...|...|...

বিশ্ব

চীনের ঋণে শীর্ষে পাকিস্তান, বাংলাদেশ কত নম্বরে?

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ৮ নভেম্বর ২০২৬, সন্ধ্যা ৭:৪৭
Shares
চীনের ঋণে শীর্ষে পাকিস্তান, বাংলাদেশ কত নম্বরে?

ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বের বিভিন্ন দেশ অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড পরিচালনায় বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভর করে। এসব ঋণের অন্যতম বড় উৎস চীন। দেশটির কাছ থেকে সবচেয়ে বেশি ঋণ নেওয়া দেশগুলোর তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তান। আর এ তালিকায় বাংলাদেশের অবস্থান পঞ্চম।

বিশ্বব্যাংকের কাছে ঋণের তথ্য জমা দেওয়া দেশগুলোর মধ্যে চীনা ঋণদাতাদের কাছে সবচেয়ে বেশি ঋণগ্রস্ত ২০টি দেশের হিসাব বিশ্লেষণ করে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের শেষ নাগাদ পাকিস্তানের কাছে চীনা ঋণের পরিমাণ ছিল ২২ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা অ্যাঙ্গোলার ঋণ ১৪ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার। তৃতীয় স্থানে থাকা শ্রীলঙ্কার ঋণের পরিমাণ ৮ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।

গত ২২ অক্টোবর প্রকাশিত ভিজ্যুয়াল ক্যাপিটালিস্টের এক প্রতিবেদনে বিশ্বব্যাংকের তথ্যের ভিত্তিতে এসব পরিসংখ্যান তুলে ধরা হয়েছে।

তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে ইথিওপিয়া। দেশটির চীনের কাছে ঋণের পরিমাণ ৭ দশমিক ৪৪ বিলিয়ন ডলার। পঞ্চম স্থানে থাকা বাংলাদেশের ঋণ ৬ দশমিক ৬৩ বিলিয়ন ডলার।

তালিকায় আরও রয়েছে মিসর (৫ দশমিক ৯ বিলিয়ন ডলার), কেনিয়া (৫ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলার), জাম্বিয়া (৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার), নাইজেরিয়া (৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার) এবং লাওস (৫ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার)। এ ছাড়া আর্জেন্টিনা, সার্বিয়া ও বেলারুশের মতো দেশও রয়েছে শীর্ষ ২০ ঋণগ্রহীতার তালিকায়।

চীনের কাছ থেকে ঋণ নেওয়া শীর্ষ দেশগুলোর অধিকাংশই এশিয়া ও আফ্রিকার। এসব দেশে সড়ক, রেলপথ, বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ বিভিন্ন অবকাঠামো নির্মাণে চীনা অর্থায়ন ব্যবহৃত হয়েছে। পাকিস্তানের বিদ্যুৎ ও পরিবহন অবকাঠামো এবং পূর্ব আফ্রিকার বিভিন্ন রেল ও যোগাযোগ প্রকল্পে চীনের অর্থায়ন উল্লেখযোগ্য।

তবে চীনের ঋণদানের পরিধি এই দুই মহাদেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা এবং ইউরোপের সার্বিয়া ও বেলারুশও তালিকায় স্থান পেয়েছে।

এ পরিসংখ্যানে চীনা ঋণদাতাদের কাছে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর দীর্ঘমেয়াদি সরকারি এবং সরকারি গ্যারান্টিযুক্ত বৈদেশিক ঋণের বকেয়া অর্থ বিবেচনা করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারের সরাসরি নেওয়া ঋণের পাশাপাশি সরকারি নিশ্চয়তায় নেওয়া ঋণও এতে অন্তর্ভুক্ত।

তবে সরকারি নিশ্চয়তা ছাড়া বেসরকারি খাতে নেওয়া ঋণ এ হিসাবের বাইরে রাখা হয়েছে। ফলে তালিকাটি সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর চীনের কাছে থাকা সব ধরনের ঋণের পূর্ণাঙ্গ হিসাব নয়। একই সাথে এটি দেশগুলোর মোট বৈদেশিক ঋণের চিত্রও তুলে ধরে না।

চীনের কাছে কোনো দেশের ঋণের পরিমাণ বেশি হলেই দেশটি আর্থিক সংকটে রয়েছে, এমন সিদ্ধান্তে পৌঁছানোর সুযোগ নেই। একটি দেশের ঋণ পরিশোধের সক্ষমতা নির্ভর করে তার অর্থনীতির আকার, সরকারি রাজস্ব আয়, ঋণের সুদের হার এবং পরিশোধের সময়সীমার ওপর।

ফলে শুধু ঋণের মোট পরিমাণ দিয়ে কোনো দেশের আর্থিক ঝুঁকি নির্ধারণ করা যায় না। ঋণের বোঝা সামলাতে দেশটির সামগ্রিক অর্থনৈতিক সক্ষমতা ও রাজস্ব পরিস্থিতিও বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন।