সন্তান জন্মের সময় প্রতিটি পরিবারের প্রথম প্রত্যাশা-নিরাপদ প্রসব। মা ও নবজাতক সুস্থভাবে বাড়ি ফিরবে, এটাই স্বজনদের প্রত্যাশা। কিন্তু সেই প্রসবকে ঘিরে প্রয়োজনের তুলনায় বেশি সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের অভিযোগ উঠলে প্রশ্ন ওঠে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত, রোগীর অধিকার ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা নিয়ে।
কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে প্রসূতি চিকিৎসাকে ঘিরে সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনা এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালের ডেলিভারির পরিসংখ্যান নিয়ে এমনই প্রশ্ন সামনে এসেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, চৌদ্দগ্রাম বাজারকেন্দ্রিক কিছু বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে নরমাল ডেলিভারির তুলনায় সিজারের প্রবণতা বেশি।
অন্যদিকে, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির উল্লেখযোগ্য রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
ফলে প্রশ্ন উঠছে-সরকারি হাসপাতালে যেখানে বিপুলসংখ্যক প্রসূতির নরমাল ডেলিভারি হচ্ছে, সেখানে বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের সংখ্যা এত বেশি কেন?
এক মাসে সরকারি হাসপাতালে ১২৭ নরমাল, সিজার ৮
চৌদ্দগ্রাম প্রেসক্লাবের সেক্রেটারি বেলাল হোসাইনের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গড়ে মাসে ১০০টিরও বেশি নরমাল ডেলিভারি হয়।
তার দেওয়া এক মাসের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সংশ্লিষ্ট মাসে সরকারি হাসপাতালে ১২৭টি নরমাল ডেলিভারির বিপরীতে ৮টি সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে।
অন্যদিকে একই মাসে চৌদ্দগ্রামের বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে ৮৪টি নরমাল ডেলিভারির বিপরীতে প্রায় ৩০০টি সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
বেলাল হোসাইনের দাবি, সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে মানুষকে উৎসাহিত করতে তারা বিভিন্নভাবে প্রচারণা চালাচ্ছেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার বিষয়ে সচেতনতা তৈরির উদ্যোগ রয়েছে।
তার মতে, পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানো গেলে অপ্রয়োজনীয় সিজারের প্রবণতা কমানো সম্ভব।
তবে এসব পরিসংখ্যান সংশ্লিষ্ট হাসপাতালের রেজিস্টার ও স্বাস্থ্য বিভাগের নথি দিয়ে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরী বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে সপ্তাহের সাত দিন ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা চালু রয়েছে। অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের মাধ্যমে সেখানে নরমাল ডেলিভারির পাশাপাশি চিকিৎসাগত প্রয়োজন অনুযায়ী সিজারিয়ান ডেলিভারির সেবাও দেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি।
ডা. রশিদ আহমেদ চৌধুরীর দাবি, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নরমাল ডেলিভারির এমন একটি রেকর্ড হয়েছে, যা বাংলাদেশের টপ-৩ এর মধ্যে অবস্থান করেছে। তার এই দাবির সুনির্দিষ্ট সময়কাল, র্যাংকিংয়ের ভিত্তি ও সরকারি উৎস স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য কর্মকর্তা আরও বলেন, পরিবার ও সমাজে সচেতনতা বাড়ানো গেলে চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সিজারের প্রবণতা কমানো সম্ভব। সরকারি হাসপাতালের সেবা সম্পর্কে মানুষকে আরও সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
২৩ আগস্ট সিজার, ১৩ দিন পর আবার অপারেশন
প্রসূতি চিকিৎসা নিয়ে প্রশ্নের মধ্যে এসেছে উপজেলার মুন্সীরহাট ইউনিয়নের বৈলপুর গ্রামের ইকবাল হোসেন সবুজের স্ত্রী নার্গিস আক্তারের ঘটনা। পরিবারের দাবি, গত ২৩ আগস্ট সন্তানসম্ভবা নার্গিস আক্তার ডা. নাহিদা সুলতানার কাছে গেলে তাকে সিজারের মাধ্যমে সন্তান প্রসব করানোর পরামর্শ দেওয়া হয় এবং চৌদ্দগ্রাম বাজারের ফ্রেন্ডস হাসপাতালে ভর্তি হতে বলা হয়। ওই দিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে সিজারের মাধ্যমে কন্যাসন্তানের জন্ম দেন নার্গিস।
পরিবারের ভাষ্য, সিজারের পরদিন থেকেই তার পেটের ডান পাশে ব্যথা শুরু হয়। তিন দিন পর হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার সময়ও তিনি ব্যথার কথা জানান বলে দাবি স্বজনদের। হাসপাতাল থেকে বাড়িতে যাওয়ার পর ব্যথা আরও বেড়ে যায় এবং পেটের ডান পাশে ফোলাভাব দেখা দেয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
পরবর্তীতে ডা. নাহিদা সুলতানার কাছে গেলে বিভিন্ন সময়ে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, জরায়ু নড়ে যাওয়া এবং পেটের ভেতরে ইনফেকশনের কথা বলা হয়েছিল বলে দাবি করেন স্বজনরা। এরপর ৫ সেপ্টেম্বর নার্গিসের পেটে পুনরায় অস্ত্রোপচার করা হয়।
অনুমতি ছাড়া অপারেশনের অভিযোগ
নার্গিসের পরিবারের অভিযোগের সবচেয়ে গুরুতর অংশ হলো-দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের আগে তাদের যথাযথ অনুমতি নেওয়া হয়নি। নার্গিসের বড় বোনের দাবি, রিপোর্ট দেখার পর ডা. নাহিদা তাকে অপারেশন কক্ষে নিয়ে যান এবং পরিবারের অনুমতি ছাড়াই অস্ত্রোপচার করেন। পরিবারের দাবি, এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে চিকিৎসকের পক্ষ থেকে তাদের হুমকিও দেওয়া হয়।
নার্গিসের স্বামী ইকবাল হোসেন সবুজ বলেন, আল্ট্রাসনোগ্রাম করার পর ডা. নাহিদা তাকে অন্য একজন চিকিৎসকের কাছে পাঠান। সেখানে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজনের কথা বলা হয়। পরে তিনি অন্য চিকিৎসকদের সাথে কথা বলে বিষয়টি নিয়ে আরও নিশ্চিত হতে চাইলে জানতে পারেন তার স্ত্রীকে ইতোমধ্যে অপারেশন কক্ষে নেওয়া হয়েছে।
তবে ডা. নাহিদা সুলতানা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তার বক্তব্য, রোগীর পেটে ব্লাড ক্লট ছিল এবং অ্যান্টিবায়োটিক দিয়ে অবস্থার উন্নতি হচ্ছিল না। রোগীর স্বামীর সাথে কথা বলেই দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
ফলে প্রশ্ন থেকে যায়-দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের চিকিৎসাগত কারণ কী ছিল এবং অস্ত্রোপচারের আগে রোগীর স্বজনের সম্মতি যথাযথভাবে নেওয়া হয়েছিল কি না?
মীমের মৃত্যু, ডা. কুলসুমার বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ
চৌদ্দগ্রামের শ্রীপুর ইউনিয়নের বাগৈগ্রামের গৃহবধূ মীমের মৃত্যুকে ঘিরেও চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ উঠেছে ডা. কুলসুমা আক্তারের বিরুদ্ধে।
নিহতের স্বজন আবুল বাশার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেন, সিজারের পরদিন থেকেই মীমের পেট অস্বাভাবিকভাবে ফুলে যায় এবং বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা দেখা দেয়।
অবস্থার অবনতি হলে ডা. কুলসুমার সিদ্ধান্ত ও তত্ত্বাবধানে তাকে কুমিল্লা টাওয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয় বলে পরিবারের দাবি।
স্বজনদের ভাষ্য অনুযায়ী, সেখানে রাতের দিকে মীমের আবারও অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরিবারের প্রশ্ন-প্রথম অস্ত্রোপচারের পর কী ঘটেছিল এবং কেন দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হলো?
স্বজনদের দাবি, দ্বিতীয় অস্ত্রোপচারের পর কিছু রক্ত বা জমাট পদার্থ পরিষ্কার করা হয়েছে বলে জানানো হয়। কিন্তু এরপরও অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় কয়েক ঘণ্টার মধ্যে তাকে কুমিল্লা মুন হাসপাতালের আইসিইউতে নেওয়া হয়।
একদিন আইসিইউতে থাকার পর চিকিৎসকরা অবস্থার অবনতি জানিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে পরিবারের দাবি। পরে লাইফ সাপোর্টে রেখে ঢাকার উদ্দেশে নেওয়ার পথে মীমকে মৃত ঘোষণা করা হয়।
তবে মীমের মৃত্যুর জন্য চিকিৎসায় অবহেলা দায়ী ছিল কি না, তা এখনো অভিযোগের পর্যায়ে রয়েছে। এর সত্যতা নির্ধারণে চিকিৎসা নথি, অপারেশন নোট, পরীক্ষা-নিরীক্ষার রিপোর্ট এবং সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বক্তব্য প্রয়োজন।
ডা. কুলসুমার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগের দাবি
মীমের ঘটনা ছাড়াও ডা. কুলসুমা আক্তারের চিকিৎসা নিয়ে আরও কয়েকজন রোগী ও স্বজনের অভিযোগ রয়েছে বলে স্থানীয়ভাবে দাবি উঠেছে।
তবে এসব অভিযোগের বিস্তারিত তথ্য, চিকিৎসা নথি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা জরুরি।
একজন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে একাধিক অভিযোগ থাকলে সেগুলোকে সত্য হিসেবে ধরে নেওয়ার পরিবর্তে প্রতিটি অভিযোগ আলাদাভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
বক্তব্য নিতে একাধিকবার চেষ্টা
ডা. কুলসুমা আক্তারের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগের বিষয়ে তার বক্তব্য জানতে টাইমস টুডের কুমিল্লা জেলা প্রতিনিধি একাধিকবার তার মুঠোফোনে কল করেন।
তবে একাধিকবার চেষ্টা করেও তার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা যথাযথভাবে প্রতিবেদনে যুক্ত করা হবে।
অভিযোগ উঠলেও ব্যবস্থা কোথায়?
দুটি পরিবার।
দুটি গুরুতর অভিযোগ।
সিজারের পর জটিলতা।
দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের প্রশ্ন।
এক ঘটনায় প্রসূতির মৃত্যু।
এখন প্রশ্ন-অভিযোগগুলো তদন্ত করছে কে?
রোগীর চিকিৎসা নথি কি পরীক্ষা করা হয়েছে?
প্রথম অস্ত্রোপচারের পর কী ধরনের জটিলতা হয়েছিল?
দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচারের প্রকৃত চিকিৎসাগত কারণ কী ছিল?
রোগী বা স্বজনের সম্মতি নেওয়া হয়েছিল কি না?
অভিযোগ সত্য হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা কী?
আর অভিযোগ সত্য না হলে চিকিৎসকদের অবস্থান পরিষ্কার করার প্রক্রিয়াই বা কী?
চিকিৎসকের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠলেই তিনি দোষী-এমন নয়। আবার অভিযোগ উঠলে তদন্ত ছাড়া তা উপেক্ষা করাও উচিত নয়।
প্রয়োজন নিরপেক্ষ তদন্ত ও জবাবদিহি।
সিজারিয়ান অস্ত্রোপচার নিজেই কোনো অনিয়ম নয়। মা বা শিশুর জীবনঝুঁকি কিংবা চিকিৎসাগত প্রয়োজন থাকলে সিজার জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা হতে পারে।
কিন্তু চৌদ্দগ্রামে যে প্রশ্নটি উঠছে তা হলো-চিকিৎসাগত প্রয়োজনের বাইরে কোথাও সিজার করা হচ্ছে কি না।
বেসরকারি হাসপাতালে সিজারের সংখ্যা কেন এত বেশি-তার উত্তর পেতে প্রয়োজন হাসপাতালভিত্তিক তথ্য।
কতজন প্রসূতি ভর্তি হয়েছেন?
কতজনের নরমাল ডেলিভারি হয়েছে?
কতজনের সিজার হয়েছে?
প্রতিটি সিজারের চিকিৎসাগত কারণ কী?
সিজারের পর কতজন রোগী জটিলতায় পড়েছেন?
কতজনকে পুনরায় অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে?
এসব তথ্য প্রকাশ্যে এলে অভিযোগের প্রকৃত চিত্র অনেকটাই পরিষ্কার হবে।
প্রসূতি চিকিৎসা নিয়ে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে চৌদ্দগ্রাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আরিফ হোসাইনকে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ ধরনের বিষয় নিয়ে এখন পর্যন্ত থানায় কোনো অভিযোগ আসেনি।
তবে অভিযোগ থানায় না আসার বিষয়টি সামনে আসার পরও প্রশ্ন থেকে যায়-একাধিক রোগী ও স্বজনের অভিযোগ, একজন প্রসূতির মৃত্যুর অভিযোগ এবং চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ওঠা গুরুতর প্রশ্নের পরও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে বিষয়গুলো খতিয়ে দেখতে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে কি না?
চিকিৎসাসেবার মতো স্পর্শকাতর বিষয়ে অভিযোগের সত্যতা যাচাই, রোগীর চিকিৎসা নথি পর্যালোচনা এবং প্রয়োজন হলে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে তদন্তের উদ্যোগ নেওয়া হবে কি না-এখন সেটিই দেখার বিষয়।
সরকারি হাসপাতালে আস্থা রাখার আহ্বান
চৌদ্দগ্রাম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ২৪ ঘণ্টা প্রসূতি সেবা, অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্স এবং নরমাল ডেলিভারির উল্লেখযোগ্য রেকর্ড রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
নরমাল ডেলিভারির রেকর্ড বাংলাদেশের টপ-৩ এ থাকার দাবিও করেছেন তিনি।
এ অবস্থায় স্থানীয়দের প্রতি আহ্বান-শুধু বেসরকারি হাসপাতাল মানেই বেশি নিরাপদ, এমন ধারণা না করে সরকারি হাসপাতালের সুযোগ-সুবিধা সম্পর্কেও জানা প্রয়োজন।
তবে সরকারি হাসপাতালের ওপর মানুষের আস্থা বাড়াতে হলে শুধু প্রচারণা নয়, মানসম্মত সেবা, পর্যাপ্ত চিকিৎসক-নার্স, ওষুধ, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং জরুরি চিকিৎসা নিশ্চিত করাও জরুরি।
চৌদ্দগ্রামের প্রসূতি চিকিৎসা নিয়ে একাধিক অভিযোগ সামনে আসার পর এখন স্বাস্থ্য বিভাগ, প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।
কোনো চিকিৎসক বা হাসপাতালকে অভিযোগের ভিত্তিতে দোষী সাব্যস্ত করা নয়; বরং অভিযোগগুলো সত্য কি না, তা নিরপেক্ষভাবে যাচাই করাই এখন সবচেয়ে জরুরি।
অভিযোগ সত্য হলে ব্যবস্থা নেওয়া যেমন প্রয়োজন, তেমনি অভিযোগের ভিত্তি না থাকলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক ও প্রতিষ্ঠানের অবস্থানও পরিষ্কার হওয়া প্রয়োজন।
চৌদ্দগ্রামে সরকারি হাসপাতালে বিপুলসংখ্যক নরমাল ডেলিভারির তথ্য সামনে এসেছে। একই সময়ে বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে সিজারের আধিক্যের অভিযোগও উঠেছে।
তার সাথে যুক্ত হয়েছে ডা. নাহিদা সুলতানার বিরুদ্ধে দ্বিতীয়বার অস্ত্রোপচার ও অনুমতি ছাড়া অপারেশনের অভিযোগ এবং ডা. কুলসুমা আক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ ও মীমের মৃত্যুর ঘটনা।
এখন প্রশ্ন-
চিকিৎসাগত প্রয়োজন ছাড়া সিজার হচ্ছে কি না?
রোগীর স্বজনদের যথাযথ সম্মতি নেওয়া হচ্ছে কি না?
অভিযোগ উঠলে তদন্ত হচ্ছে কি না?
আর এত অভিযোগের পরও প্রশাসনিকভাবে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না নেওয়ার কারণ কী?
চৌদ্দগ্রামের মানুষ চান না অভিযোগের বিচার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে হোক। তারা চান নিরপেক্ষ তদন্ত, চিকিৎসা নথি যাচাই, রোগীর অধিকার নিশ্চিতকরণ এবং অভিযোগ সত্য হলে যথাযথ আইনগত ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা।
কারণ প্রসূতি চিকিৎসা কোনো সাধারণ বিষয় নয়-এখানে একজন মায়ের জীবন, একটি নবজাতকের ভবিষ্যৎ এবং একটি পরিবারের নিরাপত্তা জড়িয়ে থাকে।
চৌদ্দগ্রামে তাই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন-প্রয়োজনের সিজার আর বাণিজ্যিক উদ্দেশ্যে সিজারের পার্থক্য নির্ধারণ করবে কে, আর অভিযোগ উঠলে জবাবদিহি করবে কে?


