...|...|...

সারাদেশ

মাওলানা সাঈদীর মামলার বাদীর লাশ দাফনে জামায়াতের বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার

পিরোজপুর প্রতিনিধি
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪২ | আপডেট: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, রাত ১০:৪৭
Shares
মাওলানা সাঈদীর মামলার বাদীর লাশ দাফনে জামায়াতের বাধা, গোপনে গার্ড অব অনার

মানিক পশারীর লাশ বহনকারী এম্বুলেন্স। ছবি: টাইমস টুডে

পিরোজপুরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী মুক্তিযোদ্ধা মানিক পশারীর লাশ দাফন নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়েছে। তার পরিবারের অভিযোগ, নিজ এলাকায় লাশ দাফন ও গার্ড অব অনার দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা দিয়েছেন জামায়াতের নেতারা। পরে মৃত্যুর প্রায় সাত ঘণ্টা পর বিকেল ৫টার দিকে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গোপনে তাকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ৮৭ বছর বয়সী মানিক পশারী মারা যান। দুপুর ১২টার দিকে তার লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদ চত্বরে আনা হলে গার্ড অব অনার দেওয়া ও স্থানীয়ভাবে দাফন নিয়ে বাধার মুখে পড়তে হয় বলে পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে।

মানিক পশারী পিরোজপুর সদর উপজেলার শংকরপাশা ইউনিয়নের চিতলিয়া গ্রামের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি জামায়াত নেতা মাওলানা দেলাওয়ার হোসাইন সাঈদীর বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলার বাদী ছিলেন।

পরিবারের সদস্যরা জানান, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর থেকে মানিক পশারী পলাতক ছিলেন। পরে তিনি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া এলাকায় মেয়ের জামাইয়ের কাছে আশ্রয় নেন। গত দুই মাস ধরে তিনি শারীরিক অসুস্থতায় ভুগছিলেন। শনিবার সকালে তার মৃত্যু হলে রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় গার্ড অব অনার দেওয়ার জন্য লাশ পিরোজপুর সদর উপজেলা পরিষদে আনা হয়। তবে সেখানে বাধা দেওয়া হলে পরে পুলিশ লাইনসের ভেতরে গার্ড অব অনার দিয়ে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

মানিক পশারীর মেয়ের জামাই ফারুক হোসেন জানান, সকাল ১০টায় তিনি মারা গেছেন দুপুর ১২.০০ টায় আমরা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইএন এর কাছে আসলে উনি আমাদের গার্ড অফ অনারের কথা বলে বিকেল ৫ টা পর্যন্ত দাঁড় করিয়ে রাখেন।

উনি একজন গেজেটেড মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন। একটি সাধারণ এম্বুলেন্সে কোন বরফ চা পাতা ছাড়া ৪ থেকে ৫ ঘন্টা পরে গোপনে কোনমতে গার্ড আপনার দেয়া হয়েছে। আমরা কিভাবে লাশ দাফন করবো তার কোন দায়িত্ব নেয়নি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও)। লাশ দাফন নিয়ে আমরা খুবই চিন্তিত।

এদিকে, পিরোজপুর জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি আব্দুর রাজ্জাক বলেন, মানিক পশারী একজন ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা তাকে কোনোভাবেই গার্ড ওনার দিতে দেয়া হবে না। পিরোজপুরের মাটিতে মানিক পশরীর লাশ দাফন দিতে দেয়া হবে না।

পিরোজপুর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. শরিফুল ইসলাম বলেন, মানিক পশারীকে গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে। এ বিষয়ে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

পিরোজপুর সদর উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. ইফতেখারুল ইসলাম শামীম বলেন, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় মানিক পশারীর লাশ গার্ড অব অনার দেওয়া হয়েছে।