চট্টগ্রাম প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (চুয়েট) নতুন নিয়োগ পাওয়া উপাচার্য (ভিসি) অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের নির্দেশে স্থগিত করা হয়েছিল ১ হাজার ৮৭ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর সেপ্টেম্বর মাসের বেতন ও উৎসব ভাতা।
তবে বেতন-ভাতা ছাড়ের দাবিতে বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখা ঘেরাও করে বিক্ষোভ করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা। আন্দোলন শুরুর প্রায় আধা ঘণ্টার মধ্যেই বেতন-ভাতা ছাড় করে ব্যাংক কর্তৃপক্ষ।
এর আগে মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপককে চিঠি দিয়ে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতা স্থগিত রাখার নির্দেশ দেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম।
চুয়েট স্টাফ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মোহাম্মদ জামাল উদ্দিন বলেন, কোনো সময় আমাদের বেতন বন্ধ হয়নি। অথচ নতুন উপাচার্য বেতন বন্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিলেন। আমরা আন্দোলনের মাধ্যমে আমাদের ন্যায্য পাওনা আদায় করে নিয়েছি।
এদিকে উপাচার্যের পূর্বানুমোদন ছাড়া ব্যাংকে বেতনের বিল পাঠানোকে ‘অননুমোদিত ও বেআইনি’ উল্লেখ করে মঙ্গলবার দেওয়া চিঠিতে অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলম বলেন, ‘চুয়েট আইন ২০০৩-এর ধারা ১৩(৭) অনুযায়ী উপাচার্যের সুস্পষ্ট অনুমোদন ছাড়া যেকোনো আর্থিক লেনদেন আইনত অবৈধ। ব্যাংক বেতন-ভাতার অর্থ ছাড় করলে তাদেরও বেআইনি আর্থিক লেনদেনে সহায়তার জন্য যৌথভাবে দায়ী করা হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করেন তিনি। একইসাথে অবাধ্য কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার কথাও জানান উপাচার্য।
তবে উপাচার্যের এ বক্তব্যের বিষয়ে চুয়েট অফিসার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি প্রকৌশলী সৈয়দ মোহাম্মদ ইকরাম বলেন, প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী বেতন-বোনাস পরিশোধে উপাচার্যের স্বাক্ষরের প্রয়োজন হয় না। হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষরেই ব্যাংক থেকে বেতন-বোনাস ছাড় করা হয়। সে অনুযায়ী সেপ্টেম্বর মাসের বেতন-ভাতার বিলেও তারা স্বাক্ষর করে ব্যাংকে জমা দিয়েছেন। কিন্তু উপাচার্যের চিঠির কারণে তা স্থগিত রাখা হয়।
তিনি বলেন, বুধবার ব্যাংকের সামনে অবস্থানের পর বেতন-ভাতা ছাড় করা হয়েছে। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও কখনো বেতন-বোনাস বন্ধ হয়নি। এবারের ঘটনা খুবই ন্যাক্কারজনক।
সোনালী ব্যাংকের চুয়েট শাখার ব্যবস্থাপক জয়ন্ত ভৌমিক বলেন, প্রতি মাসের মতো গত মাসেও হিসাব নিয়ন্ত্রক ও উপহিসাব নিয়ন্ত্রকের স্বাক্ষর করা শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন-ভাতার শিট আমরা গ্রহণ করেছি। কিন্তু উপাচার্য চিঠি দিয়ে বেতন-ভাতা স্থগিত রাখতে বলেছেন। তবে বুধবার সকালে আমরা বেতন দিয়ে দিয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্র জানায়, সাধারণত প্রতি মাসের ৩০ বা ৩১ তারিখের মধ্যে চুয়েটে শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের বেতন পরিশোধ করা হয়। তবে সেপ্টেম্বর মাসের বেতন নির্ধারিত সময়ে না পাওয়ায় বিপাকে পড়েন তারা।
এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমের বক্তব্য জানতে ফোন করা হলে সেটি রিসিভ হয়নি।

