রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে (রাবি) শিক্ষার্থীর আবাসিক কক্ষে ভাঙচুর, দেশীয় অস্ত্র নিয়ে মহড়া এবং সংবাদ সংগ্রহের সময় সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডারস সোসাইটি (এইচআরডিএস)। এসব ঘটনার তীব্র নিন্দাও জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (৫ আগস্ট) সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক সিফাত উল্লাহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে রাজনৈতিক বক্তব্য ও পোস্টের মন্তব্যকে কেন্দ্র করে শহীদ জিয়াউর রহমান হল সংসদের সাধারণ সম্পাদক (জিএস) আরিফুল ইসলামের সাথে বিরোধের সূত্রপাত হয় বলে সংগঠনটি জানতে পেরেছে। এর জেরে ৪ অক্টোবর বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন মার্কেট এলাকায় হকি স্টিক ও লাঠিসোঁটা নিয়ে মহড়ার অভিযোগ ওঠে।
পরবর্তী সময়ে শহীদ জিয়াউর রহমান হলে গিয়ে আরিফুল ইসলামের আবাসিক কক্ষে ভাঙচুর এবং রামদাসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগও পাওয়া গেছে। এসব ঘটনার সাথে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগ উঠেছে বলে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ঘটনার ভিডিও ধারণের চেষ্টা করার সময় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির (রাবিসাস) সদস্য জাহিদ ইসলামের মাথায় আঘাত করা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। আহত জাহিদ বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। একই ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় রিপোর্টার্স ইউনিটির সভাপতি ও দ্য ডেইলি স্টারের বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি মৃদুল ইসলামকে গলাচেপে ধরে মারধরের অভিযোগও করা হয়েছে।
এইচআরডিএস বলছে, বিশ্ববিদ্যালয় হচ্ছে জ্ঞানচর্চা, মুক্তবুদ্ধির বিকাশ, মতপ্রকাশের স্বাধীনতা এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ চর্চার জায়গা। সেখানে রাজনৈতিক মতবিরোধকে কেন্দ্র করে সহিংসতা, আবাসিক কক্ষে হামলা বা ভাঙচুর এবং সাংবাদিকদের দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার ঘটনা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
সংগঠনটির মতে, রাজনৈতিক পরিচয়ের আড়ালে এসব অভিযোগ সত্য প্রমাণিত হলে তা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা, স্বাধীন সাংবাদিকতা এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক পরিবেশের জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।
বিবৃতিতে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে ছিল। পুলিশকে খবর দেওয়া হলেও তারা ঘটনাস্থলে এসে পরে চলে যায় বলে দাবি করা হয়েছে। এ কারণে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা নিয়েও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি।
ক্যাম্পাসে ভয়ভীতি ও সহিংসতার পরিবেশ বন্ধের আহ্বান জানিয়ে এইচআরডিএস বলেছে, রাজনৈতিক পরিচয় কোনোভাবেই আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া, সহিংসতায় জড়ানো কিংবা সাংবাদিকদের পেশাগত দায়িত্ব পালনে বাধা দেওয়ার বৈধতা দেয় না। ক্যাম্পাসে নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করার পাশাপাশি আইনের শাসন, মানবিক মর্যাদা ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা রক্ষায় কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।
এ ঘটনায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কাছে পাঁচ দফা দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। দাবিগুলো হলো-
১. ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ওঠা হামলা, ভাঙচুর ও অস্ত্র প্রদর্শনের অভিযোগ নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করে জড়িতদের শনাক্ত এবং আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।
২. সাংবাদিক জাহিদ ইসলাম ও মৃদুল ইসলামের ওপর হামলার অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।
৩. আহত সাংবাদিকদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ক্যাম্পাসে শিক্ষার্থী, সাংবাদিকসহ সব মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
৫. ঘটনার সময় বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা পর্যালোচনা করতে হবে এবং দায়িত্বে অবহেলার প্রমাণ পাওয়া গেলে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে।


