...|...|...

ক্যাম্পাস

চুয়েটে ব্যাংক ঘেরাও, আধা ঘণ্টায় ১,০৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ছাড়

ক্যাম্পাস প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৭ অক্টোবর ২০২৬, বিকেল ৫:২৬
Shares
চুয়েটে ব্যাংক ঘেরাও, আধা ঘণ্টায় ১,০৮৭ শিক্ষক-কর্মচারীর বেতন ছাড়

বুধবার সকালে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। ছবি: সংগৃহীত

চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (চুয়েট) ১ হাজার ৮৭ জন শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা স্থগিত করার নির্দেশ দিয়েছিলেন নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম। এর প্রতিবাদে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। আন্দোলন শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই বেতন-ভাতা ছাড় করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।

উপাচার্যের চিঠি

এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে সেপ্টেম্বরের বেতন-ভাতা স্থগিত রাখতে বলেন উপাচার্য। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, তার পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানো অননুমোদিত ও বেআইনি। তার দাবি, চুয়েট আইন ২০০৩-এর ১৩(৭) ধারা অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া কোনো আর্থিক লেনদেন বৈধ নয়।

চিঠিতে আরও বলা হয়, ব্যাংক অর্থ ছাড় করলে বেআইনি লেনদেনে সহায়তার দায়ে তাদেরও যৌথভাবে দায়ী করা হবে। পাশাপাশি অবাধ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথাও জানান তিনি।

আন্দোলনকারীদের অভিযোগ

চুয়েটের তথ্যমতে, বিশ্ববিদ্যালয়ে মোট ৩৬৭ জন শিক্ষক, ২০৮ জন কর্মকর্তা ও ৫১২ জন কর্মচারী রয়েছেন। আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, উপাচার্যবিরোধী চলমান আন্দোলনে সংহতি জানানোয় তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করতেই বেতন-ভাতা বন্ধের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তারা জানান, দুর্গাপূজার আগে এতে সনাতন ধর্মাবলম্বী শিক্ষক-কর্মকর্তা-কর্মচারীদের আর্থিক সংকটে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল।

চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, এর আগে কখনো তাদের বেতন বন্ধ হয়নি। আন্দোলনের মাধ্যমেই তারা ন্যায্য পাওনা আদায় করে নিয়েছেন।

‘উপাচার্যের স্বাক্ষর লাগে না’

উপাচার্যের যুক্তির বিপরীতে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম বলেন, প্রচলিত নিয়মে বেতন-বোনাস ছাড়ের জন্য উপাচার্যের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে অর্থ ছাড় হয়। সেপ্টেম্বরের বিলেও তারা স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছিলেন, কিন্তু উপাচার্যের চিঠির কারণে তা আটকে যায়।

তিনি জানান, বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা পরিস্থিতির মধ্যেও এর আগে কখনো বেতন-বোনাস বন্ধ হয়নি। এবারের ঘটনাকে তিনি অত্যন্ত নিন্দনীয় বলে মন্তব্য করেন।

ব্যাংক কর্তৃপক্ষ কী বলছে

সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক জানান, প্রতি মাসের মতো এবারও হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরসহ বেতনের শিট তারা গ্রহণ করেছিলেন। পরে উপাচার্যের চিঠিতে বেতন স্থগিত রাখতে বলা হয়। তবে বুধবার সকালে বেতন দিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সাধারণত প্রতি মাসের ৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যে বেতন পরিশোধ করা হয়। এবার নির্ধারিত সময়ে না পাওয়ায় বিপাকে পড়েছিলেন কর্মীরা। এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে উপাচার্যকে ফোন করা হলে তিনি রিসিভ করেননি।

১৬ দিন ধরে অচলাবস্থা

গত ২১ সেপ্টেম্বর অধ্যাপক ড. আবু সাদাত মুহাম্মদ সায়েমকে সরিয়ে চুয়েটের উপাচার্য হিসেবে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এর পর থেকেই শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের একাংশ নতুন উপাচার্যের বিরুদ্ধে আন্দোলনে নামেন। বুধবার পর্যন্ত টানা ১৬ দিন ধরে চলা এই আন্দোলনে ক্লাস-পরীক্ষাসহ সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থবির হয়ে আছে।