেশ সংযুক্ত আরব আমিরাত ও সৌদি আরবের মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকায় রিয়াদ লানার প্রার্থিতাকে কীভাবে মূল্যায়ন করবে, তা নিয়েও কূটনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন রয়েছে।

আঞ্চলিক প্রতিনিধিত্ব ও লিঙ্গ সমতার সমীকরণ

জাতিসংঘের অভ্যন্তরীণ রীতি অনুযায়ী এবার লাতিন আমেরিকার মধ্য থেকে কোনো দেশকে মহাসচিব পদে দেখার একটি অনানুষ্ঠানিক প্রত্যাশা রয়েছে। এছাড়া দীর্ঘদিন ধরে পুরুষরা এই পদে দায়িত্ব পালন করায় এবার একজন নারীকে জাতিসংঘের শীর্ষ নীতিনির্ধারক হিসেবে দেখতে চাওয়ার জোরালো দাবিও রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, প্রার্থী নির্বাচনে কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চল বা লিঙ্গ পরিচয়ের চেয়ে যোগ্যতাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত।

সবমিলিয়ে জাতিসংঘের বর্তমান বাজেট সংকট, বিশ্বজুড়ে চলমান বিভিন্ন সংঘাত এবং সংস্থাটির সংস্কারের তীব্র চাপের মধ্যে নতুন মহাসচিবকে অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং এক দায়িত্ব গ্রহণ করতে হবে।