খুলনার রূপসায় ছেলেকে হত্যার ৫১ দিন পর আক্তার ঢালী (৬০) নামে এক ব্যক্তিকে গুলি করে হত্যা করেছে দুর্বৃত্তরা। সোমবার (৫ অক্টোবর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে উপজেলার দুর্জনীমহল শহীদের মোড় এলাকার ঢালী বাড়িতে এ ঘটনা ঘটে।
ঘটনার পরপরই এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। খবর পেয়ে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি পরিদর্শন করেন।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত ১৫ আগস্ট রাত সাড়ে ৯টার দিকে আক্তার ঢালীর ছেলে জয় ঢালীকে হত্যা করা হয়। ওই হত্যাকাণ্ডের ঘটনার রেশ কাটতে না কাটতেই এবার আক্তার ঢালী নিজেই গুলিতে নিহত হলেন। পরপর বাবা-ছেলের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় এলাকায় উদ্বেগ ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।
সোমবার সন্ধ্যায় আক্তার ঢালী বাড়িতে অবস্থান করছিলেন। এ সময় দুর্বৃত্তরা তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে পালিয়ে যায়। গুলিবিদ্ধ হয়ে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ঘটনাটি তদন্ত শুরু করেছে। হত্যাকাণ্ডের কারণ এবং কারা এর সাথে জড়িত, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একইসাথে নিহতের ছেলে হত্যার সাথে এ ঘটনার কোনো যোগসূত্র রয়েছে কি না, সেটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।
পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হত্যাকাণ্ডের কারণ বা জড়িতদের বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কিছু জানা যায়নি।
এ ঘটনায় এলাকায় নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। পরপর দুইটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
জানা যায়, গত ২১ সেপ্টেম্বর জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে রূপসা থানায় জিডি করেছিলেন আক্তার ঢালী। জিডিতে আক্তার ঢালী উল্লেখ করেছেন, গত ১৮ সেপ্টেম্বর রাত পৌনে ৯টার দিকে সেনরেবাজার এলাকায় মামলার আসামি মুনজিল শেখ, মুরাদ শেখ, মাসুদ মোল্যা ও রোপা মোল্যা আমাকে ডেকে নিয়ে যান। তখন মামলা তুলে নেওয়ার জন্য বিভিন্ন ধরনের হুমকি-ধমকি দেন তারা। এমনকি জীবনে মেরে ফেলার হুমকি দেন। এ অবস্থায় আমি ঘটনাস্থল ত্যাগ করে চলে আসি।
জিডিতে আক্তার ঢালী আরও লিখেছেন, এর আগে একই আসামিরা আমার ছেলে জয় ঢালীকে দুর্জনীমহলের শহীদের মোড়ে কুপিয়ে হত্যা করেছিল। ওই মামলার আসামিরা হাইকোর্ট থেকে জামিনে এলাকায় এসে মামলা তুলে নেওয়ার জন্য আমিসহ আমার পরিবারের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে। জানমালের ক্ষতি করবে বলে হুমকি দিতাছে। আসামিদের এমন সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে আমি ও আমার পরিবারবর্গ চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগতেছি বিধায় আসামিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণসহ আমার জীবনের নিরাপত্তার জন্য জিডি করছি।
রূপসা থানা পুলিশের রেকর্ড অনুযায়ী, জীবনের নিরাপত্তা চেয়ে আবেদনের দুদিন পর জিডিটি নথিভুক্ত করেছিল পুলিশ। রূপসা থানার জিডি নং-১৪১২ তাং-২৩/০৯/২৬।
রূপসা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুর রাজ্জাক মীর জানান, খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তবে কী কারণে এবং কারা এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে; তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। তদন্ত শেষে হত্যাকাণ্ডের কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।


