...|...|...

সারাদেশ

চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রাজু, মৃত্যুর খবরে পরিবারের আহাজারি

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, রাত ২:১৮
Shares
চাকরির আশায় রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে রাজু, মৃত্যুর খবরে পরিবারের আহাজারি

ছবি: সংগৃহীত

রাশিয়ায় মেকানিক্যাল শ্রমিকের চাকরি করে পরিবারের সচ্ছলতা ফেরানোর স্বপ্ন নিয়ে দেশ ছেড়েছিলেন ফরিদপুরের নগরকান্দার রাজু মাতুব্বর (২৮)। তবে চাকরির পরিবর্তে তাকে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে তার পরিবার। এরই মধ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে তার মৃত্যুর খবর। তবে রাজু মারা গেছেন কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত হতে পারেনি পরিবার।

রাজু মাতুব্বর ফরিদপুরের নগরকান্দা উপজেলার মাঝিকান্দা গ্রামের নান্নু মাতুব্বরের ছেলে। গত ৮ মে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশে দেশ ছাড়েন। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে পরিবারে চলছে শোক ও উৎকণ্ঠা। আড়াই বছরের ছেলে ও এক বছরের মেয়েকে নিয়ে অনিশ্চয়তায় দিন কাটছে স্ত্রী শারমিন আক্তারের। ছেলের ছবি হাতে কান্নায় ভেঙে পড়ছেন বাবা নান্নু মাতুব্বর ও মা রাজিয়া বেগম।

পরিবারের অভিযোগ, প্রতিবেশী কফাইবালিয়া গ্রামের প্রিন্স মাতুব্বর ও তার ছোট ভাই রানার মাধ্যমে সাড়ে ১৪ লাখ টাকার বিনিময়ে রাজুকে রাশিয়ায় পাঠানোর চুক্তি হয়। এর মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা নগদ দেওয়া হয়। বাকি ১০ লাখ টাকা রাশিয়ায় পৌঁছানোর পর দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেখানে যাওয়ার পর প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী চাকরি পাননি রাজু। বরং তাকে ৩০ লাখ টাকার বিনিময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানো হয়েছে বলে দাবি পরিবারের। এ ঘটনায় প্রিন্স ও রানাকে দায়ী করছেন স্বজনেরা। তবে অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

রাজুর বাবা নান্নু মাতুব্বর বলেন, ভালো চাকরির আশায় ছেলেকে বিদেশে পাঠিয়েছিলেন তারা। কিন্তু সেখানে গিয়ে ছেলেকে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর খবর পান। এখন তার মৃত্যুর খবরও শুনছেন। ছেলের প্রকৃত অবস্থা জানতে চান তিনি। একইসাথে ঘটনার তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) ফেসবুকে রাতুল নামের এক যুবকের প্রকাশ করা একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ে। ওই ভিডিওতে রাজু মারা গেছেন বলে দাবি করেন রাতুল। ভিডিওটি বেশি বেশি শেয়ার করার আহ্বানও জানান তিনি।

রাজুর ছোট ভাই রাজন মাতুব্বর জানান, ভিডিওটি দেখার পর পরিবারের সদস্যরা রাতুলের সাথে যোগাযোগ করেন। তখন রাতুলও রাজুর মৃত্যুর কথা জানান। তবে কীভাবে, কখন বা কোথায় রাজুর মৃত্যু হয়েছে, সে বিষয়ে তারা কোনো নিশ্চিত তথ্য পাননি।

রাজুর স্ত্রী শারমিন আক্তার দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছেন। স্বামীর প্রকৃত অবস্থা জানতে চান তিনি। রাজুকে ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়ে এ ঘটনার বিচার দাবি করেছেন শারমিন।

এদিকে রাজুর পরিবারের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত প্রিন্স মাতুব্বরের ছোট ভাই রানা। তিনি বলেন, রাশিয়ায় যাওয়ার ঝুঁকি সম্পর্কে রাজুকে আগেই সতর্ক করা হয়েছিল। রাজু নিজেই রাশিয়ায় অবস্থানরত প্রিন্সের সাথে যোগাযোগ করে সেখানে যান। তাকে প্রতারণা করে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ সঠিক নয় বলেও দাবি করেন রানা।

অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রিন্স মাতুব্বরের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

নগরকান্দা সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মোহাম্মদ আল ফাহাদ জানান, বিদেশে চাকরির নামে প্রতারণার বিষয়ে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে। রাজুর ঘটনায় পরিবারের পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

রাজুর পরিবারের সদস্যরা সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন। পরিবার বলছেন, রাজু জীবিত থাকলে তাকে দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে হবে। আর মৃত্যুর খবর সত্য হলে তার মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে পাঠানোর অভিযোগ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে হবে।