...|...|...

বিশ্ব

৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রুশ ট্যাংকার

টাইমস টুুডে ডেস্ক
প্রকাশ: ২৪ অক্টোবর ২০২৬, দুপুর ১:১৯
Shares
৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পথে রুশ ট্যাংকার

ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্রের সাথে হওয়া নতুন জ্বালানি চুক্তির আওতায় রাশিয়া থেকে প্রায় ৪০ হাজার টন ডিজেল নিয়ে তিনটি ট্যাংকার যুক্তরাষ্ট্রের উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছে। ২০২৩ সালের পর এই প্রথম ওয়াশিংটনে রুশ ডিজেল সরবরাহ শুরু হলো। মার্কিন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির ঊর্ধ্বমুখী বাজার নিয়ন্ত্রণে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক নীতি পরিবর্তনের পর এই পদক্ষেপ নেওয়া হলো।

যুক্তরাষ্ট্রের সংবাদমাধ্যম ও বার্তা সংস্থা রয়টার্স ও এপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সাথে ফোনালাপের মাধ্যমে জ্বালানি আমদানির নতুন এই চুক্তি ঘোষণা করার ঠিক দুই সপ্তাহ পর রাশিয়ার প্রিমোরস্ক বন্দর থেকে জাহাজগুলো উত্তর আমেরিকার পথে ছেড়ে যায়। গত শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) রাশিয়ার উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক এই চালান যাত্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

নোভাক জানান, ‘রাশিয়ান ডিরেক্ট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ড (আরডিআইএফ)-এর উল্লেখযোগ্য সহযোগিতায় জ্বালানিবাহী প্রথম তিনটি ট্যাংকার ইতিমধ্যে আটলান্টিক মহাসাগরের পূর্ব উপকূলের দিকে রওনা হয়েছে।’ সামুদ্রিক গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান ‘কেপলার’-এর তথ্য অনুযায়ী, প্রথম ট্যাংকারটি নিউইয়র্কের উদ্দেশে যাওয়ার সংকেত দিয়েছে এবং আগামী ৭ নভেম্বর সেটি সেখানে পৌঁছানোর কথা রয়েছে। ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভও এই চালান নিশ্চিত করে জানিয়েছেন যে, আগামীতে এই নিয়মিত সরবরাহ অব্যাহত থাকবে।

চুক্তি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্ক ও ইউক্রেনের প্রতিক্রিয়া

মস্কোর সাথে ট্রাম্পের এই জ্বালানি চুক্তি আন্তর্জাতিক মহলে এবং খোদ মার্কিন রাজনীতিতে তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এই সিদ্ধান্তকে ‘শক্তিশালী অংশীদারদের দুর্বল সিদ্ধান্ত’ বলে কঠোর সমালোচনা করেছেন। পাশাপাশি, মার্কিন কংগ্রেসের ডেমোক্র্যাট ও রিপাবলিকান উভয় দলের শীর্ষ নেতাদের কাছ থেকেও সমালোচনার মুখে পড়েছেন ট্রাম্প। এমনকি তার বিরুদ্ধে মার্কিন আইন লঙ্ঘনের অভিযোগও উঠেছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তির মাধ্যমে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে এক বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। এর আগে গত মাসেই রাশিয়ার জ্বালানি খাতের ওপর চড়া শুল্ক আরোপসহ কঠোর নিষেধাজ্ঞা প্যাকেজে স্বাক্ষর করেছিলেন ট্রাম্প। তবে অভ্যন্তরীণ বাজারে জ্বালানি মূল্য নিয়ন্ত্রণে এখন সেই অবস্থান থেকে সরে এসে ক্রেমলিনের প্রতি নমনীয় নীতি গ্রহণ করেছেন তিনি। একইসাথে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট জেলেনস্কি যথেষ্ট আগ্রহী নন বলে অভিযোগ তুলে তার সাথেও ট্রাম্পের সম্পর্কের অবনতি ঘটছে।

চালানের পরিমাণ ও সরবরাহ পরিকল্পনা

রাশিয়ার বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, উপপ্রধানমন্ত্রী আলেকজান্ডার নোভাক জানিয়েছেন যে প্রথম চালানে মোট ৪০ হাজার টন বা প্রায় ৩ লাখ ব্যারেল ডিজেল সরবরাহ করা হচ্ছে। মার্কিন অর্থনীতিতে প্রতিদিন প্রায় ৪০ লাখ ব্যারেল ডিজেলের চাহিদা রয়েছে। সেই হিসেবে রাশিয়ার পাঠানো এই প্রথম চালানটি যুক্তরাষ্ট্রের একদিনের মোট চাহিদার প্রায় ৭ শতাংশ মেটাতে সক্ষম হবে।

এর আগে ট্রাম্প ঘোষণা দিয়েছিলেন যে, চুক্তি অনুযায়ী রাশিয়া অবিলম্বে যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ টনের বেশি ডিজেল সরবরাহ করবে। এরপর নভেম্বরে আরও ৫ লাখ টন এবং পরবর্তী সময়ে ১০ লাখ টন ডিজেল পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া কেবল অক্টোবর মাসেই রাশিয়ার বিভিন্ন কোম্পানি যুক্তরাষ্ট্রকে প্রায় ৫ লাখ টন ডিজেল সরবরাহ করতে পারে বলে আভাস দেওয়া হয়েছিল।