...|...|...

জাতীয়

শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:১৪
Shares
শিশুদের নিরাপদ শৈশব নিশ্চিত করা সরকারের অঙ্গীকার: প্রধানমন্ত্রী

ছবি: সংগৃহীত

দেশের প্রতিটি শিশুর জন্য নিরাপদ ও ঝুঁকিমুক্ত শৈশব নিশ্চিত করার পাশাপাশি নৈতিক, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক শিক্ষা, সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা, পর্যাপ্ত পুষ্টি এবং খেলাধুলা ও সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগ নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে দেওয়া এক বাণীতে তিনি এ কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী জানান, শিশুদের সার্বিক বিকাশের জন্য একটি নিরাপদ ও সহায়ক পরিবেশ গড়ে তোলা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান ১৯৭৬ সালে বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রতিষ্ঠা করেন। ২০২৬ সালের অক্টোবর মাসে প্রতিষ্ঠানটি ৫০ বছর পূর্ণ করেছে। এ উপলক্ষ্যে ৬ থেকে ৮ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী ও শিশু অধিকার দিবস উদযাপনের আয়োজন করা হয়েছে।

তিনি বলেন, একটি সুসংগঠিত ও সমৃদ্ধ সমাজ গড়ে তুলতে শিশুদের শারীরিক, মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তবে শিশুশ্রম, সামাজিক সহিংসতা, বাল্যবিয়ে ও বৈষম্যের মতো নানা সমস্যা এখনো শিশুদের স্বাভাবিক বেড়ে ওঠার পথে বাধা হয়ে রয়েছে। এসব সমস্যা দূর করতে পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রতিটি শিশুর মধ্যেই ভবিষ্যতের সম্ভাবনা লুকিয়ে আছে। আজকের শিশুদের কেউ আগামী দিনে পথপ্রদর্শক, শিক্ষক, বিজ্ঞানী, অভিভাবক কিংবা দেশের গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে। তাই তাদের যথাযথ যত্ন, ভালোবাসা ও শিক্ষার মাধ্যমে গড়ে তোলা সবার দায়িত্ব।

তারেক রহমান আরও বলেন, শিশুদের নিষ্পাপ হাসি নতুন বাংলাদেশের আশা ও সম্ভাবনার প্রতীক। তাদের সুপ্ত প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকশিত করার জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা নৈতিক, সামাজিক ও জাতীয় দায়িত্ব।

শিশুদের মেধা ও প্রতিভা বিকাশে বাংলাদেশ শিশু একাডেমির বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও বাণীতে তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি জানান, শিশুদের কল্যাণ ও সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় প্রতিষ্ঠিত প্রতিষ্ঠানটি ১৯৭৮ সাল থেকে ‘জাতীয় শিশু পুরস্কার’ প্রতিযোগিতার আয়োজন করে আসছে। এ ধরনের কার্যক্রম শিশুদের মেধা ও সৃজনশীলতা বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।

শিশুদের নিরাপদে বেড়ে ওঠা ও তাদের অধিকার সুরক্ষায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার বিভিন্ন উদ্যোগের কথাও উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, শিশুশ্রম নিরসনে ১৯৯৪ সালে আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (আইএলও) আইপিইসি প্রকল্পে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ এবং শিশুদের প্রাতিষ্ঠানিক সুরক্ষায় বেগম খালেদা জিয়ার ভূমিকা অনন্য।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিজ্ঞান, প্রযুক্তি, ক্রীড়া, শিল্প ও সাহিত্যসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে আজকের শিশুরাই ভবিষ্যতে বাংলাদেশকে বিশ্বদরবারে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাবে। শিশুদের প্রতিভা ও সৃজনশীলতা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করার মধ্য দিয়েই দেশের ভবিষ্যৎ শক্তিশালী করা সম্ভব।

বাংলাদেশ শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী উদযাপন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিশুদের সুপ্ত প্রতিভা বিকাশের অন্যতম প্রধান প্রতিষ্ঠান হিসেবে শিশু একাডেমি গত পাঁচ দশক ধরে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। এর সুবর্ণজয়ন্তী লাখো শিশুর সৃজনশীলতা, স্বপ্ন ও সম্ভাবনার উদযাপন।

প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, শিশু একাডেমির সুবর্ণজয়ন্তী নতুন স্বপ্ন ও মানবিক মূল্যবোধে শিশুদের উজ্জীবিত করবে এবং একটি নিরাপদ, সুন্দর ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গঠনের পথকে আরও এগিয়ে নেবে।

তিনি শিশু অধিকার দিবস উপলক্ষ্যে দেশের সব শিশু, অভিভাবক, শিক্ষক এবং শিশুকল্যাণে নিয়োজিত ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান। একই সাথে শিশু অধিকার দিবস ও বাংলাদেশ শিশু একাডেমির ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষ্যে আয়োজিত সব কর্মসূচির সাফল্য কামনা করেন।